
ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস লিখলেন তাওহীদ হৃদয়। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে বিদেশের মাটিতে ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছেন ডানহাতি এই ব্যাটার।
দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে পচেফস্ট্রুমে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে খেলতে নেমে অনন্য এই কীর্তি গড়েন তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের দেওয়া ৫১২ রানের বিশাল সংগ্রহ টপকে বাংলাদেশ যখন লিড নেওয়ার পথে, তখন পুরো ইনিংসের নেতৃত্ব দেন হৃদয়।
লিড এনে দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ৩০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়।
এর আগে হৃদয় এই ম্যাচেই নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন। তৃতীয় দিনের শেষেও তিনি অপরাজিত ছিলেন।
চতুর্থ দিন সকালে টেলেন্ডারদের নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান। মধ্যাহ্ন বিরতিতে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ৫৭৬ রান। তখন হৃদয় অপরাজিত ছিলেন ২৭৪ রানে।
লাঞ্চের পরও থামেননি হৃদয়। ধীরে ধীরে এগিয়ে যান কাঙ্ক্ষিত ট্রিপল সেঞ্চুরির দিকে। শেষ পর্যন্ত ৩০০ রানের মাইলফলক ছুঁয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নিজের নামটি সবার আগে লিখে ফেলেন তিনি।
হৃদয়ের এই ইনিংসের গুরুত্ব শুধু সংখ্যায় নয়, ম্যাচ পরিস্থিতির কারণেও অনেক বেশি। দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের ৫১২ রানের জবাব দিতে নেমে শুরুতে কয়েকটি উইকেট হারালেও দলকে ঘুরে দাঁড় করান হৃদয়। দীর্ঘ সময় উইকেটে থেকে একদিকে দলের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়েছেন, অন্যদিকে ব্যক্তিগত অর্জনকেও নিয়ে গেছেন অভূতপূর্ব উচ্চতায়।
দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এমন ইনিংস হৃদয়ের ব্যাটিং সামর্থ্যেরও বড় প্রমাণ। গতি ও বাউন্সের কন্ডিশনে দীর্ঘ সময় ব্যাট করে ৩০০ রান করা সহজ নয়। ধৈর্য, নিয়ন্ত্রণ ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের দারুণ সমন্বয়ে সেই কঠিন কাজটিই করে দেখিয়েছেন তিনি।
জাতীয় দলের হয়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ইতোমধ্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন হৃদয়। এবার লাল বলের ক্রিকেটে এমন ঐতিহাসিক ইনিংস খেলে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণের দাবিটাও আরও জোরালো করলেন তিনি।
মন্তব্য করুন