
মাসুদ পারভেজ, কালিগঞ্জ: কালিগঞ্জে মন্দিরের জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস মার্কেট নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেন।
থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষ্ণনগর গ্রামের মৃত এছাম উদ্দীন তরফদারের ছেলে সামছুর রহমান তরফদার (৫৫) কালিগঞ্জ থানা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তফসিলভুক্ত সম্পত্তিতে সার্বজনীন দামুদর মন্দিরের অনুকূলে ২০০০ সালের ২৯ আগস্ট ৫৫৩ নম্বর খতিয়ানে এসএ ১২৯৬ ও ১২৯৭ দাগে দানপত্রভুক্ত ৩ শতক জমি শ্যামল কুমার ঘোষ দান করেন। একইভাবে শ্যামল কুমারের নিকট থেকে তিনি ১৯৯৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর ৫৩৩৫ নম্বর রেজিস্ট্রি কোবলামূলে আরও ৬ শতক জমি ক্রয় করেন।
সামছুর রহমান দাবি করেন, বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমি হলেও স্থানীয় রওশন আলী কাগুচি (৫০), হাফিজুল গাজী (৩৫) ও আলী আকবর (৩৬) দীর্ঘদিন ধরে দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এ ঘটনায় তিনি কালিগঞ্জ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা (নং-৪০৯/২৪) দায়ের করলে আদালত বিবাদীদের সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন।
তবে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে গত ৫, ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর রওশন গং উক্ত জমিতে জোরপূর্বক মাটি কেটে পাকা ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এবং সেখানে ইট, বালু ও খোয়া মজুদ করে। মন্দির কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগীরা বাঁধা দিলে তারা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও শারীরিকভাবে আক্রমণের চেষ্টা চালায়। ঘটনাস্থলে রওশান কাগুজীর ভাই ইদ্রিস আলী কাগুজী, আব্দুস সাত্তার, রেজাউল ইসলামসহ স্থানীয় অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগী সামছুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সবসময় আইন মেনে চলেছি বলেই আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আদালত যখন স্থগিতাদেশ দিয়েছেন, তখনও যদি বিবাদীরা জমি দখলের চেষ্টা চালায়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? আমি প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার ও সুরক্ষার দাবি জানাই।
অন্যদিকে মার্কেট নির্মাণকারী পক্ষ কৃষ্ণনগরের মৃত মনসুর আলী গাজীর ছেলে হাফিজুর ইসলাম দাবি করেন, আমরা মন্দিরের জায়গা দখল করিনি। ২০২২ সালের ২৩ নভেম্বর মৃত পাঁচকড়ি ঘোষের ছেলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি অমল ঘোষের নিকট থেকে ৬৭৯৫ নম্বর সাফ কবলামূলে আমিসহ ১৭ জন জমি ক্রয় করেছি এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে আছি। এটি সম্পূর্ণ অপপ্রচার।
এ বিষয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস মন্দিরের জমিতে চলমান মার্কেট নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেন। বর্তমানে ঘটনাস্থল এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
মন্তব্য করুন