বাংলাদেশ, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪ আশ্বিন ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:২৬ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

‘শত্রুতা’ ভুলে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করল তৃণমূল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপালের সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানের জেরে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকিতে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। এ ঝুঁকি থেকে উত্তরণে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ইতোমধ্যে সমঝোতা করেছেন মমতা।

পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি জেলার চিকেন’স নেক এলাকায় নেপালের সঙ্গে ১০০ কিলোমিটার স্থল সীমান্ত আছে ভারতের।

গতকাল সোমবার পশ্চিমবঙ্গ সফরে গিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কলকাতায় পৌঁছানোর পর তার সঙ্গে বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মমতা বলেন, “এটা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইস্যু এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলোর ব্যাপারে বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইস্যুগুলোতে আমরা এক।”

উল্লেখ্য, সরকারের দুর্নীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ৯ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্ম (জেন জি) বিক্ষোভ শুরু করেন নেপালে। তাদের মাত্র দু’দিনের বিক্ষোভে ১১ সেপ্টেম্বর পতন ঘটে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির নেতৃত্বাধীন সরকারের এবং পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেয় সেনাবাহিনী। পরের দিন সাবেক বিচারপতি সুশীলা কার্কি দেশটির অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হন।

তবে দেশটির সার্বিক পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। ফলে শিলিগুড়ি সীমান্ত দিয়ে ব্যাপকমাত্রায় অনুপ্রবেশের ঝুঁকি আছে। তাছাড়া ভারতে নকশালপন্থী মাওবাদী রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ। অন্যদিকে নেপালে কয়েকটি নকাশালপন্থি মাওবাদী রাজনৈতিক দল রয়েছে এবং সেগুলোর বেশ প্রভাবশালী। সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানেও তাদের বেশ প্রভাব ছিল।

ফলে অনুপ্রবেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ নেপাল সীমান্তে নকশালপন্থি রাজনীতি ছড়িয়ে পড়ারও ঝুঁকি রয়েছে।

গতকাল মোদির সঙ্গে মমতার বৈঠকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। প্রথমটি হলো এখন থেকে শিলিগুড়ির ভারত-নেপাল সীমান্ত পাহারায় ভারতের নিয়মিত সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোসের পাশাপাশি থাকবে আধাসামরিক বাহিনী সশস্ত্র সীমা বল বা এসএসবি। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের মধ্যে ব্যাপকমাত্রায় গোয়েন্দা তথ্যের আদান প্রদানের ব্যাপারেও একমত হয়েছেন তারা।

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় ‘শত্রু’ বিজেপি। বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তবর্তী এই রাজ্যটিতে দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে বিজেপি; তবে সেই পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে তৃণমূল। ভারতের বিজেপিশাসিত কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তৃণমূলের শত্রুতার প্রধান কারণ এটিই।

সূত্র : এনডিটিভি

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আজ দুপুরে পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা জানালেন কর্মকর্তারা

ফিলিপাইনে স্কুলে বন্দুক হামলা, নিহত ৩

হেলিকপ্টারে পালাবেন নাকি সম্মানের সঙ্গে পদত্যাগ করবেন: তারেক রহমানকে নাহিদ ইসলাম

ভারতের উদ্বেগ বাড়িয়ে রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলে স্বাক্ষর করলেন ট্রাম্প

এনআইডিতে ভুল তথ্য থাকলে সংশোধনে যেসব কাগজ লাগবে

বাংলাদেশকে প্রীতি ম্যাচের আমন্ত্রণ জানিয়ে মাঠেই এলো না চীন

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে মিরাজদের বিদায়, ফাইনালে জ্যামাইকা

পাকিস্তানে মসজিদে বোমা হামলায় মৃত্যু বেড়ে ২৭, আহত ৭০

মেলায় ঘুরতে যাওয়ার সুযোগে ব্যবসায়ীর ফাঁকা বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি

জুনিয়র রাইডার্স ৮ দলীয় নকআউট ফুটবল টুর্নামেন্টে কাটিয়া ফ্যালকন চ্যাম্পিয়ন

১০

ফার্মগেটে মসজিদে গোপন বৈঠক, আটক ২৩

১১

বেনাপোলে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার, স্থানীয়দের উদ্যোগে দাফন

১২

আশাশুনির ফটিকখালীতে জমি দখলের পাঁয়তারার অভিযোগে মানববন্ধন

১৩

আশাশুনির কাদাকাটি ও ঝাউবুনিয়া বিলে রাতের আঁধারে মাছ চুরি, ঘের মালিকদের উদ্বেগ

১৪

আশাশুনি সদর ইউনিয়নে জামায়াতের গণসংযোগ

১৫

পরিবেশ সুরক্ষায় সুন্দরবন সেবা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের বৃক্ষরোপণ

১৬

গুড়পুকুরপাড়ে মনসা পূজায় পুণ্যার্থীদের ঢল, হচ্ছে না মেলা

১৭

শ্যামনগরে ইসলামী আন্দোলনের পৌর কমিটি ঘোষণা

১৮

সাতক্ষীরায় সুকান্ত জন্মশতবর্ষ উদযাপন

১৯

কা‌লিগ‌ঞ্জে পুকুরে ডু‌বে দুই শিশুর মৃত্যু

২০
error: Content is protected !!