বাংলাদেশ, রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬
২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
৯ আগস্ট ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

ফরহাদ মজহারের ‘আমেরিকান ষড়যন্ত্রতত্ত্ব’ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রিফাত

ডেস্ক রিপোর্ট: চব্বিশের জুলাই আন্দোলন নিয়ে সম্প্রতি একটি অনলাইন গণমাধ্যমের পডকাস্টে কলামিস্ট ও সমাজ চিন্তক ফরহাদ মজহারের ‘আমেরিকান ষড়যন্ত্রতত্ত্ব’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) সাবেক সভাপতি রিফাত রশিদ।

রোববার (০৯ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।

এর আগে পডকাস্টে ফরহাদ মজহার বলেছিলেন, চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের সময় এর সমন্বয়কদের বিভিন্ন দূতাবাসে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। পডকাস্টে তিনি আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট আরও কিছু বিষয় নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ কিছু বিদেশি দূতাবাস আন্দোলনকারীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য সেফ হাউজ পরিচালনা করেছিল। সে সময় প্রাণে বাঁচতে কিছু সমন্বয়ক দূতাবাসের আশ্রয়ও চেয়েছিলেন।

ফরহাদ মজহার আরও দাবি করেন, এসব সেফ হাউজে আন্দোলনের সমন্বয়কদের মগজধলাই করা হয়েছে। তারা যেন শেখ হাসিনার পদ্যতাগ চান, সেভাবেই তাদের বলা হয়েছে। তিনি এক্ষেত্রে মার্কিন দূতাবাসকে দায়ী করেছেন।

রিফাত রশিদ বলেন, আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের আশ্রয় নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত ‘সেইফ হাউসগুলো’ যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছিল বলে ফরহাদ মজহার দাবি করেছেন। তবে তার বক্তব্য অনুযায়ী, আন্দোলনের ওই সময়ে তারা যেসব জায়গায় আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেগুলোর কোনোটিই যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে ছিল না।

পোস্টে রিফাত রশিদ লেখেন, ‘ফরহাদ ভাই আজ দুবছর পর দাবি করে বসলেন, সেইফ হাউসগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে চলেছে। আমি জানি না, তার সোর্স কী, তিনি কোথা থেকে এগুলো শুনে এসেছেন বা কারা তাকে বলেছে। যারাই বলুক, তারা অসৎ উদ্দেশ্যে বলেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনি ক্রসচেক করতে জানেন, আমাদের সবাইকেও চেনেন। একটা ফোনকল করে আমাদের জিজ্ঞেস করলে আপনার কাজটা সহজ হয়ে যেত। কিন্তু আপনি সেটা করলেন না, মিডিয়ায় বলে দিলেন এমন কিছু, যা মিথ্যা।’

আন্দোলনের সময় নিজেদের আশ্রয়ের বিস্তারিত তুলে ধরে রিফাত রশিদ বলেন, তিনি, হান্নান মাসুদ ও মাহিন সরকার উত্তরার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল থেকে তৎকালীন সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার তাড়া খেয়ে একটি মানবাধিকার সংস্থার কার্যালয়ে এক রাতের জন্য আশ্রয় নেন। তার দাবি, ওই আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন মুনতাসীর রহমান।

এরপর তারা আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের এক বন্ধুর ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে পাঠাওয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম-আন্দালিব দম্পতির বাসায় যান। পরে মানবাধিকারকর্মী লেলিন তাদের সেখান থেকে নিয়ে যান।

রিফাত রশিদ বলেন, শুরুতে তাদের সদরঘাটের কাছাকাছি একটি গেস্টহাউসে নেওয়ার কথা ছিল। পরে লেলিন তাদের তৎকালীন বিএনপি নেতা ওয়াহিদ আলমের ডিওএইচএসের কার্যালয়ে নিয়ে যান। তার দাবি, এই যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিলেন জুলকারনাইন সায়ের।

পরে ৩ আগস্ট বিকেলে তারা শেরপুর-২ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ফাহিম চৌধুরীর বাসায় যান বলে জানান রিফাত রশিদ। সেখান থেকে তিনি ও মাহিন সরকার মোহামিন পাটোয়ারীর বাসায় আশ্রয় নেন।

আন্দোলনের আরেক নেতা আব্দুল কাদেরের আশ্রয়ের প্রসঙ্গে রিফাত রশিদ বলেন, কাদের প্রথমে শিবিরের ব্যবস্থাপনায় একটি আশ্রয়ে ছিলেন। পরে সেখান থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশ কার্যালয়ের কর্মকর্তা তাইসিরের বাসায় যান।

রিফাত রশিদ প্রশ্ন করেন, ‘এই হলো আমাদের পুরো সময়ের সেইফ হাউসের বিস্তারিত। এখন ফরহাদ ভাইয়ের কাছে আমার প্রশ্ন হলো, এখানে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের তৈরি করা সেইফ হাউস কোনটি? আমরা তো সবার বাসাবাড়িতে থেকেছি, স্কুল বন্ধ থাকায় সেখানে থেকেছি, নয়তো কারও ব্যক্তিগত অফিসে থেকেছি।’

তিনি দাবি করেন, আন্দোলনের ওই সময়ে যারা তাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন, তারা কেউ কোনো ধরনের পরামর্শ দিতে আসেননি।

রিফাত রশিদের ভাষ্য, ২ আগস্ট রাতে এক দফা নিয়ে তাদের পরামর্শ দিতে কেউ এসেছিলেন। তবে তারা সেই পরামর্শ গ্রহণ করেননি।

তিনি বলেন, ‘বরং এক দফার ঘোষণার লাইন কী হতে পারে, সেটা নিয়ে পরামর্শ করার জন্য আমি ২ আগস্ট রাতে ফরহাদ মজহার ভাইকেই কল দিয়েছিলাম। তার বেশ কিছু পরামর্শ আমরা নোটও করেছিলাম।’

ফরহাদ মজহারের বক্তব্যের সমালোচনা করে রিফাত রশিদ বলেন, ‘যেখানে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে এক দফার ঘোষণায় পরামর্শ নিয়েছিলাম, সেখানে তিনিই এই প্রক্রিয়াকে আওয়ামী লীগের বয়ানে আমেরিকান ষড়যন্ত্রতত্ত্বের আলাপ দিলেন। এই ষড়যন্ত্রতত্ত্ব খোঁজাটা সমস্যাজনক।’

তার দাবি, ‘এই বয়ানের পর তিনি আওয়ামী লীগের প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেছেন।’ তবে ফরহাদ মজহারের প্রতি তার শ্রদ্ধার কথাও তুলে ধরেন রিফাত রশিদ।

 

তিনি বলেন, ‘ফরহাদ ভাইয়ের চিন্তা, লড়াই আর নিজের আদর্শের প্রতি অটল থাকার এই দৃঢ়চেতা মনোভাব আমাদের আকর্ষিত করেছে। রাজনৈতিক ক্ষুধা থাকা বাংলাদেশের তরুণেরা ফরহাদ ভাইয়ের কাছে গিয়েছে তাদের জ্ঞান শানিত করার জন্য।’

রিফাত রশিদ আরও বলেন, ফরহাদ মজহারের ‘ভাববৈঠকী’র মাধ্যমে তারা সিভিল সোসাইটির একটি বড় নেটওয়ার্কের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। তার দাবি, মুনতাসীর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এই নেটওয়ার্ক ভূমিকা রেখেছিল।

পোস্টের শেষ দিকে ফরহাদ মজহারের কাছে সরাসরি প্রশ্ন রাখেন রিফাত রশিদ। তিনি বলেন, ‘এখন ফরহাদ ভাই এত বছর ধরে গড়ে তোলা নিজ কমিউনিটিকে আমেরিকান মদদপুষ্ট গোষ্ঠী বলবেন কি না, এই প্রশ্নের উত্তর উনিই দিন। যদি তা হয়, তাহলে আমরাই বরং চিটেড ফিল করব।’

রিফাত রশিদ আশা প্রকাশ করেন, তার উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবেন ফরহাদ মজহার।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভুয়া নার্স সাজিয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন

কয়রায় আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত

কেশবপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির কর্মী নিয়োগে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

বিদেশ ভ্রমণ প্যাকেজের মূল্য দেওয়া যাবে বাংলাদেশি টাকায়

শাকিরা-পিকের প্রাসাদসম বাড়ি কিনছেন ইয়ামাল, দাম ১৫৭ কোটি

সাতক্ষীরায় আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা, প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত

হেফাজতে ইসলামের আমিরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, চাইলেন দোয়া

ফরহাদ মজহারের ‘আমেরিকান ষড়যন্ত্রতত্ত্ব’ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রিফাত

সালমান শাহ হত্যা মামলা: কারাগারে ডন

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি থেকে মির্জা ফখরুল মনোনীত

১০

২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৬ শিশুর মৃত্যু

১১

বৃক্ষমেলায় দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ছে সিদ্দিকীস গ্রীন টেকনোলজি

১২

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে শাজাহান খানের পুরোনো ছবি, পাটওয়ারীর পোস্ট ঘিরে তোলপাড়

১৩

মসজিদের মাইকে ঘোষণায় ৭ গরু রেখে পালালো চোরেরা

১৪

বৃদ্ধ মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ, প্রতিবাদে ছেলের সংবাদ সম্মেলন

১৫

‘আমার সঙ্গে বিয়ে নয়, হয়তো স্বপ্নের বাসর হয়েছিল’

১৬

রাষ্ট্রপতি পদে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী এলডিপির কর্নেল (অব.) অলি আহমদ

১৭

বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে রোজারিওতে মেসি, ডি পলের গোল উৎসর্গ

১৮

রাষ্ট্রপতি পদে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বিএনপি

১৯

গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শনে মাতারবাড়িতে প্রধানমন্ত্রী

২০
error: Content is protected !!