
ডেস্ক রিপোর্ট: দুই বছর বন্ধ থাকার পর আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে সাতক্ষীরার প্রাচীন ঐতিহ্য গুড় পুকুরের মেলা।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ।
ভাদ্র মাসের শেষ দিনে মনসা পূজাকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল এলাকায় গুড় পুকুরের পাড়ে প্রাচীন বটবৃক্ষের নিচে অন্তত ৪শ বছর আগে এ মেলার সূচনা হয় বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
মেলা ঘিরে সাতক্ষীরাবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় আসছেন। এবারের মেলায় প্রায় ২০০ টি স্টলে বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। রয়েছে পোশাক, গৃহস্থালি সামগ্রী, খেলনা, খাবারসহ নানা ধরনের পণ্যের দোকান। শিশু-কিশোর ও দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য মেলায় রাখা হয়েছে নাগরদোলা, দোল নৌকা, ঘোড়ার গাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের রাইড। ফলে কেনাকাটার পাশাপাশি বিনোদনেরও সুযোগ পাচ্ছেন মেলায় আসা মানুষ। এবারের গুড় পুকুরের মেলা ২০ দিনের জন্য অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী মেলার সময়সীমা আরও কিছুদিন বাড়ানো হতে পারে বলে জানা গেছে।
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ কাউসার আজিজ বলেন, ঐতিহ্যবাহী গুড় পুকুরের মেলায় সবাইকে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। মেলার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। মেলা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবকও নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজন করা ২০ দিনের এই মেলা সাতক্ষীরার ঐতিহ্যকে সারা বাংলাদেশের কাছে তুলে ধরবে।
সাতক্ষীরার জেলা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম বলেন, ঐতিহ্যবাহী গুড় পুকুরের মেলাকে নির্বিঘ্ন করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মেলায় পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। তিনি বলেন, মেলাটি সারাদেশের কাছে একটি মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন। নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দর্শনার্থীরা যাতে মেলায় আসতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন বিশ্বাস, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহবায়ক এইচ এম রহমতুল্লাহ পলাশ, সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, সাতক্ষীরা পৌরসভার সিইও মোঃ আসাদুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অর্ণব দত্ত প্রমুখ। উদ্বোধন শেষে অতিথিবৃন্দ মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন।
দীর্ঘ দুই বছর পর মেলা ফিরে আসায় ব্যবসায়ী, দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য। লোকজ ঐতিহ্য, কেনাকাটা, বিনোদন ও মানুষের মিলনকে ঘিরে আবারও মুখর হয়ে উঠেছে সাতক্ষীরা শহর।
প্রসঙ্গত, ২০০২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মেলা চলাকালীন সার্কাস প্যান্ডেলে এবং সাতক্ষীরার রকসি সিনেমা হলে দুর্বৃত্তরা বোমা হামলা চালায়। এতে নিহত হন তিনজন। আহত হন অর্ধশতাধিক। এরপর থেকে গুড়পুকুরের মেলার ঐতিহ্য ম্লান হতে থাকে। ৪ বছর বন্ধ থাকার পর সীমিত আকারে আবারও মেলা চালু হয়। এরপর ২০২৪ সাল থেকে আবারও বন্ধ হয়ে যায় গুড়পুকুরের মেলা। তবে দু’বছর বন্ধ থাকার পর আবার এ মেলা চালু হওয়ায় বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মাঝে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।
মন্তব্য করুন