
জবি প্রতিনিধি: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের (২১তম আবর্তন) ২ হাজারের বেশি নিবন্ধিত শিক্ষার্থীকে বরণ করে নিয়েছে ছাত্রদল।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবন সংলগ্ন মাঠে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত এই নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন, এমপি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। নবীন শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে মেধা, দক্ষতা ও জ্ঞানকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।
বর্তমান বিশ্বে কারিগরি শিক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), রোবটিক্স, ন্যানোটেকনোলজি ও আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতার গুরুত্ব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর সংযোগ গড়ে তুলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও কর্মজীবনের প্রস্তুতি একই সঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানবসম্পদ। এই মেধাবী তরুণদের যথাযথ শিক্ষা ও দক্ষতায় গড়ে তুলতে পারলে তারা দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বৈশ্বিক পর্যায়েও নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরতে পারবে।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদেরই গড়ে তুলতে হবে। শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম, মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের উৎকৃষ্ট মানবসম্পদ হিসেবে প্রস্তুত করতে হবে। একই সঙ্গে খেলাধুলা, বিতর্ক, সংস্কৃতি ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের বহুমাত্রিক দক্ষতা বিকশিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল।
অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশ নবীন শিক্ষার্থীদের হাতেই গড়ে উঠবে। তাই তাদের দেশপ্রেম ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।
উপাচার্য আরও বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবহেলিত ও বঞ্চিত হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে বর্তমান সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, সততা, দেশপ্রেম, দূরদর্শিতা ও ব্যক্তিত্ব যেকোনো সংগঠনের জন্য গৌরব ও আদর্শের বিষয়। তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে জ্ঞান, দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যসচিব শামছুল আরেফিনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা ও উৎসাহ প্রদানের অংশ হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন