
উপকূলীয় প্রতিনিধি: জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১-এ অংশ নিতে তুরস্কের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে সাতক্ষীরার শিক্ষার্থী নওশীন ইসলাম ও নুর আহমদ।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে আন্তালিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা।
নওশীন আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও খুলনা কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। তার বাবা শহীদুল ইসলাম ও মা জেসমিন দুজনই শিক্ষক। নওশীন ২০২১ সাল থেকে উপকূলের শিশুদের অধিকার ও জলবায়ু ন্যায় বিচারের আন্দোলনে যুক্ত। বর্তমানে সে ‘উপকূলীয় শিশু ফোরাম’-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি।
অন্যদিকে শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের যতীন্দ্রনগর গ্রামের বাসিন্দা নুর আহমদ সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র। তার বাবা জি. এম. রইসউজ্জামান ও মা লায়েকা খানম শিক্ষক। নুর ‘উপকূলীয় শিশু ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করছে।
এই দুই শিশু দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার বাসিন্দা, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত অনেক বেশি। তারা বেসরকারি সংস্থা জাগ্রত যুব সংঘের (জেজেএস) ‘স্ট্রেংদেনিং চিলড্রেনস ভয়েস অ্যান্ড লিডারশিপ ইন অ্যাড্রেসিং ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডিজাস্টার রিস্ক ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের মাধ্যমে কপ৩১-এ অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
নওশীন ইসলাম বলেন, উপকূলের শিশুদের দুঃখ-দুর্দশা তুলে ধরতেই তুরস্কে যাচ্ছি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের পড়াশোনা বন্ধ হয়, খাবারের অভাব হয়, বাল্যবিবাহ বাড়ে। আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যাওয়া সবার দায়িত্ব। আমি চাই উন্নত দেশের নেতারা ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের বিষয়ে আরও আন্তরিক হোক।
আর নুর বলেন, বিশ্বনেতারা নিজেদের অতীতের ভুলের দায় আমাদের ওপর যেন চাপিয়ে না দেন। যারা বেশি কার্বন নিঃসরণ করছে, তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করব।
প্রসঙ্গত, কপ৩১ আগামী ৯–২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন