

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রয়োজন ছিল না, তারপরও প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নির্মাণ করা হয়েছে একটি এস্কেলেটর লিফট। ২০১৮ সালে নির্মাণের পর থেকে অদ্যাবধি চালু করা হয়নি এস্কেলেটরটি। শুধুমাত্র ব্যবহার না করার কারণে এস্কেলেটরটি দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একই সাথে সংস্কারের অভাবে বন্ধ হয়ে আছে তিনটি প্যাসেঞ্জার লিফট। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে একাধিকবার লিখিতভাবে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। ফলে সরকারি অর্থ যেমন কোনো কাজেই আসছে না, তেমনি ১০তলা হাসপাতালটিতে উঠানামায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কুদরত-ই খোদা জানান, ২০১৮ সালের দিকে চিকিৎসক, সেবা প্রার্থী ও দর্শনার্থীদের জন্য স্থাপন করা হয় ১টি এস্কেলেটর ও ১০টি প্যাসেঞ্জার লিফট। এরমধ্যে নির্মাণের পর থেকে এস্কেলেটর লিফটটি আজও চালু হয়নি এবং ১০টি প্যাসেঞ্জার লিফট এর মধ্যে ৩টি বিভিন্ন ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। এস্কেলেটর লিফটটি চালু এবং বন্ধ ৩টি প্যাসেঞ্জার মেরামত করার জন্য একাধিকবার স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে লিখিতভাবে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, সর্বশেষ গত ৫ জুলাই পুনরায় লিখিতভাবে জানানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। ওই পত্রে এস্কেলেটর লিফটটি চালু, বন্ধ ৩টি প্যাসেঞ্জার লিফট মেরামত ও ১১টি মেইন্টেইনেন্স কাজের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু অদ্যবধি কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
তিনি জানান, ৫০০ শয্যা হাসপাতালটিতে প্রতিদিন বহির্বিভাগ ও ভর্তি রোগীর চিকিৎসা করাতে দেড় থেকে ২ হাজার দর্শনার্থী লিফট ব্যবহার করেন। কিন্তু ৩টি লিফট বন্ধ থাকার কারণে জনসাধারণের পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সদের হাসপাতালে উঠানামা করতে মুশকিল হচ্ছে। তাছাড়া দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এস্কেলেটর লিফটটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
এবিষয়ে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে, যেখানে ১০টি প্যাসেঞ্জার লিফট আছে সেখানে এস্কেলেটর লিফট নির্মাণের প্রয়োজন ছিলো না। তারপরও কি ত্রুটির কারণে এতদিন চালু হয়নি তা টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় জানায়, ২০১৮ সালে ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রোপার্টিস ডেভলপমেন্ট লিমিডেট এর মাধ্যমে সাড়ে ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১টি এস্কেলেটর লিফট স্থাপন করা হয়। কিন্ত অজানা ত্রুটির কারণে আজো তা চালু করা যায়নি। দীর্ঘ ৮ বছর যাবত মূল্যবান ইলেক্ট্রিক যন্ত্রটি চালু না করায় সেটি নষ্ট হতে চলেছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা খুলনা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এ.কে হাসানুজ্জামান জানান, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এস্কেলেটর এর বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে তিনি জানতে পেরেছেন এটি অপ্রয়োজনীয়। যেখানে ১০টি লিফট স্থাপন করা হয়েছে, সেখানে প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে এস্কেলেটর লিফট স্থাপনের দরকার ছিল না। তারপরও ইলেক্টিশিয়ানের মাধ্যমে পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাছাড়া ৩টি প্যাসেঞ্জার লিফট ও অন্যান্য মেইন্টেইনেন্স এর কাজগুলো দ্রুত করা হবে।
মন্তব্য করুন