
স্পোর্টস ডেস্ক: ফুটবল মাঠে লাল কার্ড দেখার ঘটনা নতুন নয়। তবে এক ম্যাচে ৫১টি লাল কার্ড! অবিশ্বাস্য মনে হলেও ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলে ঘটেছে এমনই এক ঘটনা।
উবেরলান্দিয়া ও মামোরের মধ্যকার মিনাস জেরাইস অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে ৪৩ জন খেলোয়াড় ও দুই দলের কোচিং স্টাফের আট সদস্যকে লাল কার্ড দেখিয়েছেন রেফারি। ফুটবলের ইতিহাসে এক ম্যাচে লাল কার্ড দেখানোর ক্ষেত্রে এটি বিশ্বরেকর্ড।
এর আগে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৩৬টি লাল কার্ড দেখানোর রেকর্ড ছিল। ২০১১ সালে আর্জেন্টিনার পঞ্চম বিভাগের ক্লাব আতলেতিকো ক্লায়পোলে ও ভিক্টোরিয়ানো আরেনাসের ম্যাচে এই ঘটনা ঘটেছিল।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচে সংঘর্ষের একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এমনকি স্টেডিয়ামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে সেখানে সামরিক পুলিশও ডাকা হয়।
রেফারির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয়ার্ধে মামোরের খেলোয়াড় দাভি প্রতিপক্ষের ডাগআউটের সামনে উদ্যাপনের সময় কটূক্তি করেন। তখন তার দল ৩-১ গোলে এগিয়ে ছিল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উবেরলান্দিয়ার গোলরক্ষক কোচ পাওলো সেরজিও দিয়াস দোস সান্তোস মাঠে ঢুকে দাভির মুখোমুখি হন। এরপরই দুই দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে ম্যাচে তিনজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেছিলেন। সংঘর্ষের পর বাকি ৪৮টি লাল কার্ড দেখানো হয়। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে প্রায় ৪০ মিনিট খেলা বন্ধ রাখতে হয়। পরে রেফারি ফার্নান্দো প্যাট্রিক দ্রোশিচ মোদেস্তো ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন।
সংঘর্ষে পার্কে দো সাবিয়া স্টেডিয়ামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পুলিশের প্রতিবেদনে ১৪টি দরজা ভাঙা, গোসলখানার বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত, জানালার কাচ ভাঙা এবং বেঞ্চ, টেবিল ও চেয়ার নষ্ট হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনার পর সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে আর মাঠে নামছে না উবেরলান্দিয়া। ক্লাবটি জানিয়েছে, লাল কার্ডের কারণে মামোরের হাতে এখন মাত্র সাতজন খেলোয়াড় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় লেগে ওয়াকওভার দিয়ে সেমিফাইনাল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
নিজেদের সিদ্ধান্তকে ‘ফেয়ার প্লের নিদর্শন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে উবেরলান্দিয়া। এর ফলে মামোরে সরাসরি ফাইনালে উঠে যাবে। অন্যদিকে, উবেরলান্দিয়া এখন তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেবে।

মন্তব্য করুন