
ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরায় এক ট্রাক চালকের বিরুদ্ধে পাওনা টাকা না দিয়ে ট্রাকের মালিককে হয়রানির উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার সাতক্ষীরা শহরের মুনজিতপুর গ্রামের মোঃ আরশাদ আলীর ছেলে মোঃ ইকবাল হোসেন এই সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমার ট্রাক (রেজি: নং-সাতক্ষীরা-ট-১১-০৪২৩) ট্রাকটি চালানোর জন্য মাত্র ১ মাস পূর্বে বুধহাটা গ্রামের আবু বক্কর গাজীর ছেলে আছাদ গাজী আমার কাছে আসে। আমি সরল বিশ্বাসে তাকে ট্রাকটি চালানোর জন্য দেই। এরপর গত ১১/৫/২০২৫ তারিখে ঢাকা থেকে ৬০ ড্রাম ভোজ্য তেল নিয়ে খুলনার উদ্দেশ্যে আসার পথে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর এলাকায় পৌঁছালে ডাকাতদল চালক আছাদ আলী ও হেলপার আশিক ইসলামকে গাছের সাথে বেধে রেখে তেলসহ ট্রাকটি নিয়ে গেছে বলে ভোর ৫টার দিকে আমাকে জানান চালক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমি কাশিয়ানী থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি এজাহার জমা দেই। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্তে নেমে চালক আছাদ আলী এবং হেলপার আশিক ইসলামকে সন্দেহ হওয়ায় তাদেরকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে ঘটনার ৫দিন পর কারাগারে প্রেরণ করে। পরে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। এখানে আমি কোন মামলা দায়ের করিনি। যা করেছে পুলিশ করেছে। সেখানে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। পরবর্তীতে পুলিশ ট্রাক উদ্ধার করে।
এদিকে, জেল থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে আমার সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ করেনি চালক আছাদ আলী। ঈদ উল আযহা উপলক্ষে গত ৫/৬/২০২৫ তারিখে ব্রহ্মরাজপুর গরুর হাটে গরু কিনতে গিয়ে দেখা হলে আমি তাকে বলি তুমি এক সময় আমার সাথে বসে হিসাব কিতাবগুলো ঠিক করে নিয়ো। এর বাইরে সেখানে আছাদের সাথে আমার এবং ছেলে রিয়াদের কোন কথা হয়নি। বরং সে সময় আছাদই আমার সাথে উচ্চ স্বরে কথা বলে। অথচ ওই ঘটনাকে পুঁজি করে সদর থানায় একটি মিথ্যা ভিত্তিহীন ডায়েরি করেছে আছাদ। আমি নাকি তাকে হুমকি দিয়েছি। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট। সাধারণ ডায়েরি করেও ক্ষ্যান্ত হয়নি সুচতুর ট্রাক চালক আছাদ আলী। গত ১৫/৬/২৫ তারিখে মিথ্যা ও বানোয়াট গল্প সাজিয়ে সে আমার এবং আমার পুত্রের বিরুদ্ধে একটি সংবাদ সম্মেলন করে। আমি তার বিরুদ্ধে কোন মামলাও করিনি এবং কোন ধরনের হুমকি ধামকিও প্রদর্শন করিনি।
প্রকৃতপক্ষে আমার পাওনা টাকা না দেওয়ার উদ্দেশ্যেই আছাদ আলী এই ষড়যন্ত্র করেছে। ইতোমধ্যে ৫/৬/২০২৫ তারিখে আমি জেলা ট্রাক মালিক সমিতির কাছেও অভিযোগ দায়ের করেছি। ঈদের কারণে সমিতি বিষয়টির সমাধান করতে পারেনি। এর মধ্যেই আছাদ এসব চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি ট্রাক চালক আছাদের নিকট থেকে পাওনা টাকা উদ্ধার এবং মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মন্তব্য করুন