
ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরার তালায় ক্রয়কৃত জমিতে দোকানঘর নির্মাণে বাধা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ এবং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তালা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ও খলিলনগর ইউনিয়ন বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি এস এম নুরুল ইসলাম।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় তালা প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
লিখিত বক্তব্যে এস এম নুরুল ইসলাম বলেন, তালা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেনের দখলীয় তালা মৌজার ১০৭ নম্বর এসএ খতিয়ানের ৫১৩ নম্বর দাগের ৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ জমির মধ্য থেকে ২০২৬ সালে ২৬৯১ নম্বর দলিলের মাধ্যমে তিনি ৪ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে নিজের নামে নামজারি এবং নিয়মিত কর-খাজনা পরিশোধ করেন বলেও দাবি করেন তিনি।
নুরুল ইসলামের অভিযোগ, ক্রয়কৃত জমিতে দোকানঘর নির্মাণের কাজ শুরু করলে মৃত জালাল ডাক্তারের ছেলে শহিদুলসহ কয়েকজন ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে সেখানে গিয়ে কাজে বাধা দেন। এ সময় ঘেরাবেড়া ভাঙচুর এবং তাঁর লোকজনকে মারধর করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে তালা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার পরামর্শ দেয়। তাঁর দাবি, পুলিশ তাঁর ক্রয়কৃত জমির কাগজপত্র দেখেছে এবং সেগুলো সঠিক থাকায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
নুরুল ইসলাম বলেন, প্রতিপক্ষ ৫১৩ নম্বর দাগের জমি নিয়ে অভিযোগ করলেও তিনি দোকানঘর নির্মাণ করছেন ৫১৪ নম্বর দাগে। ফলে প্রতিপক্ষের অভিযোগের সঙ্গে তাঁর ক্রয়কৃত ও ভোগদখলীয় জমির দাগের কোনো মিল নেই বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও দাবি করেন, মৃত জালাল ডাক্তারকে নিয়ে অতীতে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে এবং তাঁর পরিবারের নামে ওই এলাকার কয়েকটি জমির দলিল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। এসব দলিলের বৈধতা নিয়েও আদালতে মামলা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের রায় বা নথিপত্র সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, তালা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেন সৈয়দ আব্দুস সাত্তারের ওয়ারেশদের কাছ থেকে ১০ দশমিক ৮০ শতক জমি ক্রয় করে ভোগদখল করে আসছিলেন। ওই জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে বৈধতা নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি সেখান থেকে ৪ শতক জমি ক্রয় করেছেন এবং চেয়ারম্যানের কাছ থেকে প্রকাশ্যে জমির দখল বুঝে নিয়েছেন বলে দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে এস এম নুরুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে ও জমি নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদকে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে এর প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন