
শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালীর সাহেবখালি সিদ্দিক গাজী মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টিতে ১২ শিক্ষক আছেন। রয়েছেন কর্মচারীও। এই বিদ্যালয়টি থেকে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন চারজন শিক্ষার্থী। কিন্তু কেউই পাস করতে পারেনি। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান ও শিক্ষার মান নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। যশোর বোর্ডের ফলাফলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাতক্ষীরার ৪টি বিদ্যালয়ের শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে শ্যামনগরের একটি বিদ্যালয় রয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সাহেবখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৩ সালে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। ২০২৪ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায়। এরপর এবারই প্রথম বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ১৭৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষক-শিক্ষিকা আছেন ১২ জন। আগামী বছর এসএসসি পরীক্ষায় ২২ জনের অংশের নেওয়ার কথা রয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফ বিল্লাহ বলেছেন, এ বছর আমাদের বিদ্যালয় থেকে নিয়মিত চারজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউ পাস করতে পারেনি। বিষয়টি আমাদের জন্য অবশ্যই হতাশাজনক এবং আত্মসমালোচনারও বিষয়। তবে ফলাফলের পেছনে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া, পারিবারিক আর্থিক সংকট ও পড়াশোনায় অনাগ্রহের মতো বিষয়ও রয়েছে।
তিনি জানিয়েছেন, ষষ্ঠ শ্রেণিতে এই ব্যাচে ৫১ জন শিক্ষার্থী ছিল। এসএসসি পরীক্ষায় এসে শিক্ষার্থী কমে দাঁড়ায় মাত্র চারজনে। তাদের মধ্যে একজন বিবাহিত এবং দুজন পরিবারের আর্থিক সংকটে বিভিন্ন কাজে যুক্ত। তারপরও আমরা তাদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখার চেষ্টা করেছি এবং ফরম পূরণ করিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছি।
প্রধান শিক্ষক আরও বলেছেন, বিদ্যালয়টি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা ছাড়াই দায়িত্ব পালন করছেন। তবে ফলাফল খারাপ হয়েছে- এ দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা খুঁজে বের করে আগামী বছর ফলাফল উন্নত করতে আমরা কাজ করতে চাই।
শ্যামনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ তেজারাত জানিয়েছেন, এ বছর শ্যামনগরে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ২ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাসের হার ৫৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫১ জন।
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, সাহেবখালী সিদ্দিক গাজী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে চারজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি। এটি বিদ্যালয়টির প্রথমবারের মতো এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১২ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। ১২ জন শিক্ষক থাকার পরও শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন