
ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাতক্ষীরা কেন্দ্রে ‘জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকি অর্থায়ন ও বীমা’ বিষয়ক জেলা পর্যায়ের পরামর্শ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার অ্যাডভোকেট নাজমুন নাহার ঝুমুর এর সভাপতিত্বে এবং জেলা ম্যাপের সদস্য সচিব শরীফুল্লাহ কায়সার সুমনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম।
আলোচনায় অংশ নেন অ্যাওসেড-এর ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হেলেনা খাতুন, মাধব চন্দ্র দত্ত, সাংবাদিক জুলফিকার রায়হান, সাংবাদিক আমিনা বিলকিস ময়না, অধ্যাপক আশেক ই এলাহী, শেখ হেদায়েত উল্লাহ, আফজাল হোসেন, অ্যাডভোকেট মুনীর উদ্দিন, শেখ আবুল কালাম, দুলাল চন্দ্র দাস, আব্দুস সালাম, ফারুক রহমান, নাসরিন সুলতানা, এ. কে. এম. আবু জাফর সিদ্দিকী, নাসরিন সুলতানা, রবিউল ইসলাম, জোহরা খাতুন, শ্যামল কুমার বিশ্বাস, মোঃ বায়েজিদ, শাম্মি আক্তার (কুমকুম), জয়ন্তী দাস, মোঃ ইমরান সরদার, সুশান্ত মল্লিক, বিশ্বজিৎ মুন্ডা, গুলশানারা খাতুন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, উপকূলীয় বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আজ ভয়াবহ ঝুঁকিতে। অতিবৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, স্থায়ী জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং কৃষিজমি হারিয়ে যাওয়ার কারণে মানুষের জীবন-জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত পাঁচ দশকে উপকূলের ১ লাখ ২৫ হাজার হেক্টর কৃষিজমি হারিয়ে গেছে এবং বর্তমানে প্রায় ১.২ মিলিয়ন হেক্টর জমি লবণাক্ততার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত—যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর জীবিকা বদলে যাচ্ছে; জেলে, কৃষক ও দিনমজুর পরিবারগুলো বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করছে। অভ্যন্তরীণ জলবায়ু-জনিত অভিবাসন বাড়ছে, শহরে জনসংখ্যার চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দারিদ্র্য, পুষ্টিহীনতা ও রোগের প্রকোপ আরও বাড়ছে।
সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, বশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে বাংলাদেশের ভূমিকা অত্যন্ত সীমিত হলেও দেশটি জলবায়ু ঝুঁকিতে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষে। তাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বার্থ যথাযথভাবে তুলে ধরা জরুরি।
সভা শেষে জলবায়ু সম্মেলনে জলবায়ু-সংবেদনশীল দেশগুলোর দাবি বিশ্ববাসীর সামনে শক্তভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যে একটি মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানবব্ন্ধন থেকে বিশ্ব নেতাদের কাছে লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডের কার্যকর বাস্তবায়ন, প্রবেশযোগ্য ও স্বচ্ছ জলবায়ু অর্থায়ন, অ-অর্থনৈতিক ক্ষতির স্বীকৃতি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও নবায়নযোগ্য শক্তির প্রবেশাধিকার, লিঙ্গ সমতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকরণ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচার ও বৈশ্বিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।

মন্তব্য করুন