
উপকূলীয় প্রতিনিধি: সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ১০ লক্ষ বীজ রোপণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নে ৫০ হাজার দেশীয় প্রজাতির বীজ রোপণ করা হয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১১টায় শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধূমঘাট তেরকাটি চক সংলগ্ন মাটির রাস্তায় এসব বীজ রোপণ করা হয়।
শাপলা নারী উন্নয়ন সংগঠন ও সূর্যমুখী নারী উন্নয়ন সংগঠন আয়োজিত এই কর্মসূচিতে স্থানীয় জনগোষ্ঠী, কৃষক-কৃষাণী, যুব ও কিশোরীরাসহ সংগঠিত জনসংগঠনের শতাধিক সদস্য অংশগ্রহণ করেন।
এসময় রাস্তার দুইপাশে তাল, নিম, বাবলা, জাম, আমসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির বীজ রোপণ করা হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শ্যামনগরে ১০ লক্ষ বীজ রোপণের উদ্যোগের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নে এক লাখেরও বেশি দেশীয় প্রজাতির বীজ রোপণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম ধাপে ৫০ হাজার বীজ রোপণ করা হয়। কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানায় গ্রীন কোয়ালিশন, শরুব ইয়ুথ টিম, শ্রীফলাকাঠি কৃষক উন্নয়ন সংগঠন, শীলতলা দোয়েল কৃষক উন্নয়ন সংগঠন, শীলতলা স্বনির্ভর যুব সংঘ এবং দীঘির পাড় কৃষক-কৃষাণী উন্নয়ন সংগঠনের সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত কৃষাণী অল্পনা রানী মিস্ত্রি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রীন কোয়ালিশনের ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন সভাপতি জিল্লুর রহমান। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ইউপি সদস্য সেলিনা বেগম, রাবেয়া পারভীন, কৃষাণী সুষমা রানী, গোবিন্দ মণ্ডল, হাসিনা বিবি ও মিতা রানী।
সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত কৃষাণী অল্পনা রানী মিস্ত্রি বলেন, উপকূলের প্রকৃতি আমাদের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড় ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আমাদের বেশি বেশি দেশীয় গাছ লাগাতে হবে। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, এগুলোকে বড় করে তুলতে হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ উপকূল রেখে যেতে হবে। সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আমাদের এই উদ্যোগ উপকূলের প্রতিটি এলাকায় ছড়িয়ে দিতে হবে।
হাসিনা বিবি বলেন, উপকূলে প্রতিবছর বজ্রপাতের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে খোলা মাঠ ও কৃষিজমিতে কাজ করা মানুষজন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তালগাছ বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আমরা দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছি। তাই উপকূলের রাস্তার পাশে, মাঠের আইলে ও খোলা জায়গায় বেশি বেশি তালবীজ রোপণ করতে হবে। আজকের এই তালবীজ একদিন বড় গাছে পরিণত হয়ে আমাদের মানুষ ও প্রকৃতির জন্য আশ্রয় তৈরি করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
স্থানীয় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড় ও পরিবেশগত নানা সংকট মোকাবিলায় দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে তাল, নিম, বাবলা, জাম ও আমের মতো দেশীয় প্রজাতির বিস্তার স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এস এম জান্নাতুল নাঈম, স ম ওসমান গনি সোহাগ ও আল মামুন।
মন্তব্য করুন