
বিনোদন ডেস্ক: প্রথম পরিচয়েই সাত ঘণ্টা একসঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন বলিউড অভিনেতা শাহিদ কাপুর ও মীরা রাজপুত। সেই প্রথম সাক্ষাতের নানা মজার স্মৃতি সম্প্রতি ভাগ করে নিয়েছেন তারকাদম্পতি।
এর মধ্যে রয়েছে শাহিদের একটি অদ্ভুত আবদার। প্রথমবার দেখা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মীরাকে নিজের জুতোর ছবি তুলতে বলেছিলেন অভিনেতা।
সেই জুতোর বিশেষত্ব ছিল, আলো পড়লে অন্ধকারের মধ্যে সেটি জ্বলে উঠতো।
সম্প্রতি ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কপিল শো’-তে অতিথি হিসেবে হাজির হয়ে এসব মজার অভিজ্ঞতার কথা জানান শাহিদ ও মীরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শাহিদের ভাই অভিনেতা ঈশান খট্টরও।
প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতি বলতে গিয়ে মীরা জানান, শাহিদ বেশ ভালো সঙ্গ দিয়েছিলেন।
তবে কয়েক ঘণ্টা কথা বলার পর অভিনেতার একটি আবদারে অবাক হয়ে যান তিনি। মীরার ভাষ্য, দুই-তিন ঘণ্টা পর শাহিদ তাকে ফোন বের করে নিজের জুতোর ছবি তুলতে বলেন। প্রথমবার দেখা হওয়ার দিন এমন আবদার শুনে বিষয়টি তার কাছে বেশ অদ্ভুত লেগেছিল। এরপর মীরাকে ফোনের আলো জ্বালতে বলেন শাহিদ।
অভিনেতা জানান, তার জুতোর ওপর আলো পড়লে অদ্ভুত একটি দৃশ্য তৈরি হতো। ছবির বাকি সবকিছু অন্ধকার হয়ে যেত, শুধু জুতোটিই দেখা যেতো।
প্রথম সাক্ষাতের সময় বয়সের পার্থক্য নিয়েও ভাবনায় ছিলেন শাহিদ। অভিনেতা বলেন, ‘প্রথমবার যখন দেখা হয়েছিল, মীরার বয়স ছিল ২০ বছর। আমার ৩৪। ভাবছিলাম, আমাদের দুজনের মনের মিল হবে তো? অথচ কথা বলতে বলতে সাত ঘণ্টা কেটে গিয়েছিল। আমরা কেউই বুঝতে পারিনি।’
মীরার বাবার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতিও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন শাহিদ। ‘উড়তা পাঞ্জাব’ সিনেমায় টমি সিং চরিত্রে অভিনয়ের সময় তার চুলের রং ছিল সবুজ। সেই অবস্থাতেই মীরার দিল্লির বাড়িতে গিয়েছিলেন তিনি। শাহিদ জানান, দরজা খুলেছিলেন মীরার বাবা। তার সবুজ চুল দেখে কিছুক্ষণের জন্য থমকে গিয়েছিলেন তিনি। শাহিদের ভাষায়, ‘ভাবছিলেন, মেয়েকে কি এই ছেলের হাতেই তুলে দিচ্ছেন! ওর মুখের অভিব্যক্তি আমি কোনো দিন ভুলবো না।’
বিয়ের পর ‘উড়তা পাঞ্জাব’ সিনেমাটি দেখে মীরাও বেশ চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। শাহিদের কথায়, সিনেমা শেষ হওয়ার পর মীরা সোফার অন্য প্রান্তে বসেছিলেন। চরিত্রটি দেখে তার মনে হয়েছিল, কাকে বিয়ে করলেন তিনি! তবে মজার বিষয় হলো, ‘কবীর সিং’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য শাহিদকে উৎসাহ দিয়েছিলেন মীরাই।
মীরা জানান, বিয়ের আগে শাহিদের ‘চুপ চুপ কে’, ‘জব উই মেট’ ও ‘হায়দর’ সিনেমাগুলো দেখেছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে বিয়ে করেন শাহিদ ও মীরা।

মন্তব্য করুন