বাংলাদেশ, শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ | সময়:
admin
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

সাইবার নিরাপত্তা আইন সাংবাদিক নির্যাতনের হাতিয়ার : সম্পাদক পরিষদ

ডেস্ক রিপোর্ট: সাইবার নিরাপত্তা আইনকে সাংবাদিক নির্যাতনের হাতিয়ার বলে উল্লেখ করেছে সম্পাদক পরিষদ।

বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) সম্পাদক পরিষদ সভাপতি মাহফুজ আনাম ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ডিজিটাল বা সাইবার মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধের শাস্তি হোক। কিন্তু সাইবার নিরাপত্তা আইনের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বেশির ভাগ ধারা সন্নিবেশিত থাকায় এই আইন কার্যকর হলে পূর্বের মতো তা আবারও সাংবাদিক নির্যাতন এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের হাতিয়ার হিসেবে পরিণত হবে। তাই সাইবার নিরাপত্তা আইনকে নিবর্তনমূলক আইন বলা ছাড়া নতুন কিছু হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না বলে মনে করে সম্পাদক পরিষদ।

প্রবল আপত্তির মধ্যেই সম্প্রতি আলোচিত ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩’ জাতীয় সংসদে পাস হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে সম্পাদক পরিষদ। এর মাধ্যমে এই আইনটি সম্পর্কে সম্পাদক পরিষদসহ সংবাদমাধ্যমের অংশীজন এত দিন যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে আসছিলেন, সেটা যথার্থ বলে প্রমাণিত হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন রহিত করে নতুন আইনে শাস্তি কিছুটা কমানো এবং কিছু ধারার সংস্কার করা হয়েছে। তাই শুধু খোলস পরিবর্তন ছাড়া সাইবার নিরাপত্তা আইনে গুণগত বা উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন নেই। বাক্‌স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা—এই বিষয়গুলো খর্ব করার মতো অনেক উপাদান এ আইনে রয়েই গেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৯টি ধারা (৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩) স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ভীষণভাবে ক্ষতি করবে বলে সংশোধনের দাবি জানিয়েছিল সম্পাদক পরিষদ। এখন সাইবার নিরাপত্তা আইনে সাতটি ধারায় সাজা ও জামিনের বিষয়ে সংশোধনী আনা হয়েছে। কিন্তু অপরাধের সংজ্ঞা স্পষ্ট করা হয়নি, বরং তা আগের মতোই রয়ে গেছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২১ ও ২৮ ধারা দুটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানির হাতিয়ার ও বিভ্রান্তিকর হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর থেকে ধারা দুটি বাতিলের আহ্বান জানানো হয়েছিল। শাস্তি কমিয়ে এই দুটি বিধান রেখে দেওয়ায় এর অপপ্রয়োগ ও খেয়ালখুশিমতো ব্যবহারের সুযোগ থেকেই যাবে।

এতে আরও বলা হয়, আইনটি কার্যকর হলে আইনের ৪২ ধারা অনুযায়ী বিনা পরোয়ানায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে তল্লাশি, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সার্ভারসহ সবকিছু জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা পাবে পুলিশ। এর মাধ্যমে পুলিশকে কার্যত একধরনের ‘বিচারিক ক্ষমতা’ দেওয়া হয়েছে, যা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। আইনের চারটি ধারা জামিন অযোগ্য রাখা হয়েছে। সাইবার-সংক্রান্ত মামলার সর্বোচ্চ শাস্তি ১৪ বছরের জেল ও কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সাতক্ষীরার দায়িত্ব পেলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান

এখন জামিন চাই না, বাসায় যাওয়ার তাড়া নেই: ট্রাইব্যুনালে দীপু মনি

সেপ্টেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল: সিইসি

সালিশে পুলিশের উপস্থিতিতে হত্যার হুমকির অভিযোগ

কালিগঞ্জে গবাদিপশুর রোগ প্রতিরোধ ও খামারিদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে উঠান বৈঠক

কালিগঞ্জে সার ব্যবস্থাপনা আইন লঙ্ঘনে জরিমানা

সাতক্ষীরায় জাসাস’র সাংগঠনিক আলোচনা

আশাশুনিতে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা

নেপালে বন্যায় নিহত বেড়ে ৩৫৯

দৃষ্টিপাত সম্পাদক জিএম নুর ইসলামের মৃত্যুতে তালা প্রেসক্লাবের শোক

১০

কয়রায় ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট মনিটরিং সভা

১১

দ্রব্যমূল্য, আইন-শৃঙ্খলা, বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সংসদে রুমিন ফারহানার ক্ষোভ

১২

সাতক্ষীরা ডিবি গার্লস হাইস্কুলে পবিত্র ঈদ-ই মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন

১৩

জমির বিরোধ মেটাতে শালিস, পরে চেয়ারম্যানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

১৪

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ, ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত স্পিকার

১৫

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাতক্ষীরায় প্রস্তুতি সভা

১৬

দৃষ্টিপাত সম্পাদক জিএম নুর ইসলামের মৃত্যুতে সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের শোক

১৭

দৈনিক দৃষ্টিপাত সম্পাদক জিএম নুর ইসলাম আর নেই

১৮

৩০ আগস্ট সাতক্ষীরা সফরে আসছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

১৯

মৃত্যুর ৫০ বছর পরও বাঙালির চেতনায় অমর নজরুল

২০
error: Content is protected !!