
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়ার পর দুটি বাড়ি থেকে চুরি করা সাতটি গরু রেখে পালিয়েছে চোরেরা।
শনিবার (৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে যশোরের কেশবপুরে উপজেলার আলতাপোল ও মঙ্গলকোট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে আলতাপোল (বারোইপাড়া) গ্রামের সুকুমার কুমারের গোয়ালঘরের তালা ভেঙে চারটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। পরে গরুগুলো বাড়ির পাশের একটি বাগানে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। একই রাতে মঙ্গলকোট গ্রামের রবিউল ইসলাম রবির তিনটি গরুও চুরি করে নিয়ে যায় তারা। রবির গরুগুলো যশোর-চুকনগর সড়কের পাশে আলতাপোল চারেরমাথা এলাকার একটি মেহগনি বাগানে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়।
ফজরের আজানের সময় গরু চুরির বিষয়টি পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের নজরে আসে। এরপর মসজিদের মাইকে গরু চুরির বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়। ধারণা করা হচ্ছে, গরুগুলো পিকআপে তুলে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল চোরেরা।
কিন্তু মাইকে ঘোষণা শুনে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থান থেকে সাতটি গরুই উদ্ধার করে মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেন।
স্থানীয়দের ধারণা, চোরেরা গরুগুলো পিকআপে তোলার আগেই মাইকে ঘোষণা হওয়ায় তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় চোরেরা গরু বাঁধা মেহগনি গাছের পাশে একটি গামছা ও পানির বোতল ফেলে যায়।
স্থানীয়রা জানান, কেশবপুরে সাম্প্রতিক সময়ে গরু চুরির ঘটনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
একদিকে টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষ পানিবন্দি ও দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে রাতের আঁধারে কৃষকের গবাদিপশু চুরি হওয়ায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যশোর-চুকনগর মহাসড়ক ব্যবহার করে চোরেরা দ্রুত গরু নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়।
তাই মহাসড়কসহ গরু চুরিপ্রবণ এলাকায় রাতের টহল জোরদার এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন