বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
৭ কার্তিক ১৪৩৩ | সময়:
admin
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

সাইবার নিরাপত্তা আইন সাংবাদিক নির্যাতনের হাতিয়ার : সম্পাদক পরিষদ

ডেস্ক রিপোর্ট: সাইবার নিরাপত্তা আইনকে সাংবাদিক নির্যাতনের হাতিয়ার বলে উল্লেখ করেছে সম্পাদক পরিষদ।

বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) সম্পাদক পরিষদ সভাপতি মাহফুজ আনাম ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ডিজিটাল বা সাইবার মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধের শাস্তি হোক। কিন্তু সাইবার নিরাপত্তা আইনের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বেশির ভাগ ধারা সন্নিবেশিত থাকায় এই আইন কার্যকর হলে পূর্বের মতো তা আবারও সাংবাদিক নির্যাতন এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের হাতিয়ার হিসেবে পরিণত হবে। তাই সাইবার নিরাপত্তা আইনকে নিবর্তনমূলক আইন বলা ছাড়া নতুন কিছু হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না বলে মনে করে সম্পাদক পরিষদ।

প্রবল আপত্তির মধ্যেই সম্প্রতি আলোচিত ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩’ জাতীয় সংসদে পাস হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে সম্পাদক পরিষদ। এর মাধ্যমে এই আইনটি সম্পর্কে সম্পাদক পরিষদসহ সংবাদমাধ্যমের অংশীজন এত দিন যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে আসছিলেন, সেটা যথার্থ বলে প্রমাণিত হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন রহিত করে নতুন আইনে শাস্তি কিছুটা কমানো এবং কিছু ধারার সংস্কার করা হয়েছে। তাই শুধু খোলস পরিবর্তন ছাড়া সাইবার নিরাপত্তা আইনে গুণগত বা উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন নেই। বাক্‌স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা—এই বিষয়গুলো খর্ব করার মতো অনেক উপাদান এ আইনে রয়েই গেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৯টি ধারা (৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩) স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ভীষণভাবে ক্ষতি করবে বলে সংশোধনের দাবি জানিয়েছিল সম্পাদক পরিষদ। এখন সাইবার নিরাপত্তা আইনে সাতটি ধারায় সাজা ও জামিনের বিষয়ে সংশোধনী আনা হয়েছে। কিন্তু অপরাধের সংজ্ঞা স্পষ্ট করা হয়নি, বরং তা আগের মতোই রয়ে গেছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২১ ও ২৮ ধারা দুটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানির হাতিয়ার ও বিভ্রান্তিকর হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর থেকে ধারা দুটি বাতিলের আহ্বান জানানো হয়েছিল। শাস্তি কমিয়ে এই দুটি বিধান রেখে দেওয়ায় এর অপপ্রয়োগ ও খেয়ালখুশিমতো ব্যবহারের সুযোগ থেকেই যাবে।

এতে আরও বলা হয়, আইনটি কার্যকর হলে আইনের ৪২ ধারা অনুযায়ী বিনা পরোয়ানায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে তল্লাশি, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সার্ভারসহ সবকিছু জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা পাবে পুলিশ। এর মাধ্যমে পুলিশকে কার্যত একধরনের ‘বিচারিক ক্ষমতা’ দেওয়া হয়েছে, যা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। আইনের চারটি ধারা জামিন অযোগ্য রাখা হয়েছে। সাইবার-সংক্রান্ত মামলার সর্বোচ্চ শাস্তি ১৪ বছরের জেল ও কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পাটকেলঘাটায় ৮শ লিটার নারকেল তেল জব্দ, যাচাই হচ্ছে ভেজাল কি না

১

কয়রায় সরকারি জমি নিয়ে সংঘর্ষ, চিকিৎসাধীন পল্লী চিকিৎসকের মৃত্যু

২

বন্ধ হচ্ছে টুজি, চাপে বাটন ফোন

৩

কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে গোসলে নেমে তিন পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২

৪

কালিগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

৫

ডুমুরিয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩

৬

ইছামতিতে প্রতিমা বিসর্জন, নদীতে নামতে পারেনি বাংলাদেশিরা

৭

যুক্তরাষ্ট্রে ফের চালু হচ্ছে ডিভি লটারি?

৮

আবারও অবরোধ ঘোষণা, পর্যটকদের সাজেক ছাড়ার আহ্বান

৯

শার্শায় ৪ কোটি টাকা মূল্যের ১৮টি স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক

১০

‌‘সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে যাবে মিডিয়া কর্মী’ ডা. মিজানুর রহমানের মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক

১১

প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানোর সময় প্রটোকল ভঙ্গ, রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ওএসডি

১২

এবার হবে ‘ওয়ার্ম উইন্টার’, শীতের ব্যাপ্তিও কমবে

১৩

সাতক্ষীরায় অ-১৪ ফ্রি সাঁতার প্রশিক্ষণ শুরু ২৪ অক্টোবর, অংশ নেওয়ার আহবান

১৪

জীবনানন্দের ‘বনলতা’র খোঁজে || ‎তারিক ইসলাম

১৫

তালায় তিন দিনে ৭০পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিব

১৬

টুপটাপ রিসোর্ট ও আমাদের দায়হীনতার সংস্কৃতি || মো. মামুন হাসান

১৭

শ্রীউলার ৮টি পূজামণ্ডপে যুবদল নেতা রাফিউলের আর্থিক সহযোগিতা

১৮

পয়সা দিচ্ছে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার, অস্থিরতার চেষ্টা করছে আরেক পক্ষ: তারেক রহমান

১৯

বিষ্ণুপুরে আট দুর্গামন্দিরে অনুদানের চেক প্রদান

২০