
শ্যামনগর প্রতিনিধি: ঘেরের বেড়িতে সারি সারি মিষ্টি কুমড়ার গাছ। লতার ফাঁকে এখনও ঝুলছে কুমড়া। কাছে যেতেই দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি গাছের গোড়া কেটে দেওয়া হয়েছে। কোথাও পড়ে আছে লতা, কোথাও কাটা গাছের সঙ্গে ঝুলছে ফল।
এভাবেই রাতের আধারে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের কৃষক আশরাফুল হোসেনের ৩০০ কুমড়া গাছ কেটে সাবাড় করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন আশরাফুল।
ঘটনাটি উপজেলার ভূরুলিয়া ইউনিয়নের চালিতাঘাটা গ্রামের।
জানা গেছে, কৃষক আশরাফুল অন্যের পাঁচ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ঘেরের বেড়িতে তিন শতাধিক মিষ্টি কুমড়ার গাছ রোপণ করেন। প্রতিটি গাছে ১২ থেকে ১৫টি কুমড়া ধরেছিল। কিন্তু রাতের আঁধারে গাছের গোড়া কেটে দেওয়ায় তার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে।
আশরাফুলের অভিযোগ, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাঁর ঘেরের বেড়িতে লাগানো তিন শতাধিক মিষ্টিকুমড়ার গাছ কেটে দেন। এতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
আশরাফুল ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করেন। এর পাশাপাশি পাঁচ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করছেন। ঘেরের বেড়ি ফাঁকা না রেখে বর্ষাকালীন সবজি হিসেবে মিষ্টিকুমড়া চাষ করেছিলেন। নিজের শ্রমের পাশাপাশি চাষে অর্থও ব্যয় করেছেন। ভালো ফলনের আশায় ভেবেছিলেন কুমড়া বিক্রির টাকা দিয়ে সংসারের প্রয়োজন মেটাবেন এবং কিছু দেনা পরিশোধ করবেন। কিন্তু সেই হিসাব এখন আর মিলছে না।
আশরাফুল বলেন, গাছগুলো ভালো হয়েছিল। আর কিছুদিন পর কুমড়া বিক্রি করতে পারতাম। এখন বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) শ্যামনগর থানায় অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আশরাফুল। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
থানায় দেওয়া অভিযোগে আশরাফুল উল্লেখ করেন, ঘটনার রাতে তাঁর দুই প্রতিবেশী সাইফুল সরদার ও রাসেল সরদার ঘেরের পাশে তাঁর পূর্বপরিচিত দুই ব্যক্তিকে দেখতে পান। এ কারণে ওই ব্যক্তিদের সন্দেহ করছেন তিনি। তবে তাঁদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন এবং এ বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো নিশ্চিত প্রমাণও নেই।
ভূরুলিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনারুল হক বলেন, মানুষের মধ্যে বিরোধ থাকতে পারে। কিন্তু কারও ফসল নষ্ট করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন