বাংলাদেশ, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
১৮ কার্তিক ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

সাতক্ষীরার আনোয়ার হোসেনকে ১ম ভাষা শহীদের স্বীকৃতির দাবিতে মানববন্ধন

 

ডেস্ক রিপোর্ট: শহীদ আনোয়ার হোসেনকে দেশের প্রথম ভাষা সৈনিক হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছে ‘সাতক্ষীরা জেলা আনোয়ার হোসেন স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটি’।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় জেলার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা বাজারে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

সাতক্ষীরা জেলা আনোয়ার হোসেন স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটি সভাপতি সচ্চিদানন্দ দে সদয়ের সভাপতিত্বে ও হাসান ইকবাল মামুনের সঞ্চালনায় মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সাংবাদিক ও নাগরিক নেতা কল্যাণ ব্যানার্জি, সাতক্ষীরা কোর্টের এপিপি অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম, আশাশুনি প্রেসক্লাবের সভাপতি এস কে হাসান, মো. আজারুল ইসলাম, আব্দুল কালাম, আরাফাত ইসলাম ডেনিস প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ভাষা শহীদ আনোয়ার হোসেন সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। ১৯৩০ সালে নানাবাড়ি বুধহাটা গ্রামে তাঁর জন্ম। তার বাবা কনুই গাজী ও মা পরীজান বিবি। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। শৈশবে বুধহাটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। পরে বুধহাটা বি.বি.এম কলেজিয়েট বিদ্যালয় হয়ে ভর্তি হন খুলনা জেলা স্কুলে। সেখান থেকে ১৯৪৬ সালে এসএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে খুলনার বিএল কলেজে অধ্যয়নকালে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।

বক্তাদের ভাষ্য, ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ খুলনার তৎকালীন গান্ধী পার্কে (বর্তমানে হাদিস পার্ক) ভাষা আন্দোলনের পক্ষে ইশতেহার পাঠ করার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। কয়েকদিন পর মুক্তি পেলেও ১৯৪৯ সালে ভাষা আন্দোলনের মিছিল থেকে আবারও গ্রেপ্তার হন তিনি। প্রথমে কোতোয়ালি থানায় এবং পরে রাজশাহী কারাগারে নেওয়া হয় তাঁকে। সেখানে পাকিস্তান সরকারের নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখেন তিনি। ১৯৫০ সালের ২৪ এপ্রিল রাজশাহী কারাগারের খাপড়া ওয়ার্ডে গুলিবর্ষণের ঘটনায় সাতজন কারাবন্দি নিহত হন। তাঁদের অন্যতম ছিলেন ছাত্রনেতা আনোয়ার হোসেন।

বক্তারা বলেন, মাতৃভাষা রক্ষার আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী আনোয়ার হোসেনকেই তাঁরা দেশের প্রথম ভাষা শহীদ হিসেবে মনে করেন। অথচ রাষ্ট্রীয়ভাবে এখনো তাঁর যথাযথ স্বীকৃতি মেলেনি।

মানববন্ধন থেকে অবিলম্বে তাঁকে দেশের প্রথম ভাষা সৈনিক হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

পাশাপাশি আশাশুনি সরকারি কলেজ তাঁর নামে নামকরণ, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তাঁর স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ এবং সাতক্ষীরা-আশাশুনি সড়ক তাঁর নামে নামকরণের দাবিও জানান বক্তারা।

বক্তারা বলেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নয়; দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা আত্মত্যাগের ঘটনাগুলোও সমান গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। আনোয়ার হোসেনের আত্মদানকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হলে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস আরও সমৃদ্ধ ও পূর্ণতা পাবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গার্মেন্টস শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে বোর্ড গঠন, গেজেট প্রকাশ

১

খুলনায় তাঁতী দলের নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

২

উপকূলের সংকট সমাধানে সর্বদলীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের আহ্বান

৩

সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন ৪৪ প্রার্থী

৪

বাংলা কিউআরে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেন শুরু

৫

৭ নভেম্বর জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশনা

৬

সুন্দরবনে দস্যুতা দমনের দাবিতে আন্দোলনে স্বামী-সন্তান, ঘরে নারীদের বুকজোড়া ভয়

৭

‎জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: প্রতিশ্রুতির আলোয় শঙ্কার ছায়া || ‎তারিক ইসলাম

৮

কালিগঞ্জে জাতীয় যুব দিবস উদ্‌যাপন

৯

উদ্যোক্তা হতে ২০ লাখ টাকা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, ৫৬ জেলায় আবেদন শুরু

১০

তালায় কিস্তি না দিয়ে এনজিও কর্মীকে মারধর

১১

এপিএল ড্রাফটে দুই ক্যাটাগরিতে ১০ বাংলাদেশি

১২

কালিগঞ্জে বাস টার্মিনাল পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন

১৩

ভারতের মণিপুরে ভয়াবহ সংঘাত, নিহত ৫

১৪

আশাশুনি থানাকে দালাল ও হয়রানিমুক্ত করার প্রত্যয় ওসি শাহিদুর রহমানের

১৫

২০০ কোটি আত্মসাতের মামলায় আদালতের সমন নোরা ফাতেহিকে

১৬

সুন্দরবন সেবা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প

১৭

সেরা ফুটবলার নির্বাচনে দুই মুসলিম খেলোয়াড়কে ভোট দিয়েছেন মেসি

১৮

পাইকগাছায় নানা আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত

১৯

ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু

২০