বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
৭ কার্তিক ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
২২ জুন ২০২৫, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

অব্যবস্থাপনায় ঐতিহ্য হারাচ্ছে বাণিজ্যিক উপশহর কপিলমুনি

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা উপজেলার প্রাণকেন্দ্র কপিলমুনি বাজার— দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই বাজার আজ অব্যবস্থাপনা, দখলদারিত্ব ও অবহেলার নিদর্শনে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর এই বাজার থেকে সরকার প্রায় অর্ধকোটি টাকা রাজস্ব আদায় করলেও বাজারের উন্নয়নে নেওয়া হয় না কোনো পদক্ষেপ।

বাংলা ১৩৩৯ সালে রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধুর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত কপিলমুনি বাজার একসময় এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, এখানকার পণ্যের মূল্য বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচার হতো। লাখো মানুষের বাণিজ্যিক নির্ভরতা ছিল এই মোকামকে কেন্দ্র করে। সময়ের পরিক্রমায় এ উপশহরকে পৌরসভায় রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

প্রায় দুই যুগ আগে খুলনা ও সাতক্ষীরার মানুষের যাতায়াত সহজ করতে কপোতাক্ষ নদের ওপর একটি সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও শেষ হয়নি তার নির্মাণ কাজ। পড়ে আছে কেবল ১৮টি পিলার—যা এখন কপিলমুনির উন্নয়ন না, বরং প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যর্থ প্রতিশ্রুতির।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতি বিজড়িত কপোতাক্ষ নদের তীরে গড়ে ওঠা কপিলমুনি বাজার এখন অচিন্তনীয় অব্যবস্থাপনার শিকার। অপরিকল্পিত দোকান, দখলদারদের দৌরাত্ম্য, ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধে বাজারে চলাচল কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে বাজারের গলি কাদামাটিতে ভরে ওঠে, যেন ধান রোপণের ক্ষেত।

সরেজমিনে দেখা যায়, একসময়ের বৃহৎ মোকাম কপিলমুনি বাজার এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। টিনের ছাউনি দেয়া প্রাচীন চাঁদনীগুলো আজ অবৈধ ব্যবসায়ীদের কবলে।

এই বাজারের গোড়াপত্তন হয়েছিল এক ঐতিহ্যবাহী গল্প ঘিরে। ঋষি কপিলের তপস্যাস্থল হিসেবে পরিচিত স্থান ‘কপিল’ থেকে নাম হয় ‘কপিলমুনি’। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বার্ষিক মহাবারুণী স্নান উৎসব এখানেই পালিত হয়, যা যুক্ত করে এক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব। এই বাজারের আধুনিক রূপকার ছিলেন রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু, যার অক্লান্ত পরিশ্রমে জন্ম নেয় ‘বিনোদগঞ্জ’ নামক বর্তমান কপিলমুনি বাজার।

দীর্ঘদিন অভিভাবকহীন এই বাজারে ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নেই শৃঙ্খলা, নেই কোন নির্দিষ্ট বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি। অথচ প্রতিবছর মোটা অংকের রাজস্ব আদায় করে স্থানীয় প্রশাসন।

স্থানীয় প্রবীণরা জানান, কপিলমুনি শুধু একটি ইউনিয়ন নয়—এটি একটি সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। শিক্ষা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, খেলাধুলা, সংস্কৃতিসহ সবকিছুতেই কপিলমুনির স্বকীয়তা ছিল।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী দাবি, অবিলম্বে কপিলমুনি বাজারকে পরিকল্পিত পৌরসভায় উন্নীত করে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হোক। একইসাথে কপোতাক্ষ নদের সেতু নির্মাণ, বাজার উন্নয়ন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করাসহ অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আশাশুনিতে মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নিপীড়ন, প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার

১

ভাটায় কাজে যাওয়ার শর্তে দাদন নিয়ে পালিয়েছে ছেলে, সর্দার তুলে নিয়ে গেল মাকে

২

খুলনায় নারীকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা

৩

সুন্দরবনে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিলের দাবি

৪

১১৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরি, ওয়ানডেতে বিশ্ব রেকর্ড ব্রুকের

৫

বঙ্গোপসাগরে ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আশঙ্কা, দেশজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা

৬

প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে ঢাকায় ফেরানো হলো জাপানের রাষ্ট্রদূতকে

৭

তালা থানার নতুন ওসি আব্দুল আলিম

৮

মুন্সীগঞ্জ বাজারে জামায়াত নেতার গণসংযোগ

৯

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সংগঠন দরদির নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি নয়ন পাল, সম্পাদক রাকিব

১০

মোংলা বন্দর পরিদর্শন করে যেসব নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

১১

সুন্দরবনের গোলখালী থেকে হরিণের পা মাথা চামড়া ও মাংস উদ্ধার

১২

হরিনগর অনির্বান ক্লাবের উদ্যোগে ১৬ দলীয় কেরাম প্রতিযোগিতা উদ্বোধন

১৩

তালা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মন্তব্যের প্রতিবাদে সভা

১৪

কয়রা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না থাকার অভিযোগ, শিশুর মৃত্যু

১৫

পাটকেলঘাটায় ৮শ লিটার নারকেল তেল জব্দ, যাচাই হচ্ছে ভেজাল কি না

১৬

কয়রায় সরকারি জমি নিয়ে সংঘর্ষ, চিকিৎসাধীন পল্লী চিকিৎসকের মৃত্যু

১৭

বন্ধ হচ্ছে টুজি, চাপে বাটন ফোন

১৮

কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে গোসলে নেমে তিন পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২

১৯

কালিগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

২০