
ডেস্ক রিপোর্ট: সকালের সূর্য যেমন দিনের ছন্দ নির্ধারণ করে, তেমনি দিনের শুরুতে সঠিক খাবার ও পানীয় গ্রহণ সুস্থ থাকতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য পর্যাপ্ত পানি পান এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু পানীয় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সামান্য সহায়ক হতে পারে। তবে কোনো পানীয়ই উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের বিকল্প নয়।
এমনই পাঁচটি পানীয়ের সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে আজকের এ স্বাস্থ্যকথা।
লেবু মিশ্রিত পানি
সকালে এক গ্লাস লেবু মিশ্রিত পানি পান করলে শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়তা পাওয়া যায়।
লেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ভিটামিন সি গ্রহণ রক্তচাপ সামান্য কমাতে সহায়তা করতে পারে।
তবে শুধু লেবু মিশ্রিত পানি পান করলে উচ্চ রক্তচাপ কমে যায়, এমন শক্ত প্রমাণ নেই। বাড়তি চিনি বা লবণ না মিশিয়ে এ পানীয় পান করাই ভালো।
বিটরুটের রস
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সম্ভাবনাময় পানীয়গুলোর মধ্যে বিটরুটের রস অন্যতম। এতে রয়েছে প্রাকৃতিক নাইট্রেট, যা শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরিতে সহায়তা করে। নাইট্রিক অক্সাইড রক্তনালিকে শিথিল করতে এবং রক্তপ্রবাহ উন্নত করতে ভূমিকা রাখে।
কিছু গবেষণায় বিটরুটের রস পান করার পর রক্তচাপ কমার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে এর প্রভাব ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। সকালে পরিমিত পরিমাণে তাজা বিটরুটের রস পান করা যেতে পারে। এতে অতিরিক্ত লবণ বা চিনি মেশানো উচিত নয়।
নারকেল পানি
নারকেল পানিতে পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে। পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের প্রভাবের ভারসাম্য রক্ষা এবং স্বাভাবিক রক্তচাপ বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি নারকেল পানি শরীরের তরল ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সহায়তা করে।
তবে নারকেল পানি খেলেই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। প্যাকেটজাত নারকেল পানি কেনার আগে উপাদান তালিকায় বাড়তি চিনি ও সোডিয়ামের পরিমাণ দেখে নেওয়া উচিত। যাঁদের কিডনির সমস্যা রয়েছে কিংবা রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত বেশি পরিমাণে নারকেল পানি পান করা উচিত নয়।
গ্রিন টি
গ্রিন টিতে পলিফেনলসহ বিভিন্ন উপকারী উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে। এসব উপাদান রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। কিছু গবেষণায় দীর্ঘমেয়াদে গ্রিন টি পান করার সঙ্গে রক্তচাপ সামান্য কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
তবে গ্রিন টিতে ক্যাফেইনও থাকে। ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়াতে পারে। তাই গ্রিন টি পান করার পর অস্বস্তি বা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হলে পরিমাণ কমানো উচিত। বাড়তি চিনি ছাড়া গ্রিন টি পান করাই ভালো।
আমলকি মিশ্রিত পানি
আমলকিতে রয়েছে ভিটামিন সি, পলিফেনল ও অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। এসব উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আমলকি মিশ্রিত পানি পান করলে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায় কিংবা সরাসরি উচ্চ রক্তচাপ কমে-এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
সকালে এক গ্লাস পানিতে পরিমিত পরিমাণে আমলকির রস মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত চিনি বা লবণ যোগ করা এড়িয়ে চলা উচিত। আমলকি খাওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফলমূল ও শাকসবজি রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
পানীয়ের পাশাপাশি যা জরুরি
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে শুধু সকালে একটি নির্দিষ্ট পানীয় পান করার ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। এ জন্য প্রয়োজন সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ কমানো। পাশাপাশি নিয়মিত রক্তচাপ মাপা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা জরুরি।
মনে রাখতে হবে, কোনো ঘরোয়া পানীয়ই উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসার বিকল্প নয়। রক্তচাপ দীর্ঘদিন বেশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবে এসব পানীয় বেছে নেওয়া যেতে পারে, তবে সবার ক্ষেত্রে এগুলোর প্রভাব এক রকম নাও হতে পারে।
মন্তব্য করুন