বাংলাদেশ, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৬ আশ্বিন ১৪৩৩ | সময়:
admin
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮:৫০ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

দেবহাটার নাংলা ঘোনাপাড়া রহমানিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সব পরীক্ষার্থী ভুয়া!

ডেস্ক রিপোর্ট: জেল, জরিমানা কোনো কিছুতেই থামছেন না সাতক্ষীরার দেবহাটার নাংলা ঘোনাপাড়া রহমানিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার আবুল বাশার।

শিক্ষার্থী নয় এমন এবং একই ছাত্রীদের দিয়ে বারবার পরীক্ষা দিয়ে এমন জালিয়াতি করে এমপিও ছাড়করণসহ বোর্ড পরীক্ষা সম্পন্ন করেন প্রতিষ্ঠানের সুপার বাশার।

এবারের দাখিল পরীক্ষায়ও তার প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ভুয়া পরীক্ষার্থী সাজিয়ে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এসব কাজে একাধিকবার জেল ও জরিমানা হলেও থামেনি তার অপকর্ম।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের নাংলা ঘোনাপাড়া রহমানিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসটি ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর ২০২৩ সালে এমপিও হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে ১২ জন শিক্ষক ও ৩ জন কর্মচারী সরকারি বিধিমোতাবেক বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। কিন্তু অভিযোগ আছে, যেসব শিক্ষার্থী দেখিয়ে এমপিও’র ছাড় করা হয়েছে। তা শুধু কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ রয়েছে। তারই সত্যতা মিলেছে এবারের দাখিল পরীক্ষায়। ওই প্রতিষ্ঠানটিতে ১৮ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও প্রথম দিনে ৭ জন উপস্থিত ছিল। ২য় ও ৩য় দিনের পরীক্ষায় ওই ১৮ জনের একজনও অংশ নেয়নি। পরে বিষয়টি খোঁজ নিলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

অভিযুক্ত আবুল বাশার উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের অধিবাসী ও ঘোনাপাড়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার। ২০১৯ সালের ২১ নভেম্বর ঘোনাপাড়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার আবুল বাশার জালিয়াতি করে এবতেদায়ী পরীক্ষায় ৯ ভুয়া পরীক্ষার্থীসহ ধরা পড়ে। ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরে শতাধিক বাল্যবিয়ে দেওয়ার অপরাধে ম্যারেজ রেজিস্ট্রার ও মাদ্রাসা সুপার আবুল বাশার গ্রেফতার হন। এছাড়া চেক জালিয়াতি মামলায় বেশ কিছুদিন আগে দেবহাটা থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এর আগে সে ঘোনাপাড়া রহমানিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুস সাত্তারকে কৌশলে সরিয়ে নিজে ওই পদ দখল করেন। এরপর পুরাতন শিক্ষকদের পরিবর্তে নতুন শিক্ষক নিয়োগের নামে চাকরি প্রার্থীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। জেডিসি ও দাখিল পরীক্ষায় ভুয়া পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসানো, শিক্ষক নিবন্ধনের জাল সনদ বিক্রিসহ অসংখ্য জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে আবুল বাশারের বিরুদ্ধে।

মাদ্রাসার শিক্ষার্থী রাখি জানান, এবছর নিজে পরীক্ষার্থী হয়েও সে পরীক্ষা দিতে পারেনি। রেজিস্ট্রেশনের অজুহাতে তাকে কর্তৃপক্ষ পরীক্ষায় অংশ নিতে দেয়নি। মূলত সুপার তাদের স্থলে অন্য পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পাঠান।

এদিকে মাদ্রাসার সুপার আবুল বাশারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হামিদ জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। ২য় দিনের পরীক্ষায় কেউ অংশ না নেওয়ার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বেনাপোল বন্দরে বেশী রাজস্ব আদায় হলে জাতীয় অর্থনীতির সমৃদ্ধি হবে: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

শ্যামনগরে জ্বালানি সাশ্রয়ী মাটির চুলা নির্মাণে প্রশিক্ষণ

ঐতিহ্যবাহী গুড় পুকুরের মেলা শুরু ১ অক্টোবর, প্রস্তুতি শুরু

সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের নবগঠিত কমিটিকে ওলামা দলের অভিনন্দন

যুবদলের কমিটি প্রত্যাখ্যান করে পাটকেলঘাটায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ

কয়রায় যুবদলের আনন্দ মিছিল

সাতক্ষীরা প্রাণনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সদস্যদের সংবর্ধনা

১০০ কিলোমিটারে খরচ বাড়ল ৫৭১ টাকা: বাসভাড়ায় ফের বড় ঝটকা!

দীর্ঘ ২৫ বছর পরে বেতনা নদীতে নৌকা বাইচ

বিএনপি মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে: মনিরুল হাসান বাপ্পী

১০

শিশু ক্যানসার হাসপাতাল নির্মাণে ৩৬ কোটি টাকা দান মেসির

১১

দেবহাটা ইউসিসিএ নির্বাচনে সভাপতি পদে মিজানুর রহমানের জয়

১২

সম্পদের চেয়ে সম্পর্ক দামি

১৩

প্রস্তুতি ম্যাচে সৌম্যর ব্যাটে জিতল সোহানের দল

১৪

ধারের টাকায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া, মরিয়মের মরদেহ নেওয়া হচ্ছে সাতক্ষীরায়

১৫

ডেঙ্গুতে ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি নতুন রোগী ১৬৫৫

১৬

কয়রায় শারীরিক অসুস্থতা দেখিয়ে আ.লীগ কর্মীর পদত্যাগ

১৭

এমপি গাজী নজরুল ৪ দিনের রিমান্ডে

১৮

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ৩০ জানুয়ারি

১৯

আশাশুনি প্রেসক্লাবের নতুন দ্বিতল ভবনের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন

২০