বাংলাদেশ, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২০ ভাদ্র ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
২২ জুন ২০২৫, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

অব্যবস্থাপনায় ঐতিহ্য হারাচ্ছে বাণিজ্যিক উপশহর কপিলমুনি

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছা উপজেলার প্রাণকেন্দ্র কপিলমুনি বাজার— দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই বাজার আজ অব্যবস্থাপনা, দখলদারিত্ব ও অবহেলার নিদর্শনে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর এই বাজার থেকে সরকার প্রায় অর্ধকোটি টাকা রাজস্ব আদায় করলেও বাজারের উন্নয়নে নেওয়া হয় না কোনো পদক্ষেপ।

বাংলা ১৩৩৯ সালে রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধুর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত কপিলমুনি বাজার একসময় এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, এখানকার পণ্যের মূল্য বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচার হতো। লাখো মানুষের বাণিজ্যিক নির্ভরতা ছিল এই মোকামকে কেন্দ্র করে। সময়ের পরিক্রমায় এ উপশহরকে পৌরসভায় রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

প্রায় দুই যুগ আগে খুলনা ও সাতক্ষীরার মানুষের যাতায়াত সহজ করতে কপোতাক্ষ নদের ওপর একটি সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও শেষ হয়নি তার নির্মাণ কাজ। পড়ে আছে কেবল ১৮টি পিলার—যা এখন কপিলমুনির উন্নয়ন না, বরং প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যর্থ প্রতিশ্রুতির।

মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতি বিজড়িত কপোতাক্ষ নদের তীরে গড়ে ওঠা কপিলমুনি বাজার এখন অচিন্তনীয় অব্যবস্থাপনার শিকার। অপরিকল্পিত দোকান, দখলদারদের দৌরাত্ম্য, ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধে বাজারে চলাচল কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে বাজারের গলি কাদামাটিতে ভরে ওঠে, যেন ধান রোপণের ক্ষেত।

সরেজমিনে দেখা যায়, একসময়ের বৃহৎ মোকাম কপিলমুনি বাজার এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। টিনের ছাউনি দেয়া প্রাচীন চাঁদনীগুলো আজ অবৈধ ব্যবসায়ীদের কবলে।

এই বাজারের গোড়াপত্তন হয়েছিল এক ঐতিহ্যবাহী গল্প ঘিরে। ঋষি কপিলের তপস্যাস্থল হিসেবে পরিচিত স্থান ‘কপিল’ থেকে নাম হয় ‘কপিলমুনি’। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বার্ষিক মহাবারুণী স্নান উৎসব এখানেই পালিত হয়, যা যুক্ত করে এক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব। এই বাজারের আধুনিক রূপকার ছিলেন রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু, যার অক্লান্ত পরিশ্রমে জন্ম নেয় ‘বিনোদগঞ্জ’ নামক বর্তমান কপিলমুনি বাজার।

দীর্ঘদিন অভিভাবকহীন এই বাজারে ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নেই শৃঙ্খলা, নেই কোন নির্দিষ্ট বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি। অথচ প্রতিবছর মোটা অংকের রাজস্ব আদায় করে স্থানীয় প্রশাসন।

স্থানীয় প্রবীণরা জানান, কপিলমুনি শুধু একটি ইউনিয়ন নয়—এটি একটি সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। শিক্ষা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, খেলাধুলা, সংস্কৃতিসহ সবকিছুতেই কপিলমুনির স্বকীয়তা ছিল।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী দাবি, অবিলম্বে কপিলমুনি বাজারকে পরিকল্পিত পৌরসভায় উন্নীত করে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হোক। একইসাথে কপোতাক্ষ নদের সেতু নির্মাণ, বাজার উন্নয়ন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করাসহ অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা বাতিল করল মালয়েশিয়া

কালিগঞ্জে ক্ষেতের ফসলে চোরের হানা, নিয়ে গেল ২৮টি ওল

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত বৃদ্ধার মৃত্যু

হজ পালনে পায়ে হেঁটে মক্কার পথে নাটোরের দুলাল এখন বেনাপোলে

জন্মাষ্টমীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

শ্যামনগরে কৃতি শিক্ষার্থীদের ছাত্রশিবিরের সংবর্ধনা

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতায় ২য় স্থান অর্জন করেছে পাতাখালির নাভিদ

হাঁটু পানিতে ডুবে আছে গ্রাম!

রাজ্যেশ্বরের জামিন নামঞ্জুর

হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর প্রাণহানি

১০

ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃ-ত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১২৫২

১১

কালিগঞ্জের গোবিন্দকাটিতে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা

১২

মহিলা পরিষদের উদ্যোগে সিডও দিবস পালিত

১৩

বাশদাহ ইউনিয়নে স্বদেশ’র কমিউনিটি লিগ্যাল ক্যাম্প

১৪

শ্যামনগরে নেতৃত্ব উন্নয়ন ও সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ

১৫

হ্যাটট্রিকসহ ৫ রানে ৭ উইকেট নিয়ে ইতিহাস গড়লেন লঙ্কান অধিনায়ক

১৬

নলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬৮ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

১৭

মেকআপ রুমে লিপস্টিক হাতে জয়া, মুগ্ধ নেটদুনিয়া

১৮

গাজী নজরুলের নাম দেখে স্পিকার বললেন ‘জিএম তো নাই’, সংসদে হাসির রোল

১৯

পাইকগাছায় প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত

২০
error: Content is protected !!