বাংলাদেশ, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৮:২১ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

ভারত থেকে আরও বিদ্যুৎ কিনছে বাংলাদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট: ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির পরিমাণ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ। সেইসঙ্গে দেশের তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে।

গ্যাস সংকট ও কয়লাচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো মেরামত বা রক্ষণাবেক্ষণের কারণে এ পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে বলে খাত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকদের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স।

এ বার্তা সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ভারতের বিদ্যুৎ আসছে প্রধানত আদানি পাওয়ারের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে। এ বছরের জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি ৭০ শতাংশ বেড়েছে। ক্রমবর্ধমান চাহিদার বেশিরভাগ মেটানো হচ্ছে আদানির বিদ্যুৎ থেকে।

দেশে ২০২০ সাল পর্যন্ত এক দশকে বিদ্যুতের চাহিদার দুই-তৃতীয়াংশ মিটিয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাস। কিন্তু সেই গ্যাসের অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ ও খরচ বাঁচাতে বিদ্যুৎ আমদানি বৃদ্ধির পাশাপাশি কয়লাচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ সামিট পাওয়ারের পরিচালক আদিবা আজিজ খান রয়টার্সকে বলেন, এটি খরচ সাশ্রয়ের একটা বিষয়। গ্যাস দরকার সার শিল্পের জন্য, যেখানে জ্বালানি তেলসহ অন্য উৎস থেকে সস্তা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।

গ্যাস ও জ্বালানি তেল ব্যবহার করে সামিট পাওয়ার এক ডজন বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনা করছে।

এপেক সম্মেলনের সাইডলাইনে আদিবা আজিজ বলেছিলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। ভবিষ্যতে গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ‘নাও দেখা যেতে পারে’।

বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স লিখেছে, চাপজনিত কারিগরি ত্রুটির কারণে অনেক গ্যাস বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোদমে চলছে না। আর রক্ষণাবেক্ষণ বা মেরামতজনিত বন্ধ বা বিরতির কারণে কয়লাচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতেও উৎপাদন কমে গেছে।

নাম প্রকাশ না করে রয়টার্সকে ওই কর্মকর্তা বলেন, সরকারের হাতে খুব বেশি বিকল্প ছিল না। ‘ব্ল্যাকআউট’ বা বিদ্যুতবিভ্রাট ঠেকাতে সরকার আমদানির পথ বেছে নিয়েছে এবং আদানির কাছে পর্যাপ্ত বিদ্যুত ছিল।

এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে বিপিডিবি কর্তৃপক্ষ কোনো জবাব দেয়নি বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে আমদানি করা বিদ্যুতের পরিমাণ মোট চাহিদার ৯ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে। জ্বালানি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ১১ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২ দশমিক ৬ শতাংশ হয়েছে।

‘ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস’ এর বাংলাদেশভিত্তিক বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, মার্চ মাস থেকে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। সে কারণে মূলত সরকারকে আমদানি ও তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বাড়াতে হয়েছে।

অপরদিকে গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ৪৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ৪৩ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনও ৩০ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে ২৬ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে।

অ্যানালাইটিকস ফার্ম কেপলারের তথ্য বলছে, জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে বাংলাদেশে এলএনজি আমদানি ২৪ শতাংশ বেড়েছে। তবুও সরকারি তথ্য অনুযায়ী গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে ১ দশমিক ২ শতাংশ।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বরিশাল আদালত চত্বরে ককটেল সদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণ

বৃহস্পতিবারের মধ্যেই পদত্যাগ করছেন মির্জা ফখরুল

শ্যামনগরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

সাভারে জেএমবির আস্তানা!

নিঃস্বার্থ সমাজসেবায় উপকূল রাঙাচ্ছেন কামরুজ্জামান

৫ আগস্ট সাতক্ষীরা কারাগার ভে‌ঙে পালানো ২ আসামি গ্রেপ্তার

হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে নাগরিক উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সংবর্ধনা

বইয়ের বিকল্প কেবল বই || ‎তারিক ইসলাম

শেষ হলো ১০ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলা

সাতক্ষীরা সেতুবন্ধন গড়ি নেটওয়ার্কের ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা বিষয়ক রিফ্রেসার্স প্রশিক্ষণ

১০

শ্যামনগরে অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ, আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট

১১

পাইকগাছায় নজিরবিহীন লোডশেডিং, ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ মিলছে ৩–৪ ঘণ্টা

১২

থাইল্যান্ডে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত খায়রুল বাসার

১৩

সাতক্ষীরায় দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতার ১ম পর্বে ৮টি দলের জয়

১৪

তালার উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা, এক বছরের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা চালুর ঘোষণা হাবিবের

১৫

আশাশুনিতে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে অগ্রগতি সাধনে ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা

১৬

গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ: ইসি সচিব

১৭

ভোমরা স্থলবন্দরের যানজট নিরসনকল্পে যৌথ আলোচনা

১৮

বন্ধ ৩ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল চালু করতে চুক্তি, বিনিয়োগ ৬১৯ কোটি টাকা

১৯

সুন্দরবনে ১শ’ হরিণের শিকারের ফাঁদ উদ্ধার

২০
error: Content is protected !!