
শ্যামনগর প্রতিনিধি: ‘উপকূলীয় জনপদ, হতে হবে নিরাপদ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের মানুষের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. মো. মনিরুজ্জামান।
তিনি বলেন, নির্বাচনে জয়ী হতে না পারলেও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও জীবনমান উন্নয়নে নির্বাচনপূর্ব ঘোষিত ১২টি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তিনি বদ্ধপরিকর।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত শ্যামনগর উপজেলা অডিটোরিয়ামে শ্যামনগরে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল মনির-এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এস.এম মোস্তফা কামালের সঞ্চালনায় সভায় সাংবাদিকরা উপকূলীয় অঞ্চলে গড়ে ওঠা মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংস্কার ও চিকিৎসক সংকট, দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরা ও পদ্মপুকুরে হাসপাতাল নির্মাণ, উপকূলীয় বেড়িবাঁধ স্থায়ী সংস্কার, পর্যটন শিল্পের বিকাশ, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ও দাবি তুলে ধরেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা শ্যামনগরকে একটি নিরাপদ উপকূলীয় জনপদে রূপান্তর করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেড়িবাঁধের টেকসই সংস্কার, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি জরুরি।
তিনি জানান, শ্যামনগর উপজেলার ১০৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রকল্পের আবেদন করা হয়েছে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করা হবে। এছাড়া পদ্মপুকুর ইউনিয়নে ১০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল দ্রুত উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় আট কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়ার আশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
পর্যটন খাতকে উপকূলীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি উল্লেখ করে ড. মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরের লক্ষ্যে একটি বড় পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
শিক্ষা খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শ্যামনগর আতরজান মহিলা মহাবিদ্যালয়কে সরকারি করা এবং শ্যামনগর সরকারি মহসিন কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উপকূলের উন্নয়ন কোনো একক দলের কাজ নয়। বিএনপির চেয়ারম্যান ও দেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এলাকার উন্নয়নে কাজ করা হবে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সোলায়মান কবির, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাড. আশেক-ই এলাহী মুন্না, ডাকসুর সাবেক নেতা অধ্যাপক আবু সাঈদ, শ্যামনগর পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ লিয়াকত আলী বাবু প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডি.এম আব্দুস সামাদ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম দুলু, কৃষকদলের আহ্বায়ক মোঃ নুরুজ্জামান, বিএনপি নেতা আব্দুর রশিদ, অধ্যাপক আবুল হোসেনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মন্তব্য করুন