
স্পোর্টস ডেস্ক: বারামুলার শীড়ি গ্রামের শান্ত খেলার মাঠ থেকে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর স্বপ্ন পূরণ হলো আকিব নবির।
দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো ভারতের টেস্ট দলে ডাক পেয়েছেন এই ডানহাতি পেসার।
আগামী ১৫ আগস্ট থেকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের জন্য তাকে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পেস আক্রমণের মূল অস্ত্র জাসপ্রীত বুমরাহ বাঁ হাঁটুতে চোট পাওয়ায় তার বিকল্প হিসেবে ‘বারামুলা এক্সপ্রেস’ নামে পরিচিত আকিব নবিকে দলে নেওয়া হয়েছে।
গত মাসে কার্ডিফে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচ খেলার সময় চোট পেয়েছিলেন বুমরাহ।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় বর্তমানে ৫ নম্বরে থাকা শুভমান গিলের নেতৃত্বাধীন ভারতের জন্য এই চোট বড় ধাক্কা হলেও, আকিবের জন্য এটি এক ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করেছে।
গত দুই ঘরোয়া মরসুমে ১০৪টি উইকেট শিকার করেছেন আকিব নবী। যার মধ্যে গত মৌসুমে একাই ৬০টি উইকেট নিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরকে তাদের প্রথম রঞ্জি ট্রফি শিরোপা জেতাতে মূল ভূমিকা রাখেন তিনি।
ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফর্ম করা এবং লোয়ার অর্ডার ব্যাটার হিসেবে রান করা সত্ত্বেও তিনি দীর্ঘদিন উপেক্ষিত ছিলেন। নিউ চণ্ডিগড়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের দল থেকে বাদ পড়ায় ভক্তদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।
তবে সম্প্রতি গালে ‘ইন্ডিয়া এ’ দলের হয়ে এক ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়ার পর নির্বাচকদের নজরে চলে আসেন আকিব। অবশেষে বুমরাহর ইনজুরিতে সেই কাঙ্ক্ষিত টেস্ট ক্যাপের পথ সুগম হলো।
আকিব নবির টেস্ট দলে সুযোগ পাওয়ার খবর আসতেই পুরো জম্মু ও কাশ্মীরে আনন্দের জোয়ার বইছে। পারভেজ রসুল ও উমরান মালিকের পর তিনি রাজ্যটির তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে জাতীয় দলে সুযোগ পেলেও, প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ভারতের টেস্ট দলে ডাক পাওয়ার নজির গড়লেন।
ঘরোয়া ক্রিকেটে আকিবের বোলিং সঙ্গী ও বাঁহাতি পেসার সুনীল কুমার তার এই অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘ও অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং মাটির মানুষ। ওর পরিশ্রম আজ সঠিক মর্যাদা পেয়েছে। রাজ্যের কোনো প্লেয়ার হিসেবে এই প্রথম কেউ টেস্ট দলে গেল। এটি পুরো জম্মু-কাশ্মীরের ক্রিকেট ব্যবস্থার জন্যই এক যুগান্তকারী মুহূর্ত। যে দরজাটি এতদিন বন্ধ ছিল, তা এখন খুলে গেল।’
আকিবের শৈশবের কোচ মোজাফফর মাত্তু (যিনি বর্তমানে বিসিসিআই সার্টিফাইড কোচ) ২০১০ সালের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘ওর বয়স যখন কম, তখন আমরা ওর বাড়ির পেছনের মাঠে গিয়ে খেলা দেখে বারামুলা ক্রিকেট ক্লাবে নিয়ে এসেছিলাম। ওর ভেতরে সবসময়ই একটা আলাদা প্রতিভা ছিল। অনুর্ধ্ব-১৯ ও ২৩ পর্যায় থেকে কঠোর পরিশ্রমের পর আজ ও এই জায়গায় পৌঁছেছে।’
মন্তব্য করুন