বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ | সময়:
admin
২৪ মে ২০২৪, ১০:১১ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

শক্তি বাড়াচ্ছে নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড় হয়ে আঘাত হানতে পারে যেসব জেলায়

ডেস্ক রিপোর্ট: দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপটি শক্তিশালী নিম্নচাপে পরিণত হয়ে এগিয়ে আসছে বাংলাদেশের দিকে। যা আরও উত্তর-পূর্ব দিকে সরে গিয়ে আগামীকাল ২৫ মে নাগাদ ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ এ পরিণত হতে পারে। আর আজকের মধ্যেই এটি আরও ঘনীভূত হয়ে শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিম্নচাপটি যদি সত্যিই ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় তবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলা ঘিরে তাণ্ডব চালানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিমের প্রধান আবহাওয়া গবেষক খালিদ হোসেন বলেন, নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হলে এর শক্তিমত্তা ও ল্যান্ডফল সম্পর্কে আরও বিস্তারিত বলতে পারব। তবে ইতোমধ্যে এর গতিবিধি পর্যালোচনা করে যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তা হলো, এটি বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রমের আশঙ্কা তৈরি করেছে। ভারতের ওড়িশা রাজ্য থেকে শুরু করে মায়ানমারের সিত্তিই, এই রেঞ্জের যেকোনও স্থান থেকে এটি উপকূল অতিক্রম করতে পারে। তবে সর্বোচ্চ ঝুঁকি থাকতে পারে সাতক্ষীরা থেকে চট্রগ্রামের উপকূলভাগ।

তবে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এটি অনেক বেশি তীব্রতাসম্পন্ন বা সুপার সাইক্লোনে রূপ নিতে পারবে না। এর পরিবর্তে এর সর্বোচ্চ গতিবেগ ৮৫ থেকে ১৩৫ কি.মি. প্রতি ঘণ্টায় থাকতে পারে। এর সর্বোচ্চ শক্তি উপকূলভাগ অতিক্রম করার সময় পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

কোথায় আঘাত হানার সম্ভাবনা বেশি
১। সাতক্ষীরা থেকে কক্সবাজার এ সম্ভাবনা থাকবে শতকরা ৬৫ ভাগ

২। ওড়িশার উত্তর থেকে পশ্চিম বঙ্গ পর্যন্ত সম্ভাবনা ২৫ ভাগ

৩। মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে শতকরা ১০ ভাগ

বাংলাদেশে এর প্রভাব
◑ সম্ভাবনা ১ : যদি এটি বাংলাদেশের পশ্চিমে তথা কলকাতা থেকে সুন্দরবন উপকূলে আঘাত করে তবে খুলনা ও বরিশালের উপকূলবর্তী নিচু এলাকা কয়েকফুট জ্বলোচ্ছাসে প্লাবিত হতে পারে। এবং প্রায় সারাদেশেই বেশ ভালো বৃষ্টিপাত সংগঠিত হতে পারে।

◑ সম্ভাবনা ২ : আবার যদি এটি ওড়িশা থেকে কলকাতার আশেপাশে ল্যান্ডফল করে তবে এর একটা আউটার কনভারজেন্স জোন হিসেবে চট্টগ্রাম ও বরিশালে ভালো বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে। অপরদিকে খুলনা অঞ্চলে সাইক্লোনের প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে। আর দূরবর্তী প্রভাবের কারণে একটা দুর্বল প্রভাব সারা দেশেই বিদ্যমান থাকতে পারে। যার ফলে বর্ষাকালের মত টিপ টিপ বৃষ্টি হতে পারে।

◑ সম্ভাবনা ৩ : যদি এটি বরিশাল-চট্টগ্রামের মাঝামাঝি অঞ্চল দিয়ে ল্যান্ডফল করে তবে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের পাশাপাশি সারাদেশেই ভালো বৃষ্টিপাত পেতে পারে। শুধু ব্যতিক্রম হিসেবে রংপুর বিভাগে কিছুটা কম বৃষ্টি হবে।

◑ সম্ভাবনা ৪ : যদি চট্টগ্রাম থেকে টেকনাফের মাঝে দিয়ে অতিক্রম করে তবে বরিশালের দক্ষিণাঞ্চল থেকে পুরো চট্টগ্রাম বিভাগ বৃষ্টিপাতের সম্মুখীন হতে পারে।

◑ সম্ভাবনা ৫ : যদি এটি মায়ানমারে যায় তবে একমাত্র চট্টগ্রাম বিভাগের দক্ষিণাঞ্চল ব্যতীত আর কোথাও বৃষ্টিপাত হবে না।

এই আবহাওয়া গবেষক আরও মনে করেন, সিস্টেম যত বেশি শক্তিশালী হয় তত এটি কেন্দ্রের দিকে সংকুচিত হয়। ফলে আশপাশে মেঘের ব্যাসার্ধ কমে যায়। অপরদিকে যত কম শক্তিশালী হয় মেঘ তত দূরে ছড়ানো ছিটানো থাকে যা একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে।

সকাল ৬টায় যে অবস্থায় ছিল লঘুচাপটি
শুক্রবার (২৪ মে) দুপুরে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিকের সই করা আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ঘনীভূত হয়েছে। বর্তমানে এটি পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় (১৫.১° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮.৫° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।

এটি শুক্রবার (২৪ মে) সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৮২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।

দুপুর ১২টায় যে অবস্থায় ছিল লঘুচাপটি
শুক্রবার বিকেল ৫টায় আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে দ্বিতীয় বিশেষ আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমানের সই করা ওই বার্তায় জানানো হয়েছে, নিম্নচাপটি দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮০৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৪০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। যা আরও উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হতে পারে।

জারি করা হয়েছে সতর্কতা সংকেত
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একইসাথে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থান করা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। গভীর সাগরে বিচরণ না করতেও বলা হয়েছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সুন্দরবন বাজারে মাদকবিরোধী আলোচনা

ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিশু-কিশোরদের ৫৩% যৌন হয়রানির শিকার

কপোতাক্ষ তীরের উপকূল রক্ষা বাধে ভাঙন, ঝুঁকিতে জনপদ

দেবহাটায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যুগ্মসচিব আশরাফুল আলম

নওয়াপাড়াকে শিশুশ্রম ও শিক্ষাবঞ্চিতমুক্ত ইউনিয়ন ঘোষণা

রতনপুরে স্থানীয়দের সাথে এমপি রবিউল বাশারের মতবিনিময়

সাতক্ষীরা পৌরসভা: ঠিকাদারের চরম অবহেলা, বাঁশে দাড়িয়ে আছে প্রাচীর, দুর্ঘটনার শংকা

সাতক্ষীরা সাংবাদিক ইউনিয়নের কমিটি গঠন: মহিদার সভাপতি, মোশাররফ সম্পাদক

শার্শায় ইউপি সদস্য ও আ’লীগ নেতা নাসির উদ্দীন গ্রেপ্তার

তালায় দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা

১০

তালায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা

১১

নিখোঁজ ব্যবসায়ী হাকিমের সন্ধান চায় পরিবার

১২

কয়রায় বীজ বাড়ির উপকরণ বিতরণ ও অনুদানের চেক হস্তান্তর

১৩

আজ ঢাকায় আসছেন ট্রা‌ম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গর

১৪

সাগরপথে ইতালি ও গ্রীসে যাওয়ার শীর্ষে বাংলাদেশ

১৫

বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে মিয়ানমার, জানালেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

১৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সুষ্ঠু বিচার নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ

১৭

লাবসায় জলাবদ্ধতা কবলিত এলাকা পরিদর্শনে ইউএনও অর্ণব দত্ত

১৮

পুরান ঢাকার ‘শ্রমিক মিরাজ’ পরিচয়ে সীমান্ত পার হতে চেয়েছিল ডেভিড ইমন

১৯

সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ

২০
error: Content is protected !!