
শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে সালিশি বৈঠকে পুলিশের উপস্থিতিতে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোঃ মোকসেদ আলী ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে শ্যামনগর সদরে এ সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ ঘটনায় বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে অভিযোগকারী দাবি করেছেন।
অভিযোগকারী নকিপুর গ্রামের বাসিন্দা সুজা মাহমুদের দাবি, তাঁদের কেনা ও দীর্ঘদিনের ভোগদখলে থাকা জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে মোকসেদ আলী ও তাঁর সহযোগীরা বাধা দেন। এ ঘটনায় তিনি মোকসেদ আলীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেল পাঁচটার দিকে সুজা মাহমুদ তাঁদের তফসিলভুক্ত জমিতে চাষ করতে গেলে মোকসেদ আলীসহ কয়েকজন সেখানে যান। তাঁরা চাষাবাদে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। প্রতিবাদ করলে মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়ে তাঁকে জমি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে শ্যামনগরে সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ ছামিউল আযম মনির, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা বিষ্ণুপদ মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক কিরণ সরকার চ্যাটার্জী, আইনজীবী আজিবুর রহমান ও মনসুর আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং দুই পুলিশ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগকারীর ভাষ্য, সালিশে বিরোধপূর্ণ জমির মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হলেও মোকসেদ আলী কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এ সময় বৈঠকে পুলিশের উপস্থিতিতেই তিনি (মোকসেদ আলী) তাঁকে (সুজা মাহমুদ) হুমকি দেন।
সুজা মাহমুদের অভিযোগ, সালিশ চলাকালে মোকসেদ আলী বলেন, এটা সরকারি জমি, আমি সরকারি প্রতিনিধি, আমি ভূমিহীন সভাপতি। জমিতে গেলে পিঠে বস্তা বেঁধে যাস, জীবন নিয়ে ফিরতে পারবি না। এ ছাড়া তিনি (মোকসেদ আলী) দাবি করেন, সরকারি মাফজরিপের মাধ্যমে ৭৫৬ দাগে খাল কাটা হয়েছে এবং ৮১৯ দাগে তাঁকে (মোকসেদ আলীকে) দখল দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারী সুজা মাহমুদ বলেন, আমরা জমিটি কিনে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছি। এখন সেখানে চাষ করতে গেলে বাধা দেওয়া হচ্ছে। সালিশে পুলিশের সামনে আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
তিনি বলেন, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে। যেকোনো সময় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে। এ কারণে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
তবে সুজা মাহমুদের করা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোঃ মোকসেদ আলী। তিনি নিজেকে ‘ভূমিহীন নেতা’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, তিনি ভূমিহীনদের পক্ষে কাজ করেন। তাঁর দাবি, বিরোধপূর্ণ জমিটি সরকারের এবং ওই জমি সরকার থেকে ভূমিহীনদের মধ্যে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে।
মোকসেদ আলী আরও দাবি করেন, বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে তাঁর নিজের নামে কোনো জমি নেই। তবে তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের নামে ওই জমি বন্দোবস্ত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ দাবির সমর্থনে কোনো কাগজপত্র আছে কি না জানতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি এবং বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস.এম বিপ্লব হোসেন বলেন, জমিটি সরকারি খাসজমি কিংবা ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে কি না, তা মৌখিক দাবিতে নয়- সরকারি রেকর্ড, খতিয়ান ও বন্দোবস্তের কাগজপত্র দেখে নির্ধারণ করতে হবে। জমি নিয়ে বিরোধ থাকলেও কোনো পক্ষের হুমকি বা জোরপূর্বক দখল নেওয়ার সুযোগ নেই। প্রকৃত অবস্থা জানতে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের নথি যাচাই করা প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন