বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ২:১৭ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

শীতে ধান ও সবজিরও দরকার কাঁথা-কম্বল, বিশেষ খাবার!

তানজির কচি: সাতক্ষীরায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা। এতে বোরো বীজতলা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন চাষিরা। অনেক কৃষকেরই বীজতলার চারা হলুদ বা লালচে বর্ণ ধারণ করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তুজুলপুর গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম তার বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে চারাগুলো রক্ষার চেষ্টা করছেন।

কৃষক জাহাঙ্গীর আলমের এ সিদ্ধান্তকে উত্তম উল্লেখ করে সাতক্ষীরা হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক কৃষিবিদ আমজাদ হোসেন বলেন, তীব্র শীত পড়লে ধান ও সবজি ক্ষেতে নানা ধরনের শারীর বৃত্তীয়, রোগ ও উৎপাদনজনিত সমস্যা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেওয়াসহ আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

ধান ক্ষেতে শীতজনিত সমস্যা
প্রচণ্ড শীতে পুষ্টি শোষণ ক্ষমতা কমে চারা হলুদ/লালচে হয়ে যায়। শিকড়ের কার্যকারিতা কমে যাওয়ায় চারার বৃদ্ধি ধীর হয়। কুশি কম বের হয় বলে ফলন কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। রোগের আক্রমণ বৃদ্ধি পায়, এসময় ব্লাস্ট, শীথ ব্লাইট ইত্যাদি রোগ বেশি দেখা যায়। ফুল আসার সময় শীত পড়লে দানা শূন্য হয়।

পরিত্রাণের উপায়
বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। জমিতে ২-৩ ইঞ্চি পানি ধরে রাখতে হবে (পানি শীত প্রতিরোধ করে)। সুষম সার বিশেষ করে জিপসাম ও পটাশ দিতে হবে। ব্লাস্ট রোগে ট্রাইসাইক্লাজল জাতীয় ছত্রাকনাশক দিতে হবে। খুব সকালে ইউরিয়া না দিয়ে দুপুরের পর সার দিতে হবে।

সবজি ক্ষেতে শীতজনিত সমস্যা
শীতে গাছের বৃদ্ধি থেমে যায়। পাতা কুঁকড়ে যায়/হলুদ হয়ে যায়। ফুল ও ফল ঝরে পড়ে। রোগ বৃদ্ধি পায়- ড্যাম্পিংঅফ, পচনরোগ ইত্যাদি। ফ্রস্ট ইনজুরি হলে গাছ মারা যেতে পারে।

পরিত্রাণের উপায়
সন্ধ্যায় হালকা সেচ দেওয়া যেতে পারে (রাতে তাপমাত্রা স্থিতিশীল থাকে)। মালচিং (খড়, শুকনাপাতা, পলিথিন) ব্যবহার করা যেতে পারে। ফলিয়ারে স্প্রে করা যেতে পারে (১% ইউরিয়া + ১% এমওপি এবং বামিনোঅ্যাসিড/সি-উইডএক্সট্র্যাক্ট)। লোটানেল/পলিথিন কভার ব্যবহার করতে হবে। সকাল বেলা সেচ বা স্প্রে এড়িয়ে চলতে হবে।

জৈব ও টেকসই সমাধান
মাটিতে জৈব পদার্থ বৃদ্ধি করে তথা কম্পোস্ট, ভার্মিকম্পোস্ট ইত্যাদি ব্যবহার করে শীতজনিত সমস্যা প্রতিরোধ করা যেতে পারে। এতে মাটি উষ্ণ রাখে এবং শিকড় সক্রিয় রাখে। ট্রাইকো কম্পোস্ট ব্যবহার করলে রোগও কমে যায়। জৈব মাটিতে শীতের ক্ষতিতূলনামূলক কম হয়।

যা বলছে আহবাওয়া অধিদপ্তর
সাতক্ষীরায় চলতি মৌসুমে গত ১১ ডিসেম্বর সবচেয়ে কম তথা ১৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আর ২২ ডিসেম্বর সকালে ১৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। কিন্তু কুয়াশা ও সূর্যের দেখা না মেলায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন বলেন, পূর্বাভাস অনুযায়ী শীতের তীব্রতা ক্রমেই বাড়বে। কুয়াশা থাকবে এবং কুয়াশার পরিমাণ বাড়বে। এছাড়া বর্তমান পরিস্থিতি (সূর্যের দেখা না পাওয়া) আরও অন্তত দুইদিন থাকতে পারে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কালিগঞ্জে সুকান্ত জন্মশতবার্ষিকীতে কবি-সাহিত্যিকদের সম্মাননা

১

ভারত থেকে ট্রাভেল পারমিটে দেশে ফিরলেন দুই নারী

২

আশাশুনি উপজেলা জাসাস’র প্রতিবাদ মিছিল

৩

তালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুস্থ রোগীদের জন্য ডেঙ্গু টেস্ট কিট প্রদান করলো সমাজসেবা অফিস

৪

নির্বাচনে প্রার্থীর ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা প্রশ্নে রুল

৫

ডেঙ্গুতে ৮ জনের মৃত্যু, একদিনেই হাসপাতালে ভর্তি ২০৩৬

৬

সাইবার সুরক্ষা আইনে সাংবাদিক গ্রেপ্তারে আদালতের অনুমতির প্রস্তাব

৭

সাতক্ষীরায় তৃণমূল নারী সুরক্ষা ফোরামের সম্মেলন

৮

রিমান্ড শেষে কারাগারে এমপি গাজী নজরুল

৯

তালায় আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস পালিত

১০

দেশের ৪ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

১১

সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজের অঙ্গীকার ইইউ রাষ্ট্রদূতদের

১২

বাজেট সংকটে ৪ বছরেও শুরু হয়নি জবির প্রধান ফটক সংস্কার কাজ

১৩

মালয়েশিয়ার পর সিঙ্গাপুরের কাছেও হারল বাংলাদেশ

১৪

মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত তালিকা করে প্রতিবেদন তৈরির সুপারিশ

১৫

জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

১৬

সাতক্ষীরায় আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস পালিত

১৭

জামায়াতের কাছে ১০০ কোটি টাকা ভিক্ষা নিয়ে জাতীয় নির্বাচন করেছে এনসিপি: রাশেদ খাঁন

১৮

দেবহাটায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা

১৯

চৈতালী মুখার্জির কণ্ঠে কালজয়ী গানের মূর্ছনা, মুগ্ধ বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র

২০