
ফেসবুকের পাতা স্ক্রল করলেই চোখে পড়ে শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও নিপীড়নের ভয়াবহ সব খবর। তিন, পাঁচ, ছয় কিংবা সাত-আট বছরের নিষ্পাপ শিশুও আজ বিকৃত মানসিকতার অপরাধীদের হাত থেকে নিরাপদ নয়। যে বয়সে একটি শিশুর খেলাধুলা, হাসি, আনন্দ আর স্বপ্ন নিয়ে বেড়ে ওঠার কথা, সেই বয়সেই তাকে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। প্রশ্ন জাগে, দিনের পর দিন এমন নৃশংস ঘটনা ঘটলেও আমরা কেন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারছি না? রাষ্ট্র কেন শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে? কেন অপরাধীরা আইনের ফাঁক গলে পার পেয়ে যাচ্ছে?
শুধু ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ, নিন্দা কিংবা কয়েক দিনের মানববন্ধন করে এই অপরাধ বন্ধ করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা, আইনের যথাযথ প্রয়োগ, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করা। একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্রকে শিশুদের নিরাপত্তায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারের সদিচ্ছা ও কার্যকর উদ্যোগ ছাড়া আইনের কঠোর বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
এক্ষেত্রে যুবসমাজকে নীরব দর্শকের ভূমিকা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পাড়া-মহল্লা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। অপরাধের তথ্য পেলে ভুক্তভোগীর পরিচয় গোপন রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে এবং বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সোচ্চার থাকতে হবে। একই সঙ্গে সরকারকে আইনের কার্যকর প্রয়োগ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে।
মনে রাখতে হবে, একটি শিশুর শৈশব নষ্ট হওয়া মানে শুধু একটি জীবনের ক্ষতি নয়, একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া। শিশুদের নিরাপত্তা কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়, এটি তাদের মৌলিক অধিকার।
লেখক: সদস্য, আমরা বন্ধু ইয়ুথ ফাউন্ডেশন

মন্তব্য করুন