
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান সীমিত করতে আবারও প্রস্তাব পাস করেছে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ২২০-২০৪ ভোটে পাস হওয়া এই ‘ওয়ার পাওয়ার্স’ প্রস্তাবের পক্ষে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সাতজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও ভোট দেন।
এ নিয়ে তৃতীয়বার প্রতিনিধি পরিষদ ইরান যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগ নিল। প্রস্তাবটির লক্ষ্য হলো কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ করা।
তবে প্রস্তাব পাস হওয়া মানেই যুদ্ধ বন্ধ নয়। আগের দুই দফার মতো এটিও এখনো প্রেসিডেন্টের টেবিলে পৌঁছায়নি।
শেষ পর্যন্ত সেখানে পৌঁছালে ট্রাম্প ভেটো দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এবার সাত রিপাবলিকান প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন।
এর মধ্যে আইওয়ার জ্যাকারি নান বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালাতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। তিনি ‘অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধের’ পক্ষে নন বলেও জানান।
অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারম্যান ব্রায়ান মাস্ট বলেন, ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা কমানো ঠিক হবে না।
যুক্তরাষ্ট্র ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। প্রায় সাত মাস ধরে চলা এই সংঘাত এখন দেশটির মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারেও বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।
মার্কিন কংগ্রেসের নির্দলীয় বাজেট দপ্তর (কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস—সিবিও) জানিয়েছে, ১ আগস্ট পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের পেছনে প্রতিরক্ষা দপ্তরের খরচ হয়েছে প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার। যুদ্ধ চলতে থাকলে মাসে আরও ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে।
সিবিও-এর হিসাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় মূল্যস্ফীতির চাপও বেড়েছে। ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে মূল্যস্ফীতি আগের পূর্বাভাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি হতে পারে।
মন্তব্য করুন