
ডেস্ক রিপোর্ট: রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুর কেলেঙ্কারিতে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম জড়ানোর পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি পদত্যাগ করায় উপ-নির্বাচনের ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
তবে সংসদের সাধারণ আসনের সদস্যরা সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার রাখলেও জামায়াত জোট উপ-নির্বাচনে ভোট দিতে পারবে না।
এক্ষেত্রে বিএনপি জোটের ভোটেই নির্বাচিত হয়ে আসনটি পূরণ করবেন সংশ্লিষ্ট প্রার্থী।
সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট আধাসরকারি প্রতিষ্ঠান রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে দুষ্কৃতকারীদের ভাঙচুরকাণ্ডে বিএনপি জোট থেকে সংরক্ষিত আসনের এমপি মিষ্টির নাম জড়িয়ে যায়।
এতে বিভিন্ন মহল থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। পরে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে পদত্যাগপত্র জমা দেন স্পিকারের কাছে।
পরবর্তীতে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে সংসদ সচিবালয়, যার অনুলিপি নির্বাচন কমিশন সচিবকেও পাঠানো হয়। ইসি কর্মকর্তারা জানান, সংবিধান ও সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচন আইন অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার নব্বই
দিনের মধ্যে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এক্ষেত্রে আসনটি শূন্য হলেও বিএনপির ঘরেই যাবে।
আইনের ২৭ ধারায় বলা হয়েছে, সংসদ ভেঙে যাওয়া ব্যতীত অন্য কোনো কারণে কোনো সংরক্ষিত নারী আসন শূন্য হলে, অনুরূপ শূন্য হওয়ার নব্বই দিনের মধ্যে ওই শূন্য আসনটি পূরণ করার জন্য উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে শর্ত থাকে যে, যে রাজনৈতিক দল বা জোটের অনুকূলে ওই আসনটি বণ্টন করা হয়েছিল, আসনটি সেই রাজনৈতিক দল বা জোটের মনোনীত প্রার্থী বা প্রার্থীগণের মধ্য থেকে ওই দল বা জোটের ভোটারগণ দ্বারা এই আইনের বিধান অনুযায়ী পূরণ করতে হবে।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, এই বিধান অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ হওয়ার পরপরই সাধারণ আসনের ভিত্তিতে দল বা জোটগুলোর অধীন যে আসন সংখ্যা বণ্টন করে দেওয়া হয়েছিল, সে মোতাবেক শূন্য আসনটি বিএনপি জোটের ছিল। এখনও তাই থাকবে। এক্ষেত্রে নতুন করে উপ-নির্বাচন হলে সেখানে কেবল বিএনপি জোট প্রার্থী দিতে পারবে এবং তারাই ভোট দেবেন। তবে একাধিক প্রার্থী দিলেই কেবল ভোট হবে। আর যদি একজন প্রার্থী দেয়, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থী নির্বাচিত হবেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোট হয়। শেরপুর-৩ আসনে একজন বৈধ প্রার্থী মারা যাওয়ায় ভোট স্থগিত থাকে। এছাড়া চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসন দুটি আইনি জটিলতায় শূন্য থাকে।
সেই হিসেবে বিএনপির সংসদে প্রতিনিধি ছিল ২০৮ জন, এনসিপির ছয় জন, জামায়াতের ৬৮ জন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আসন পেয়েছে ২টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আসন পেয়েছে ১টি, গণঅধিকার পরিষদ আসন পেয়েছে ১টি। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ১ আসনে জয় লাভ করেছে। গণসংহতি আন্দোলন পেয়েছে ১ আসন। খেলাফত মজলিস পেয়েছে ১টি আসন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছে ৭টি আসন।
আইন অনুযায়ী, কোনো দল সংসদে যতগুলো আসন পায়, সেই সংখ্যাকে ৫০ দিয়ে গুণ করে প্রাপ্ত ফলাফলকে ৩০০ দিয়ে ভাগ করলে যে ফল আসে, সেটিই হচ্ছে সংশ্লিষ্ট দল বা জোটের সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা। আইনের এই নিয়ম অনুসারে ইসি সচিব আখতার আহমেদ আসন বণ্টন করে জানান, বিএনপি জোট ৩৬টি সংরক্ষিত আসন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোট ১৩টি আসন ও স্বতন্ত্রদের মোর্চা একটি আসন পাবে। আর সেই অনুযায়ী, নির্বাচনের মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী আসন পূরণ করা হয়। কোনো দলই একাধিক প্রার্থী না দেওয়ায় ভোট হয়নি। ফলে ৫০ জন নারী এমপিই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, মিষ্টি পদত্যাগ করায় বিএনপি জোটের জন্য বণ্টনকৃত আসন সংখ্যায় কোনো পরিবর্তন হবে না। তাই এই আসনের উপ-নির্বাচনে বিএনপি জোটই প্রার্থী দেবে। আর একাধিক প্রার্থী দিলে তাদের সংসদ সদস্যরাই ভোট দিয়ে একজনকে নির্বাচিত করবেন।
এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আইন অনুযায়ী, আসন শূন্য হওয়ার নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।
মন্তব্য করুন