
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের পরও যশোরের কেশবপুরে এক ঘের মালিকের বিরুদ্ধে সরকারি সড়ক মৎস্য ঘেরের পাড় হিসেবে ব্যবহারসহ পানি নিষ্কাশনের কালভার্টের মুখ বন্ধ করে মাছের ঘের করার অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে তিনি ঘেরে গভীর নলকূপ স্থাপন করে রাত দিন পানি তুলছেন। এতে বর্ষা মৌসুমে তিনটি গ্রামের প্রায় অর্ধশত পরিবার জলাবদ্ধ হয়ে পড়বে বলে শংকা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী জানান, কেশবপুর উপজেলার রাজনগর বাকাবর্শি গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে আহম্মাদ আলী গত ৪/৫ বছর ধরে বেলকাটি, বাকাবর্শি ও মাদারডাঙ্গাসহ তিনটি গ্রামের মাঝখানে অবস্থিত ১০ বিঘা জমিতে মৎস্য ঘের করেছেন। আউট ড্রেন না রেখেই তিনটি গ্রামের মানুষের চলাচলের মাধ্যম কেশবপুর-পাঁজিয়া সড়ক তার ঘেরের পাড় হিসেবে ব্যবহার করায় সড়কটির সিংহ ভাগই ধসে পড়ে ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে।
আহম্মাদ আলী ঘের করতে ইতোমধ্যে কেশবপুর-রাজনগর-বাকাবর্শি ও বেলকাটি সংযোগ সড়কের পানি নিষ্কাশনের কালভার্ট মাটি দিয়ে ভরাট করে ফেলেছেন। এতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে তিনটি গ্রামের প্রায় ৫০টি পরিবার জলাবদ্ধ হয়ে পড়ার শংকা তৈরি হয়েছে। সেই সাথে সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা করছেন কৃষকরা।
এদিকে, উপজেলা প্রশাসন সড়কসহ সরকারি সম্পদ রক্ষায় অপরিকল্পিতভাবে ঘের না করার জন্য ঘের মালিকদের সাথে বৈঠকসহ ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। এরপরও ঘের মালিকরা প্রশাসনের এ পদক্ষেপের প্রতি তোয়াক্কা না করে অপরিকল্পিতভাবে গভীর নলকূপ দিয়ে তাদের মৎস্য ঘেরে ভূগর্ভস্থ থেকে পানি তুলছেন এবং অধিকাংশ সরকারি সড়ক ঘেরের পাড় হিসেবে ব্যবহার করছেন।
এলাকাবাসী সরকারি কালভার্টটি খুলে দেওয়াসহ এলাকার সরকারি সড়কগুলি রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদিব বিশ্বাস বলেন, অপরিকল্পিতভাবে মৎস্য ঘের করলে ওইসব ঘের মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী রেকসোনা খাতুন বলেন, সড়কসহ সরকারি সম্পদ রক্ষায় ইতোমধ্যে ঘের মালিকদের ডেকে পরিকল্পিতভাবে মৎস্য ঘের করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলাব্যাপী পরিকল্পিতভাবে ঘের করার জন্য প্রচার যন্ত্রের মাধ্যমে ঘের মালিকদেরকে সতর্ক করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন