বাংলাদেশ, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৮ আশ্বিন ১৪৩৩ | সময়:
admin
১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

রাখাইনে নতুন করে সংঘাত, পালিয়ে আসা বিজিপির সংখ্যা বাড়ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাতের জের ধরে গত তিন দিনে নতুন করে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ৮০জন সদস্য বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

বিজিবি জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল রাতে ৪৬ জন পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।
এর আগে দিনের বেলায় আসেন আরো ১৮ জন।

এর আগে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তিনশতাধিক বিজিপি সদস্য আশ্রয় নিয়েছিলেন বাংলাদেশে। একাধিক সীমান্ত চৌকি আরাকান আর্মির দখলে যাওয়ায় সেসময় তাদের পালাতে হয়েছিল।

গত দোসরা ফেব্রুয়ারি থেকে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের ওপারে আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ বা বিজিপি’র সংঘর্ষ শুরু হয়। সেসময় জান্তা বাহিনীর দখলে থাকা সীমান্ত চৌকিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয় বিদ্রোহীরা।

সীমান্ত চৌকিগুলোতে আরাকান আর্মির অভিযানের তীব্রতায় টিকতে না পেরে বাংলাদেশ পালিয়ে আসেন মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ বা বিজিপি-র সদস্যরা।

সংঘাতে মিয়ানমারের রাখাইনসহ অনেক এলাকায় জান্তা বাহিনীকে হটিয়ে বিদ্রোহী আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি ওই এলাকায় নতুন করে সংঘাত ও সংঘর্ষ বেড়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।

জান্তা সরকারের কাছ থেকে মংডু ও বুধিডং শহরে আধিপত্য কেড়ে নিতে গত দুই মাস ধরে লড়াই চালাচ্ছে আরাকান আর্মি।

ঘুমধুম থেকে কয়েকদিন ধরে দূরে সংঘর্ষের আওয়াজ পাচ্ছেন টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দারা। বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে খানিকটা দূরে অবস্থিত ওই শহরতলো থেকে মঙ্গলবারও গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে।

জান্তা বাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির যুদ্ধক্ষেত্র মূলত রাখাইন রাজ্যের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা। চিন ও রাখাইনের যে নয়টি শহর তারা দখলে নিয়েছে সেগুলোও সীমান্তের কাছাকাছি।

দূরত্বের হিসাব-নিকাশসহ বেশ কয়েকটি কারণে বিজিপি সদস্যরা বাংলাদেশে আসাটা অপেক্ষাকৃত নিরাপদ মনে করে বলে ধারণা করা হয়। হয়তো মিয়ানমারের অন্য শহরে ফেরত যাওয়ার রাস্তা তাদের নাই, গেলেও কোর্টমার্শালের (সামরিক আদালতে বিচার) ঝুঁকি থেকে যায়। আবার, তাদের মধ্যে আরাকান আর্মির হাতে পড়ার ভয়ও রয়েছে। সে কারণে বাংলাদেশে পালিয়ে চলে আসতে পারলে সে শঙ্কাগুলো থেকে রেহাই মেলে।

বাণিজ্যিক কারণে বাংলাদেশের কাছেও গুরুত্ব আছে মংডুর। এই পথে বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের সীমান্ত বাণিজ্য হয়ে থাকে। আগে বিশেষ ট্রানজিট পাসের মাধ্যমে টেকনাফ ও মংডুর লোকজনকে সীমান্ত পেরিয়ে দুইদেশে যাতায়াতের সুযোগ দেয়া হতো। ২০১৬ সালে মংডুর সীমান্ত চৌকিতে হামলার পর সে ট্রানজিট পাস বন্ধ করে দেয়া হয়।

আরাকান আর্মি শহরটি দখল করতে পারলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভূমি সীমান্ত এবং নাফ নদীতে জান্তা সরকারের আর কোনো অবস্থান থাকবে না। যেহেতু বুধিডং ও মংডুতে জান্তা বাহিনীর ঘাঁটি রয়েছে। ফলে ওই অঞ্চলের পতন হলে শত শত জান্তা সেনা ও বিজিপি সদস্য আবারো বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে পারে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ

পাইকগাছায় কৃষকদলের বিক্ষোভ মিছিল

কালিগঞ্জে যুবদলের আনন্দ মিছিল

চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন বাড়ি ভাঙচুর ও মারপিটের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

সাতক্ষীরায় এবি পার্টির কমিটি গঠন: আহ্বায়ক শাকিল, সদস্য সচিব শাহীন

সাতক্ষীরা জেলা শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের কমিটি গঠন: সভাপতি রাসেল, সম্পাদক গাজী বাবু

গাছের ডালে ঝুলছিল ১১ ফুটের অজগর, উদ্ধারের পর সুন্দরবনে অবমুক্ত

৬ লাখ মানুষের জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম চান সাতক্ষীরার যুবরা

দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে সাতক্ষীরায় স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ মিছিল

সাতক্ষীরায় মানবাধিকার সাংবাদিক নেটওয়ার্ক’র সভা

১০

দেবহাটায় যুবদলের আনন্দ মিছিল

১১

মুক্তিযোদ্ধার ভাড়া দেওয়া দোকানে আগুন, তিন দিনেও হয়নি মামলা

১২

জলবায়ু সপ্তাহ উপলক্ষে শ্যামনগরে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

১৩

শিশু হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন

১৪

শ্যামনগরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান নিয়ে দুই দিনের প্রশিক্ষণ

১৫

কালিগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচিতে দুইপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫

১৬

কয়রায় বিএনপির মিছিল-সমাবেশ

১৭

তালায় ২৯ জন উপকারভোগীর মাঝে ছাগল, ভেড়া ও ঘর বিতরণ

১৮

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃবিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন

১৯

নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে সার্ভিস প্রোভাইডারদের তালিকাভুক্তকরণ বিষয়ক মতবিনিময়

২০