
শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে নূরনগরের তানভীর কনভেনশন সেন্টারে ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানস্থলে এ ঘটনা ঘটে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল জলিল, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক এস এম ফজলুল হক, মাওলানা মইনুদ্দিন মাহমুদ, উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি সাঈদী হাসান বুলবুল এবং উপজেলা শুরা সদস্য মাওলানা আব্দুল মজিদ প্রমুখ।
এ সময় ইউনিয়ন ও উপজেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, যুব জামায়াত, শ্রমিক কল্যাণ বিভাগ এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুর রহমান নূরনগর ইউনিয়নের সম্ভাব্য ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা গোলাম মোস্তফার নাম ঘোষণা করেন। তবে নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের একটি অংশ সভাস্থল থেকে বেরিয়ে পড়েন। পরে সভাস্থলেই তারা প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করেন।
ঘটনাস্থলের কয়েকটি ভিডিওচিত্র এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ভিডিওগুলোতে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণার পর নেতাকর্মীদের একাংশকে প্রকাশ্যে আপত্তি জানাতে এবং ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। ভিডিওতে কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের বক্তব্যে দলীয় প্রার্থী নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং শেখ লিয়াকত হোসেন বাবুকে প্রার্থী করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
এছাড়া সভাস্থলের বাইরে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ও হট্টগোলের দৃশ্যও ভিডিওতে ধরা পড়েছে। সেখানে বিরোধিতাকারীরা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি শেখ লিয়াকত হোসেন বাবুকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দাবি জানান। তাদের ভাষ্য, স্থানীয় জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দীর্ঘদিনের তৃণমূল সম্পৃক্ততার কারণে শেখ লিয়াকত হোসেন বাবুকেই দলীয় প্রার্থী করা উচিত। অন্যথায় তারা আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ঘোষিত প্রার্থীকে সমর্থন করবেন না বলেও জানান।
এ সময় সভাস্থলে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। পরে দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুর রহমান বলেন, যারা আপত্তি জানিয়েছে তারা সাধারণ মানুষ, আমাদের দায়িত্বশীল কেউ না। আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পলিসি অনুযায়ী তাদের কাছ থেকে মতামত নিয়েছি। উপজেলা কর্মপরিষদের সকল নেতৃবৃন্দের ঐক্যমতের ভিত্তিতে ১, ২, ৩ সিরিয়াল করে সর্বোচ্চ মতামতের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। পরে উপজেলা আমীরসহ একটি বোর্ড স্বাক্ষরিত প্রতিবেদন জেলায় পাঠানো হয়। জেলা কর্মপরিষদ মূলত সিদ্ধান্ত নেয়। সেটির অনুমোদন হয় অঞ্চলে।
সেই অনুযায়ী আজ সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, সেখানে দায়িত্বশীল কেউ হট্টগোল করেননি। স্থানীয় কয়েকজন সাধারণ মানুষ তাদের মত প্রকাশ করে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে নূরনগর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি শেখ লিয়াকত হোসেন বাবুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি স্টেজে ছিলাম। বাইরে কী ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে আমি জানি না।
এদিকে, ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে মতপার্থক্যের বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসায় রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
মন্তব্য করুন