বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
২২ জুলাই ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

‎’বহিপীর’ থেকে সাতক্ষীরা-৪: ধর্ম, ক্ষমতা ও নারী শোষণের সমীকরণ || ‎তারিক ইসলাম

‎বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী নাট্যকার সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘বহিপীর’ নাটকের কথা নিশ্চয়ই মনে আছে। সেখানে বয়োবৃদ্ধ ও প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা বহিপীর তার ক্ষমতার দাপট ও ধর্মের দোহাই দিয়ে অল্পবয়সী তরুণী তাহেরাকে জোরপূর্বক বিয়ে করতে চেয়েছিল। সমাজের অন্ধবিশ্বাস, ধর্মীয় অন্ধতা এবং পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতার দাপট ছিল সেই নাটকের মূল উপজীব্য। বহিপীর ভেবেছিল ধর্মের আবরণ আর সামাজিক প্রভাব দিয়ে একজন নারীর অনিচ্ছাকে গুঁড়িয়ে দেওয়া যায়।

‎ওয়ালীউল্লাহর সেই রূপক কাহিনী যে আজ একুশ শতকে এসে আমাদের বাস্তবতার আয়নায় এভাবে ফুটে উঠবে, তা হয়তো সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে ছিল। সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্যের নারীঘটিত কেলেংকারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও জনমনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার, নীতি নৈতিকতাহীনতা এবং নারীর প্রতি অসম্মানজনক আচরণের এই ঘটনা যেন ‘বহিপীর’-এর আধুনিক রূপায়ণ।

‎বহিপীর আর বর্তমানের ক্ষমতার রাজনীতি—দুয়ের মধ্যে দৃশ্যত সময়ের তফাত অনেক হলেও মূল জায়গায় কোনো তফাত নেই। বহিপীর ব্যবহার করেছিল ধর্মীয় প্রভাব ও অন্ধবিশ্বাসকে, আর আধুনিক যুগের প্রতিনিধিরা ব্যবহার করেন রাজনৈতিক ক্ষমতা ও সামাজিক আধিপত্যকে। দুই ক্ষেত্রেই অস্ত্র ভিন্ন, কিন্তু শিকার একই—নারী এবং পরিণতি একই—নৈতিকতার চরম অবক্ষয়।

‎একজন সংসদ সদস্য একটি সংসদীয় আসনের কোটি মানুষের অভিভাবকতুল্য। জনগণ তাকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠায় আইন প্রণয়ন, এলাকার উন্নয়ন এবং নৈতিক নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য। কিন্তু ক্ষমতার দাপটে যখন সেই পদের মর্যাদা ধুলোয় লুটিয়ে পড়ে এবং নারীঘটিত কেলেঙ্কারি লোকচক্ষুর সামনে আসে, তখন সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে—আমরা কি তবে এখনও সেই ‘বহিপীর’-এর যুগেই বাস করছি?

‎‎সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর নাটকে তাহেরা নামের সেই তরুণী অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেনি; সে পালিয়ে এসে নিজের অধিকারের জন্য প্রতিবাদ জানিয়েছিল। আজকের সমাজেও নারীরা আর নীরব দর্শক নয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কতদিন আর ক্ষমতার অপব্যবহারের কাছে নারী ও সমাজের নীতি-নৈতিকতা জিম্মি থাকবে?

‎বহিপীরের মতো মানসিকতা যখন কোনো জনপ্রতিনিধির পোশাকে আত্মপ্রকাশ করে, তখন তা কেবল একজন ব্যক্তির ব্যর্থতা থাকে না, তা পুরো রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার জন্য এক লজ্জাজনক সংকেত বহন করে। সময় এসেছে এই ‘আধুনিক বহিপীরদের’ বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার, যেন ক্ষমতার গরম আর অনৈতিকতা কোনো পদের আড়ালে ঢাকা না পড়তে পারে।

তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আশেক ই এলাহীর স্ত্রীর মৃত্যুতে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের শোক

বেনাপোলে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আমদানিকৃত ১২ কার্টন ইলিশ জব্দ

কেশবপুরে চেতনানাশক ছিটিয়ে টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি

ফারজানার বাড়িতে এমপি রবিউল বাশার

আশেক ই এলাহীর স্ত্রীর মৃত্যুতে সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির শোক

তালা প্রেসক্লাবের শোক

মাদকসেবী ও বখাটেদের আইনের আওতায় আনতে হবে: ডিসি কাউসার আজিজ

গাজী নজরুল কাণ্ডে বেকায়দায় জামায়াত

হোটেল রাজ পানসি ও সোনারগাঁওকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা

ঝাউডাঙ্গা কলেজে হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে সংবর্ধনা

১০

সম্পাদক পত্নীর মৃত্যুতে দৈনিক দক্ষিণের মশাল পরিবারের শোক

১১

প্রথমবার ভেনিস উৎসবে বাংলাদেশের সিনেমা

১২

শ্যামনগরে বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিক্ষার্থী আহত

১৩

সফর সংক্ষিপ্ত করে কাল দেশে ফিরছেন স্পিকার

১৪

হাম উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু

১৫

শিশু-কিশোরদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করল ফ্রান্স

১৬

পুলিশের ঊর্ধ্বতন ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর

১৭

শুক্রবার পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

১৮

নিউ ইয়র্কের রাস্তায় মেহজাবীন যেন নীল পরী!

১৯

প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানালেন মোদী

২০
error: Content is protected !!