বাংলাদেশ, শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬
১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:২৬ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

‘শত্রুতা’ ভুলে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করল তৃণমূল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপালের সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানের জেরে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকিতে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। এ ঝুঁকি থেকে উত্তরণে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ইতোমধ্যে সমঝোতা করেছেন মমতা।

পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি জেলার চিকেন’স নেক এলাকায় নেপালের সঙ্গে ১০০ কিলোমিটার স্থল সীমান্ত আছে ভারতের।

গতকাল সোমবার পশ্চিমবঙ্গ সফরে গিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কলকাতায় পৌঁছানোর পর তার সঙ্গে বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মমতা বলেন, “এটা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইস্যু এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলোর ব্যাপারে বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইস্যুগুলোতে আমরা এক।”

উল্লেখ্য, সরকারের দুর্নীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ৯ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্ম (জেন জি) বিক্ষোভ শুরু করেন নেপালে। তাদের মাত্র দু’দিনের বিক্ষোভে ১১ সেপ্টেম্বর পতন ঘটে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির নেতৃত্বাধীন সরকারের এবং পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেয় সেনাবাহিনী। পরের দিন সাবেক বিচারপতি সুশীলা কার্কি দেশটির অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হন।

তবে দেশটির সার্বিক পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। ফলে শিলিগুড়ি সীমান্ত দিয়ে ব্যাপকমাত্রায় অনুপ্রবেশের ঝুঁকি আছে। তাছাড়া ভারতে নকশালপন্থী মাওবাদী রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ। অন্যদিকে নেপালে কয়েকটি নকাশালপন্থি মাওবাদী রাজনৈতিক দল রয়েছে এবং সেগুলোর বেশ প্রভাবশালী। সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানেও তাদের বেশ প্রভাব ছিল।

ফলে অনুপ্রবেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ নেপাল সীমান্তে নকশালপন্থি রাজনীতি ছড়িয়ে পড়ারও ঝুঁকি রয়েছে।

গতকাল মোদির সঙ্গে মমতার বৈঠকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। প্রথমটি হলো এখন থেকে শিলিগুড়ির ভারত-নেপাল সীমান্ত পাহারায় ভারতের নিয়মিত সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোসের পাশাপাশি থাকবে আধাসামরিক বাহিনী সশস্ত্র সীমা বল বা এসএসবি। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের মধ্যে ব্যাপকমাত্রায় গোয়েন্দা তথ্যের আদান প্রদানের ব্যাপারেও একমত হয়েছেন তারা।

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় ‘শত্রু’ বিজেপি। বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তবর্তী এই রাজ্যটিতে দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে বিজেপি; তবে সেই পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে তৃণমূল। ভারতের বিজেপিশাসিত কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তৃণমূলের শত্রুতার প্রধান কারণ এটিই।

সূত্র : এনডিটিভি

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভারী বৃষ্টিপাত নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস

মিরপুরের পর এবার ফার্মগেটে মেট্রো স্টেশনে চটের বস্তা ঘিরে বোমাতঙ্ক

রাষ্ট্রায়ত্ত সব বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : প্রতিমন্ত্রী

তালা প্রেসক্লাবের সভা

সন্ধ্যায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক, চূড়ান্ত হতে পারে রাষ্ট্রপতির নাম

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ১২ ভেন্যু চূড়ান্ত

দেশের ১৮ কোটি মানুষ বর্তমান সংসদের দিকে তাকিয়ে আছে: ভারপ্রাপ্ত স্পিকার

ঘুমানোর আগে স্ক্রিন নয়, বই || ‎তারিক ইসলাম

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলতে উড়াল দিলেন শান্তরা

বগুড়ায় ২ ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

১০

সমুদ্র পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা সুন্দরবনের সৈকত || মো: মামুন হাসান

১১

একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র: সার্জিও গর

১২

কালিন্দীতে নিখোঁজ জেলের মরদেহ মিলল ইছামতী নদীতে

১৩

ঈক্ষণ সাংস্কৃতিক সংসদের উদ্যােগে শহীদ বিপ্লবী আজমল ও টুটুলের স্মরণসভা

১৪

আশুলিয়ার মুদিদোকানে ফেলে যাওয়া ব্যাগে ‘প্রেশার কুকার’ বোমা, নিষ্ক্রিয় করল পুলিশ

১৫

একদিনে মরক্কো থেকে সাঁতরে-সীমানা টপকে স্পেনের ভুখণ্ডে ঢুকল ৫০ হাজার মানুষ

১৬

ভারতের পর পাকিস্তানেও ‘ককরোচ’ পার্টি উত্থানের শঙ্কা

১৭

গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে সাতক্ষীরায় ছাত্রদলের একাংশের দোয়া মাহফিল

১৮

সাতক্ষীরায় জমকালো আয়োজনে ৪ দলীয় কাবাডি টুর্নামেন্ট

১৯

কয়রায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

২০
error: Content is protected !!