
ডেস্ক রিপোর্ট: আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখার ব্যবস্থাপক শাহাদাৎ হোসেন ও সহকারী ব্যবস্থাপক এনায়েতুল্লার বিরুদ্ধে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
এঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ও আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়সহ সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল দপ্তরে প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ করেছেন।
সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোলের বাসিন্দা আসাদ ইকবাল খানের স্ত্রী ফারজানা নাসরিন গত ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে এই অভিযোগ করেন।
এতে বলা হয়, তার আপন ভাই কলারোয়া উপজেলার আলাইপুর গ্রামের বাসিন্দা কামরুল ইসলাম তার নিজ নামীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মেসার্স সিরাজুল ইসলাম ও মেসার্স রানী ব্রিকস এর নামে ২০১৬ সালে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখা থেকে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা লোন নেন। এরপর থেকে তারা নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করতেন। কিন্তু ২০১৯ সালের করোনাকালিন সময়সহ দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিপর্যস্ত হওয়ায় ব্যবসায় ক্ষতির মুখে পড়তে থাকেন। এক পর্যায়ে নানা প্রতিকূলতায় ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়।
নিয়মিত কিস্তি প্রদানে ব্যর্থ হলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রাহকের নামে মামলা দায়ের করেন।
এমামলা চলমান অবস্থায় লোনের বিপরীতে মডগেজে রাখা সম্পত্তি নিলামের জন্য আদালতের নির্দেশ না দিলেও আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখার ব্যবস্থাপক শাহাদাৎ হোসেন ও সহকারী ব্যবস্থাপক এনায়েতুল্লাহ চেষ্টা চালিয়ে যান। এমনকি লোন গ্রহণের সময় যে ভ্যালুয়েশন ছিল এখন উক্ত সম্পত্তির মুল্য ৩/৪ গুন বৃদ্ধি পেলেও ব্যাংকের টাকার পরিমানের চেয়ে কম মূল্যে নিলাম দেওয়ার শর্তে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সাথে যোগাযোগ করেন ও চুক্তিবদ্ধ হন।
এক্ষেত্রে ব্যাংকের ব্যবস্থাপক শাহাদাৎ হোসেন ও তার অপর সহযোগী এনায়েতুল্লাহ আল বারাকা শপিং সেন্টারের মালিক কামরুজ্জামান বুলুর সাথে কম মূল্যে টেন্ডারের মাধ্যমে পাইয়ে দেওয়ার জন্য ২০ লাখ টাকায় চুক্তিবদ্ধ হন।
পরবর্তীতে উক্ত জমির কিছু ঝামেলা বের হওয়ায় কামরুজ্জামান বুলু আর টেন্ডারে অংশ গ্রহণ করেননি। উক্ত টেন্ডারে কমপক্ষে ৩জন অংশ গ্রহণ করার নিয়ম থাকায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ একই ব্যক্তিকে ৩ নামে ৩টি সিডিউল ফেলার পরামর্শ দেন। এখানে অংশগ্রহণকারী ৩জনের মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতা কামরুজ্জামান বুলুর ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে টেন্ডার পাওয়ার কথা থাকলেও তিনি অংশগ্রহণ না করায় ঘুষ বাণিজ্যটি ভেস্তে যায়।
ফারজানা নাসরিনে অভিযোগে আরো জানা গেছে, শহরের আরেক ব্যবসায়ী সম্রাট এন্টারপ্রাইজ এর প্রতিনিধির নেওয়া লোনের ২২ কোটি টাকা সুদ মাফ করে দেওয়ার জন্য ব্যবস্থাপক ও সহকারী ব্যবস্থাপক ৫০ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়েছেন।
এছাড়াও মেসার্স নিজামউদ্দীন বিশ্বাস নামীয় প্রতিষ্ঠান এর সত্ত্বাধিকারীর নিকট থেকে লোনের বিপরীতে নিলাম না করানোর জন্য ২০ লাখ টাকা নেন এই দুই কর্মকর্তা।
অপর এক পত্রে জানাগেছে, লোন গ্রহীতা কামরুল ইসলাম গত ২৪ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক বরাবর আবেদন করে সুদ মওকুফ চেয়ে প্রকৃত লোন এক কোটি ৮৫ লাখ টাকা পরিশোধ করতে চান মর্মে আবেদন করেন।
যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিবেচনায় নিয়েছেন।
অপরদিকে লোন গ্রহীতা কামরুল ইসলামের মা আফরোজা বেগম ও বোন ফারজানা নাসরিন ৩১ অক্টোবর সাতক্ষীরা জেলা রেজিস্ট্রার বরাবর এক আবেদনে জানিয়েছেন যে, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখা থেকে তাদের নিকটজন কামরুল ইসলাম সম্পত্তি মডগেজ রেখে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা লোন গ্রহণ করেন। আদালতের নির্দেশনা না থাকলেও ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ও সহকারী ব্যবস্থাপক নিজেরা আর্থিক সুবিধা নিয়ে নিলাম দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং- ১১৭৬০/২৬ দাখিল করা হয়েছে। এছাড়াও সাতক্ষীরা যুগ্ম জেলা জজ আদালত-০১ এ দেওয়ানী মামলা নং ২৭২/২৬ চলমান রয়েছে। ফলে অত্র মামলার এখতিয়ার ভুক্ত সম্পত্তি রেজিস্ট্রি না করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবহিত করার আহবান জানানো হয়েছে।
এসব বিষয়ে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের সাতক্ষীরা শাখার ব্যবস্থাপক শাহাদাৎ হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সিরাজুল ইসলাম ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা লোন নিয়েছিলেন। এরপর ব্যাংকের শর্ত অনুযায়ী তিনি কিস্তি না দেওয়ায় ইতোমধ্যে আদালতে মামলা হয়েছে। যা চলমান। তিনি আরো বলেন, আদালত নিলাম ঘোষণা না করলে নিলাম দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। বর্তমানে লোন গ্রহীতার নামে সুদসহ সাড়ে ৩ কোটি টাকা পাওনা হতে পারে মন্তব্য করে তিনি কামরুজ্জামান বুলুর সাথে কোন যোগাযোগ করেননি বলেও জানান।

মন্তব্য করুন