বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ | সময়:
The Editors
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পে নেই সাতক্ষীরার কোনো উপজেলা, গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান

শেখ তানজির আহমেদ: দেশের ১৪টি উপজেলার একটি করে ওয়ার্ডে চালু হতে যাচ্ছে সরকার ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড-এর পাইলট প্রকল্প। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে নানা গুজব।

ইতোমধ্যে সাতক্ষীরার আশাশুনি ও কলারোয়ায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার নামে ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সংগ্রহ এবং মানুষকে হয়রানির ঘটনাও ঘটেছে।

আর ফ্যামিলি কার্ড-এর পাইলট প্রকল্পে শ্যামনগর উপজেলা রয়েছে- এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় রাজনৈতিক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

যদিও সরকার প্রদত্ত তালিকায় পাইলট প্রকল্পে সাতক্ষীরার জেলার কোনো উপজেলাই স্থান পায়নি বলে জানা গেছে।

তাই গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক ঘোষণায় ইউএনও জানান, ভবিষ্যতে প্রকল্পটি দেশের সব উপজেলায় সম্প্রসারণ করা হলে শ্যামনগরেও এ বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। কিন্তু বর্তমানে শ্যামনগরে ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত কোনো কার্যক্রম বা তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়নি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ নিয়ে কেউ যেন গুজবে কান না দেন এবং সরকারি ঘোষণা ছাড়া কাউকে ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ প্রদান না করেন। কোনো প্রকার নিবন্ধন, ফরম পূরণ বা আর্থিক লেনদেন থেকেও বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

ঘোষণায় সতর্ক করে বলা হয়, ফ্যামিলি কার্ডের নামে কারও বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন বা প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলারোয়া ও আশাশুনিতে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে সক্রিয় প্রতারক চক্র
সাতক্ষীরার কলারোয়া ও আশাশুনিতে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রতারক চক্র। চক্রটির সদস্যরা ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার নামে স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ শুরু করেছে।

সম্প্রতি কলারোয়া উপজেলার কেরালকাতা উত্তরপাড়া গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে মিলন হোসেনের বিরুদ্ধে প্রতারণামূলকভাবে স্থানীয়দের কাছ থেকে ছবিসহ জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সংগ্রহের অভিযোগ ওঠে।

ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় বিএনপি নেতারা অভিযুক্ত মিলনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে ৫২টি ছবিসহ জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি বের করে দেয়।

স্থানীয় নারীরা অভিযোগ করেন, তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের টাকা নিয়ে ফ্যামিলি কার্ড করে দেবে বলে সম্প্রতি ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে মিলন।

একইভাবে আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউপি সদস্য রকিবুজ্জামানের বিরুদ্ধে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার নামে স্থানীয়দের কাছ থেকে ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহের অভিযোগ ওঠে।

এ ব্যাপারে জামালনগর গ্রামের ছকিনা, মনিরুল, আকলিমাসহ অসংখ্য ভুক্তভোগী জানান, ইউপি সদস্য রকিবুজ্জামান আমাদের বলেছেন সবাই এনআইডি কার্ডের ফটোকপি, ২ কপি ছবি এবং নিজ নামে নতুন সিম কিনে বিকাশ খুলে তার কাছে দিতে। তিনি সবাইকে ফ্যামিলি কার্ড করে দিতে চেয়েছেন।

গুজবের সূত্রপাত যেভাবে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠনের সাথে সাথে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের নাম উল্লেখসহ দশটি উপজেলার একটি তালিকা করে- প্রথম ধাপে ফ্যামিলি কার্ড পাবে- এমন শিরোনামে ফটোকার্ড করে ফেসবুকে ছেড়ে দেন অপপ্রচারকারীরা। পরে তা বিশ্বাস করে শেয়ার করে দেন শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির বেশকিছু নেতা-কর্মী। তারা সংসদ নির্বাচনে পরাজিত বিএনপি দলীয় প্রার্থী ড. মনিরুজ্জামানের প্রচেষ্টায় শ্যামনগরবাসী সবার আগে ফ্যামিলি কার্ড পাবে- মর্মে প্রচার করতে থাকেন। যদিও তখন ফ্যামিলি কার্ড প্রবর্তনের প্রাথমিক ধাপও গুছিয়ে উঠতে পারেনি সরকার। সেই থেকে গুজবে বিভ্রান্ত হতে থাকেন গোটা সাতক্ষীরা জেলার মানুষ।

নিশ্চিত না হয়ে ব্যক্তিগত তথ্য উপাত্ত না দেওয়ার অনুরোধ
এ ব্যাপারে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের কোন সরকারি নির্দেশনা আমাদের কাছে এখনো পর্যন্ত আসেনি। এমন গুজব বা অপপ্রচারে কান না দিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজখবর নিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য উপাত্ত দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

একই সাথে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এমন গুজব ছড়াতে পারে, সেক্ষেত্রে যে পেজে বা প্রোফাইলে এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে, সেই পেজটি অথেনটিক কি না বোঝার চেষ্টা করতে হবে।

সর্বোপরি খোঁজখবর না নিয়ে কাউকে ব্যক্তিগত তথ্য উপাত্ত দেওয়া ঠিক হবে না।

পাইলট প্রকল্পের আওতায় যেসব এলাকায় দেওয়া হবে ফ্যামিলি কার্ড
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের জন্য পাইলট প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত এলাকা হলো: ঢাকার কড়াইল বস্তি এলাকা, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার ৪ বা ৫ নম্বর ওয়ার্ড, চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ৪ নম্বর ওয়ার্ড, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১ বা ২ নম্বর ওয়ার্ড, বান্দরবানের লামা উপজেলার ২ বা ৩ নম্বর ওয়ার্ড, খুলনার খালিশপুর উপজেলার ১০ নম্বর ওয়ার্ড, ভোলার চর ফ্যাশন উপজেলার ১ বা ৪ নম্বর ওয়ার্ড, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ৫ বা ৬ নম্বর ওয়ার্ড, কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার ২ বা ৮ নম্বর ওয়ার্ড, নাটোরের লালপুর উপজেলার ১ নম্বর ওয়ার্ড, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ১ বা ২ নম্বর ওয়ার্ড এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর ওয়ার্ড।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নলতা ডায়াবেটিক হাসপাতাল কল্যাণ সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

খেশরার কলাগাছি গ্রামে সড়ক নির্মাণ কাজ উদ্বোধন

সাতক্ষীরা জেলা এনসিপির কমিটি প্রত্যাখ্যান, গণপদত্যাগের হুশিয়ারি

দেবহাটায় এসএসসিতে পাসের হার ৬১.০৮%, দাখিলে ৫২.২২% ও ভোকেশনালে ২৩.২৪%

সিলভার জুবিলি মডেল স্কুলের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় সাংবাদিক বেলাল হোসাইনকে অভিনন্দন

সাতক্ষীরায় বর্ষাকালীন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব

পরমাণু চুক্তি ছাড়াই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে প্রস্তুত ট্রাম্প

ম্যানেজিং কমিটির হাতেই ফিরছে শিক্ষক নিয়োগ, সরকারের সিদ্ধান্ত ‘চূড়ান্ত’

সাতক্ষীরায় অন্তঃকক্ষ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উদ্বোধন

ঋশিল্পীতে শিশুদের মাঝে পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণ

১০

কয়রার যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করেনি কেউ

১১

বিল থেকে ছেলের নিথর দেহ উদ্ধার করলেন বাবা

১২

আশাশুনিতে নিখোঁজের ২ দিন পর ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

১৩

পাস করেনি সাতক্ষীরার ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী

১৪

চাঁদাবাজির মামলায় হাজী নজরুল ও তার সহযোগী কারাগারে

১৫

‘র’ প্রধান পরাগ জৈন এখন ঢাকায়

১৬

তারেক রহমানের সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক

১৭

সাতক্ষীরা জেলা আ’লীগের সম্পাদক নজরুল ইসলামকে ৫ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

১৮

সাতক্ষীরায় নগর পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের তাগিদ

১৯

এসএসসিতে পাসের হার ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

২০
error: Content is protected !!