বাংলাদেশ, শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬
১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
৩১ জুলাই ২০২৬, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

যারা একাত্তরকে ভুলিয়ে দিতে চায়, তারা কখনো বাংলাদেশে বিশ্বাস করে না: মির্জা ফখরুল

ডেস্ক রিপোর্ট: ‘আমি সব সময় একটা কথা বলি, যারা একাত্তরকে ভুলে যেতে চায় বা ভুলিয়ে দিতে চায়, তারা কখনো বাংলাদেশে বিশ্বাস করে না। কারণ, বাংলাদেশে বিশ্বাস করতে হলে আমাদের অবশ্য অবশ্যই একাত্তরকে সামনে আনতে হবে। সেটা নিয়েই আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।’ এ কথাগুলো বলেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে সনাতন ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক এই মতবিনিময় সভা ও প্রতিনিধি সম্মেলনের আয়োজন করে সম্মিলিত সনাতন পরিষদ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একাত্তরকে সামনে আনার অর্থ চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানকে পেছনে রাখা নয়; বরং একাত্তরকে সামনে আনার পাশাপাশি জুলাইকেও সামনে আনতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা জুলাইকেও অস্বীকার করতে পারি না। এ জন্য যে আমাদের অসংখ্য সন্তান, তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাণ দিয়েছে। একটা ফ্যাসিস্ট সরকারকে দেশ থেকে চলে যেতে বাধ্য করেছে।’ একাত্তর ও চব্বিশ কোনোটিকেই বিএনপি ছোট করে দেখে না বলে উল্লেখ করেন দলটির মহাসচিব।

একটি গোষ্ঠী সচেতনভাবে ধর্মের নামে দেশকে বিভাজনের দিকে ঠেলে দিতে চায় বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ধর্মের নামে যারা দেশকে বিভাজনের দিকে নিয়ে যেতে চায়, তাদের অবশ্যই রুখে দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দিতে পারি না। মৌলবাদকে প্রশ্রয় দিতে পারি না। আমরা এখানে উদারপন্থী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণ করতে চাই।’

ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টিকারীদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে উগ্রবাদ ও মৌলবাদ রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে। বিএনপি কাউকে ‘সংখ্যালঘু’ মনে করে না, তাই সনাতন ধর্মাবলম্বীকে নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান তিনি।

​বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রতি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দল ও ভবিষ্যৎ সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে। এ জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের পেছনে এবার সংখ্যালঘুদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সেই কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে লালন করেন। সরকারের কাছে দেশের সব নাগরিক সমান। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা যেকোনো মতের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে, বিএনপি সরকার সেই অধিকার রক্ষায় আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।

যেকোনো পরিস্থিতির বিশ্লেষণে পক্ষপাত না করে নিরপেক্ষ ও সঠিক তথ্য তুলে ধরার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বা সামাজিক পটভূমি বিচারে শুধু সাম্প্রতিক দু–এক বছর নয়; বরং আগের সব ইতিহাস বিবেচনায় নেওয়া উচিত। বক্তারা বলেন, কোনো অপরাধ ঘটলে তা কেবল নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন হিসেবে না দেখে সার্বিক পরিস্থিতির আলোকে মূল্যায়ন করতে হবে। বিভিন্ন সংস্থার দেওয়া তথ্যে গরমিল থাকলে সরকারের সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা হয়। তাই বিভ্রান্তি এড়াতে ঐক্যবদ্ধ ও নির্ভুল তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়।

সভা সঞ্চালনা করেন সম্মিলিত সনাতন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার আচার্য। সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক হীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস।

সভায় আরও বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ–৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী প্রমুখ।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৪৬টি সংগঠনের প্রতিনিধি অশোক তরু সাহা মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর যে হারে নির্যাতন বেড়েছে, সেটা যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। তিনি অবিলম্বে সরকারকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখার দাবি জানান।

মতবিনিময় সভায় সম্মিলিত সনাতন পরিষদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে বেশ কিছু দাবি উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ছিল সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হওয়া হামলা ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করা, হিন্দুধর্মীয় উৎসবগুলোয় যথাযথ সরকারি ছুটি দেওয়া, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে সরকারি জায়গা বরাদ্দ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার পাশাপাশি এই ট্রাস্টকে ফাউন্ডেশন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা প্রভৃতি।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঢাকাস্থ দেবহাটা উপজেলা সমিতির নেতৃত্বে খাইরুল-হিরু-সুমন

সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা নিরসনে নদী-খাল পুনরুদ্ধারের দাবি

টানা পঞ্চমবারের মতো সাফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন

প্রাথমিকে ১৪ হাজার ৩৮৪ শিক্ষকের যোগদান শুরু অক্টোবরে

জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খানের ৯৮তম জন্মবার্ষিকী পালিত

নাগরিক অধিকার সুরক্ষা নেটওয়ার্কের সাধারণ সভা

কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু

কয়রায় সোনালী ব্যাংকের এটিএম বুথ উদ্বোধন

অভিযুক্ত হাসিনাসহ ৫০, সত্যতা মেলেনি ৪৯ জনের বিরুদ্ধে

গুরুতর আহত রাশমিকা

১০

৫০ দেশের জন্য স্থায়ী হলো মার্কিন ভিসা বন্ড, তালিকায় কি বাংলাদেশ আছে?

১১

কালিগঞ্জে কুকুরের কামড়ে শিক্ষার্থীসহ ৫ জন আহত

১২

বাংলাদেশ সফরে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদল: মাহদী আমিন

১৩

সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মজলিশে শুরার বৈঠক, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

১৪

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ড্র অনুষ্ঠিত, বাংলাদেশের গ্রুপে কারা?

১৫

আশাশুনিতে ১৫০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

১৬

শেষ মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে লিটন

১৭

ভারী বৃষ্টিপাত নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস

১৮

মিরপুরের পর এবার ফার্মগেটে মেট্রো স্টেশনে চটের বস্তা ঘিরে বোমাতঙ্ক

১৯

রাষ্ট্রায়ত্ত সব বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : প্রতিমন্ত্রী

২০
error: Content is protected !!