বাংলাদেশ, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১ আশ্বিন ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
২৩ জুন ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

আগাছা নয়, মহৌষধ ‘ফুটকি’ || তারিক ইসলাম

পথের ধারে, ক্ষেতের আইলে বা পরিত্যক্ত ভিটায় ছোটখাটো একঝাঁক সবুজ পাতার ঝোপঝাঁকড়ি আমাদের প্রায়ই চোখে পড়ে। একটু খেয়াল করলেই দেখা যায়, পাতার আড়ালে লুকিয়ে আছে ছোট ছোট কলসের মতো বা ফানুস আকৃতির কিছু ফল। গ্রামের দুরন্ত শৈশবে এই ফলটি কপালে ঠুকে ‘পট’ করে শব্দ ফুটিয়ে আনন্দ পায়নি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। গ্রামীণ মানুষের কাছে এটি ‘ফুটকি’, ‘বনপেটারি’ বা ‘ফোস্কা বেগুন’ নামে পরিচিত। তবে কেবলই শৈশবের খেলার অনুষঙ্গ নয়, এই অবহেলিত বুনো গাছটি আসলে এক লুকিয়ে থাকা ওষুধি ভাণ্ডার।

‎উদ্ভিদবিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম Physalis minima। এটি Solanaceae (বেগুন) পরিবারের একটি বর্ষজীবী বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ। ইংরেজিতে একে Native gooseberry, Wild cape gooseberry বা Pygmy groundcherry বলা হয়। গাছটি সাধারণত এক থেকে দেড় ফুট লম্বা হয় এবং এর কাণ্ড বেশ নরম ও শাখাপ্রশাখাযুক্ত। ফলগুলো যখন কাঁচা থাকে, তখন সবুজ রঙের একটি পাতলা আবরণে ঢাকা থাকে। পেকে গেলে ভেতরের ফলটি টকটকে হলুদ বা হালকা কমলা রঙ ধারণ করে। পাকা ফলটি খেতে বেশ মিষ্টি এবং সামান্য টক-মিষ্টি স্বাদের।

আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের চারপাশে অবহেলায় বেড়ে ওঠা এই বনপেটারি গাছটি নানা গুণে গুণান্বিত:

‎ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট: ফুটকি ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ এবং ‘এ’ রয়েছে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দারুণ কার্যকর।

‎ব্যথানাশক ও প্রদাহরোধী: ঐতিহ্যগত চিকিৎসায় এই গাছের পাতার রস কৃমিনাশক হিসেবে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশের ফোলা বা ব্যথা কমাতে ব্যবহার করা হয়।

‎চোখের যত্ন ও লিভারের সুরক্ষা: এর পাকা ফল নিয়মিত খেলে দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকে। এছাড়া লিভার বা যকৃতের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও এর ভূমিকা রয়েছে।

‎ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এর পাতার নির্যাস রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।

‎আজকের দিনে আমরা যখন সামান্য সর্দি-কাশিতেও কৃত্রিম অ্যান্টিবায়োটিক বা ট্যাবলেটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি, তখন প্রকৃতির এই অমূল্য উপহারগুলো আমাদের হাতের কাছেই রয়ে গেছে অনুদ্ঘাটিত। অথচ অপরিকল্পিত নগরায়ণ, আগাছানাশক ওষুধের দেদারসে ব্যবহার এবং অজ্ঞতার কারণে আমাদের চারপাশ থেকে দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে ফুটকি বা বনপেটারির মতো বহু উপকারী বুনো উদ্ভিদ।

‎প্রকৃতির এই রূপালী সম্পদগুলোকে শুধু ‘আগাছা’ ভেবে উপড়ে ফেলার মানসিকতা আমাদের বদলাতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থেই ঘরের কোণের এই ওষুধি উদ্ভিদগুলোকে চেনা এবং সংরক্ষণ করা আজ সময়ের দাবি।

‎‎তারিক ইসলাম, সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরান যুদ্ধের লাগাম টানতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস

হাম উপসর্গে ৮ জনের মৃত্যু, নতুন রোগী ১৩২০

মেট্রোরেলের দুই প্রকল্পে ব্যয় বাড়ল ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা

ডেঙ্গুতে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি নতুন রোগী ১৭৫৩

৩ মেট্রোরেলসহ একনেকে ১২ প্রকল্প অনুমোদন

শ্যামনগরে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় কর্মশালা

তালায় ভেজাল সার-কীটনাশক মজুদ, ব্যবসায়ীর জেল-জরিমানা

মেডিকেল-ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষা হতে পারে ৪ ডিসেম্বর

সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা বাড়তি বোনাস নিয়েছেন ১১৬ কোটি টাকা, ফেরত দেওয়ার নির্দেশ

ভুটান ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের সাফ মিশন শুরু, পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ

১০

একাদশে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ আজ, দেখবেন যেভাবে

১১

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশেষ সংবাদ সম্মেলন আজ

১২

এশিয়ান গেমস উপলক্ষে জাপান গেলেন সেনাপ্রধান

১৩

ঘরের মাঠে আর্জেন্টিনার জার্সিতে আরও একবার মাঠে নামছেন মেসি

১৪

ব্লিস হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, ধোয়ার কুণ্ডলীতে রোগী-স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক

১৫

পদদলিত করতে ডাকসুর প্রবেশপথ ও সংগ্রহশালার মেঝেতে জিন্নাহ-গোলাম আযমের ছবি

১৬

অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও গুজব ছড়ানো পেজ বন্ধে বিটিআরসিকে হাইকোর্টের নির্দেশ

১৭

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩১৬

১৮

শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদে উন্মুক্ত বাজেট আলোচনা

১৯

ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ জন

২০
error: Content is protected !!