
শ্যামনগর প্রতিনিধি: ‘জাওয়াতকে খুঁজে পাচ্ছি না।’ স্ত্রীর কাছ থেকে ফোন পেয়ে ছেলেকে খুঁজতে ছুটে আসেন মোঃ মনিরুজ্জামান (মনির)। প্রথমে কর্মস্থল হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজেন। কোথাও না পেয়ে দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসেন। বাড়ির পাশে রাস্তায় পড়ে থাকা একটি জুতা চোখে পড়ে তাঁর। আরেকটি জুতা দেখতে পান বর্ষার পানি ভর্তি বিলের ধারে। এরপর পানিতে নেমে শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। এক পর্যায়ে উদ্ধার হয় তিন বছরের জাওয়াত। কিন্তু ততক্ষণে আর বেঁচে নেই শিশুটি।
সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসংলগ্ন বাদঘাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জাওয়াত মোঃ মনিরুজ্জামান (মনির) একমাত্র ছেলে। তাঁদের বাড়ি যশোরের কেশবপুর এলাকায়। চাকরির সুবাদে পরিবারটি শ্যামনগরে বসবাস করছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সকালে জাওয়াত বাড়ির পাশে খেলছিল। তার মা সাদিয়া খাতুন ঘরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। কিছুক্ষণ পর ছেলেকে দেখতে না পেয়ে তিনি আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে স্বামীকে ফোন করে বলেন, জাওয়াতকে খুঁজে পাচ্ছি না।
মনিরুজ্জামান শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে চিকিৎসকদের সিরিয়াল লেখার কাজ করেন। স্ত্রীর ফোন পাওয়ার পর তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় ছেলেকে খুঁজতে থাকেন। কোথাও না পেয়ে দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসেন।
বাড়ির পাশে এসে রাস্তার ওপর একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। পরে বিলের ধারে আরেকটি জুতা দেখতে পান। এরপর পানিতে নেমে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পানির ভেতর থেকে জাওয়াতকে উদ্ধার করেন। দ্রুত শিশুটিকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. সাকির হোসেন বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মন্তব্য করুন