বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৩ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

ওবায়দুল কাদের-আরাফাতসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

ডেস্ক রিপোর্ট: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্য আসামিরা হলেন—দলটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টায় এ রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন, বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, এ মামলার তদন্তকাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৮ জুন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর প্রতিবেদন জমা দেন কর্মকর্তারা। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আকারে দাখিল করা হয়।

একই দিন অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। ধাপে ধাপে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, স্টেট ডিফেন্স নিয়োগসহ শুনানি শেষে চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়।

তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট সাক্ষ্য দিয়েছেন ২৯ জন। এর মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর আগে দেওয়া জবানবন্দিও রয়েছে। সবমিলিয়ে ২ আগস্ট সাক্ষ্যপর্ব সম্পন্ন হয়। এর দুই দিন পর তথা ৪ আগস্ট থেকেই যুক্তিতর্ক শুরু করে প্রসিকিউশন। ৯ কার্যদিবসে প্রসিকিউশন ও স্টেট ডিফেন্সের এ ধাপ শেষ হয় ১৭ আগস্ট। আর ওই দিনই রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। রায় ঘোষণার তারিখ দেওয়া হয় ১৫ সেপ্টেম্বর। এ মামলায় মোট ১২৩ সিরিজ ডকুমেন্টস প্রদর্শন করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জবির পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে ‌‘অসন্তোষ’

কয়রা উপজেলা কৃষক দলের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব হলেন ইব্রাহিম সানা

অবশেষে বকেয়া বুঝে পেলো সাংবাদিক পুলকের পরিবার

ওবায়দুল কাদের-আরাফাতসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

ভারত থেকে পাইপলাইনে এলো প্রায় ৪ হাজার টন ডিজেল

সাতক্ষীরা কমিউনিটির কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন: উম্মে ফুয়ারা সভাপতি, জাহিদ সম্পাদক

শ্যামনগরে বিআরটিসি বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে যুবক নিহত

সাতক্ষীরা সদর থানার প্রাচীর সংলগ্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বাধা কোথায়?

ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড, পদদলিত হয়ে নিহত ৬

ধুলিহরে চেয়ারম্যান প্রার্থী তাকদীর আহসান রুবেলের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা

১০

কাকডাঙ্গা উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গায়ে নির্মিত হচ্ছে পোল্ট্রি খামার, বন্ধের দাবি

১১

সাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত মানবাধিকার বিষয়ক সাংবাদিক প্রশিক্ষণ

১২

বিনা জামানতে তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন কর্মসূচি চালু

১৩

দেশে ‘বৈদ্যুতিক ট্রেন’ চালুর ঘোষণা, চলবে যেসব রুটে

১৪

নতুন বিয়েতে আগের বিয়ের তথ্য কাবিননামায় দিতে হাইকোর্টের রুল

১৫

বিকেলের দিকে শরীর নিস্তেজ লাগে? জেনে নিন সম্ভাব্য কারণ ও করণীয়

১৬

ঢাকার ২ সিটিতে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা

১৭

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অনুদানের চেক পেল ৫০টি মহিলা সমিতি

১৮

বাংলাদেশের জালে উত্তর কোরিয়ার ১০ গোল

১৯

শাস্ত্রীয় ভরতনাট্যম কর্মশালা সম্পন্ন করলেন সাতক্ষীরার শায়নী

২০
error: Content is protected !!