
ডেস্ক রিপোর্ট: ভোট গ্রহণের সূচনা ভালো হলেও সমাপ্তি ভালো হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ৩২টি আসনে পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে একথা জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ডা. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ।
এর আগে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের সদস্যদের বৈঠকটি শুরু হয়। এটি চলে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদসহ কমিশনের অন্যান্য কর্মকর্তারা বৈঠকে ছিলেন। এতে ১১ দল থেকে অংশ নেন ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির মিডিয়া সমন্বয়ক এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াত নেতা ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা।
ডা. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, অতীতের তুলনায় ভোটগ্রহণ তুলনামূলক সুষ্ঠু হলেও ভোট গণনা পুরোপুরি সুষ্ঠু হয়নি।
এ অভিযোগ তুলে ৩২টি সংসদীয় আসনে পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানানো হয়েছে। ইসি থেকে প্রতিকার না পেলে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার কথাও জানান তিনি। নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনা এবার প্রত্যাশিত ছিল না বলেও উল্লেখ করেন।
তার অভিযোগ, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো বিভিন্ন উপাদান সক্রিয় ছিল।
অবৈধ অস্ত্র, কালো টাকা, হুমকি-ধমকি ও জাল ভোটের মতো ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪০০ পিস্তল এখনও উদ্ধার হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। এসব অস্ত্র নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে বলে মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে বলে তাদের পর্যবেক্ষণ। কিছু কেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিজেরাই সিল মারার অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি বারবার কমিশনকে জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট তড়িঘড়ি প্রকাশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দ্রুত গেজেট প্রকাশের কারণে অনেক প্রার্থী যথাসময়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাতে পারেননি বলে জানান।
ভোটের হার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার ভাষ্য, নির্বাচন শেষ হয়েছে বিকেল সাড়ে ৪টায়। কিন্তু কিছু কেন্দ্রে ভোট শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই এক ধরনের ভোটের হার দেখা গেছে। আবার ভোট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই কেন্দ্রগুলোতে অস্বাভাবিক হারে ভোট পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
ফলাফল শিটে ঘষামাজার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ঢাকা-৬ আসনে তাদের প্রার্থীর একজন এজেন্ট মুসলিম হলেও ফলাফল শিটে একজন হিন্দুর নাম পাওয়া গেছে। এছাড়া কিছু স্থানে পেন্সিল দিয়ে ফলাফল লেখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, হাতিয়ায় ২০০৪ সালে ঘটে যাওয়া ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা গেছে। এসব জুলুম-নির্যাতন ও সহিংসতা বন্ধ না হলে তারা রাজপথে নামবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন। সারা দেশে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ও হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল বিকেল সাড়ে ৪টায় বায়তুল মোকাররমের সামনে থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে ১১ দলীয় ঐক্য।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশ ও জাতির স্বার্থে তারা সংসদে ভূমিকা রাখবেন।
এর আগে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির মিডিয়া সমন্বয়ক এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বৈঠকের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন জোটের নেতারা।
মন্তব্য করুন