
স্পোর্টস ডেস্ক: রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) কোয়ালিফায়ার-২ থেকে বিদায় নিয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স। শিমরন হেটমায়ারের দুর্দান্ত শতকের পরও শেষ রক্ষা হয়নি তাদের।
রভম্যান পাওয়েলের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৫ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে জ্যামাইকা কিংসম্যান।
বার্বাডোজের কেনসিংটন ওভালে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি গায়ানার।
দলীয় ২০ রানের মধ্যেই মোহাম্মদ হারিস ও মাভেন্দ্র দয়ালের উইকেট হারায় তারা। দুজনেই করেন ৯ রান।
এরপর শিমরন হেটমায়ার ও শাই হোপের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় গায়ানা।
পাওয়ার প্লেতে ৩৭ রান তোলার পর ধীরে ধীরে রানের গতি বাড়াতে থাকেন হেটমায়ার।
একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে মাত্র ২০ বলেই ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। হেটমায়ার ও হোপের ৯৬ রানের জুটি গায়ানাকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত ৩৩ বলে ৪০ রান করে হোপ ফিরলে ভাঙে এই জুটি।
তবে এরপর আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন হেটমায়ার। ইনিংসের শেষ বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে শতক পূর্ণ করেন তিনি। ৪৫ বলে ৪ চার ও ৮ ছক্কায় ১০২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। কুয়েন্টিন স্যাম্পসনও ১৭ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় করেন ২৯ রান। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২০৬ রানের বড় সংগ্রহ পায় গায়ানা। মিরাজের অবশ্য ব্যাটিংয়ে নামার প্রয়োজন হয়নি।
জবাবে ২০৭ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে জ্যামাইকা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে মিরাজের বলে দুই ছক্কা ও এক চারে ১৮ রান তুলে নেন মাজ সাদাকাত। তৃতীয় ওভারে প্রিটোরিয়াসের বলে আউট হওয়ার আগে ১৭ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৪১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি।
এরপর কির্ক ম্যাকেঞ্জিও দ্রুত রান তুলতে থাকেন। ৩৪ রান করে ইমরান তাহিরের বলে আউট হন তিনি। প্রথম ওভারে খরুচে বোলিং করলেও পরের দুই ওভারে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান মিরাজ। তবে ১২তম ওভারে তার বলে জোড়া ছক্কা হাঁকিয়ে জ্যামাইকার রান তোলার গতি বাড়িয়ে দেন সাইম আইয়ুব।
অন্য প্রান্তে ৩৫ বলে ফিফটি তুলে নেন কেসি কার্টি। পরে ২৩ রান করে সাইম আইয়ুব ডোয়াইন প্রিটোরিয়াসের শিকার হন। কার্টিও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। পাওয়েলের কাছে জোড়া ছক্কা হজম করেও একই ওভারে রানআউটের মাধ্যমে ৫৬ রানে ফিরতে হয় তাকে।
শেষ তিন ওভারে জ্যামাইকার প্রয়োজন ছিল ৩৪ রান। তখন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন রভম্যান পাওয়েল ও আন্দ্রে রাসেল। ইমরান তাহিরের ওভারে চার-ছক্কায় ১৫ রান তুলে নেন তারা। পরের ওভারে শামার জোসেফের বলেও একটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকিয়ে ব্যবধান আরও কমিয়ে দেন পাওয়েল।
শেষ ওভারে জ্যামাইকার প্রয়োজন ছিল ৬ রান। প্রথম বলেই আন্দ্রে রাসেলকে ফিরিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন রোমারিও শেফার্ড। তবে শেষ পর্যন্ত আর কোনো অঘটন ঘটতে দেননি জ্যামাইকার ব্যাটাররা। ১৯.৪ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২০৭ রান তুলে ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে তারা।
মাত্র ১৭ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় অপরাজিত ৪০ রান করেন পাওয়েল। তার বিধ্বংসী ইনিংসেই ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতে। ফলে হেটমায়ারের ১০২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস ব্যর্থ করে দিয়ে ফাইনালে উঠে যায় জ্যামাইকা।
গায়ানার হয়ে বল হাতে ৪ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস। মেহেদী হাসান মিরাজ ৪ ওভারে ৪৩ রান খরচ করলেও কোনো উইকেট পাননি। শেষ পর্যন্ত রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে হেরে সিপিএল থেকে বিদায় নিতে হলো মিরাজদের।
মন্তব্য করুন