বাংলাদেশ, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫ আশ্বিন ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুততম সময়ে ভিসি নিয়োগের দাবি

ডেস্ক রিপোর্ট: ‌‘সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ভিসি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অভিনন্দন, প্রেক্ষাপট ও প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শহরের শহিদ নাজমুল সরণির ম্যানগ্রোভ সভাঘরে সাতক্ষীরা বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

প্রভাষক শিরিন সাদী’র সঞ্চালনায় সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাতক্ষীরা বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন কমিটির চেয়ারম্যান, সীমান্ত আদর্শ কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামান (মন্ময় মনির)।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাবন্ধিক ও সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল হামিদ, খান বাহাদুর আহছানউল্লাহ কলেজের অধ্যক্ষ এ কে আজাদ, বরেণ্য সংগীতশিল্পী আবু আফফান রোজবাবু, বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার মোহাম্মদ নাজিমউদ্দীন, লেখক শেখ সিদ্দিকুর রহমান, প্রভাষক মো. মামুনুর রহমান, সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল, কবি কাজী গুলশান আরা, কবি সিদ্দিক আলী, কবি মৃত্যুঞ্জয় কুমার বিশ্বাস, মো. রিয়াজুল ইসলাম রানা প্রমুখ।

সেমিনারে মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল বলেন, সাতক্ষীরা শুধু ভৌগোলিকভাবে দেশের একটি সীমান্তবর্তী জেলা নয়, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে এ জেলার রয়েছে নিজস্ব ঐতিহ্য ও সম্ভাবনা। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩ জাতীয় সংসদে পাস হয়। আইনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সুস্পষ্ট রাষ্ট্রীয় ও আইনগত ভিত্তি পেয়েছে। তাই এর বাস্তবায়ন আর কেবল দাবি বা প্রত্যাশার বিষয় নয়; এটি এখন কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব।

লেখক শেখ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, একটি জেলার উন্নয়ন শুধু রাস্তা, সেতু, ভবন বা শিল্পপ্রতিষ্ঠান দিয়ে সম্পূর্ণ হয় না। টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন জ্ঞান, গবেষণা, দক্ষ মানবসম্পদ ও প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনা। সেই জায়গা থেকেই সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিশ্ববিদ্যালয় সাতক্ষীরার তরুণ প্রজন্মকে উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণার একটি কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, সাতক্ষীরার কৃষি, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, নদী-খাল, উপকূলীয় পরিবেশ, মৎস্য, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সীমান্তবাণিজ্যের মতো বিষয়গুলো নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতে পারলে এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সাতক্ষীরার জন্য নয়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, বর্তমানে উপাচার্য নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলার বিষয়টি সাতক্ষীরাবাসীর জন্য স্বাভাবিকভাবেই আশাব্যঞ্জক। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে এমন একজন শিক্ষাবিদ প্রয়োজন, যিনি শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন না; বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভিত্তি, গবেষণার পরিবেশ, অবকাঠামোগত পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ একাডেমিক দর্শনের একটি শক্ত ভিত তৈরি করতে সক্ষম হবেন। কারণ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক সময়ের সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনাই তার দীর্ঘমেয়াদি চরিত্র নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও বলেন, সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে কোনো দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে সাতক্ষীরার মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার একটি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এখানে মেধা, যোগ্যতা, গবেষণা, মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা এবং জাতীয় শিক্ষানীতির প্রয়োজনীয়তার মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে হবে।

শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ বলেন, সাতক্ষীরাকে আধুনিক, বিজ্ঞানমনস্ক ও প্রগতিশীল জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে হলে উচ্চশিক্ষার একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শিক্ষার্থী তৈরি করবে না, এটি নতুন চিন্তা তৈরি করবে, গবেষণা করবে, স্থানীয় সমস্যার সমাধান খুঁজবে এবং একটি দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলবে। তাই সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তবায়নকে একটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখতে হবে।

বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী আবু আফফান রোজবাবু বলেন, আমরা অভিনন্দন জানাই যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন হয়েছে এবং এখন উপাচার্য নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে। সাতক্ষীরাবাসীর প্রত্যাশা—এই প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়ে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম দৃশ্যমান হোক। একটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা একদিনের কাজ নয়; এর জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় সদিচ্ছা, দক্ষ নেতৃত্ব, স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় একদিন এই অঞ্চলের শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ বাতিঘর হয়ে উঠবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম দ্রুত চালুর দাবি

সাতক্ষীরা জেলা ফুটবল রেফারীজ অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে জয় পেল যারা

সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুততম সময়ে ভিসি নিয়োগের দাবি

‘লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতিবাদে জবি ছাত্রদলের বিক্ষোভ

বিজনেস অ্যান্ড লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পেলেন সাতক্ষীরার সুদীপ্ত

আলিপুর ইউনিয়ন আ’লীগের যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মন্টু গ্রেফতার

কেঁড়াগাছি ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ডা. আনিছুর রহমানের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

শাহজালালের মাজারের দানবাক্সে মিললো ৮৯ লাখ টাকা

নির্যাতন ও শোষণের শিকার ব্যক্তিদের আইনগত সহায়তা নিশ্চিতে সমন্বয় জোরদারের আহ্বান

সাতক্ষীরায় ৭ দফা দাবিতে দলিল লেখকদের সমাবেশ

১০

দেশে প্রথম ‘ইমোশনাল ডোনার’ কিডনি প্রতিস্থাপন বিএমইউতে

১১

দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু

১২

গোপন বৈঠক থেকে গ্রেপ্তার ১২ সন্দেহভাজনের ৩ দিনের রিমান্ড

১৩

নতুন পে স্কেলে ৮ বছরেই উচ্চতর গ্রেড, বাড়ি ভাড়া বাড়বে ২০২৮ থেকে

১৪

আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট স্কোয়াড ঘোষণা করল বিসিবি

১৫

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই মিলল কুবি শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের মরদেহ

১৬

মুন্সীগঞ্জে বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত ৪

১৭

বাঁকাল শেখ পাড়া জামে মসজিদে ইসলামী কুইজ ও সিরাত মাহফিল

১৮

পাইকগাছা পৌর ভবন নির্মাণে স্থবিরতা, ৬ বছরে অগ্রগতি ৬৫ শতাংশ

১৯

কালিগঞ্জে পুকুরে ডুবে বৃদ্ধার মৃত্যু

২০
error: Content is protected !!