
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হওয়া মিড-ডে মিল কর্মসূচিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এতে এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার শংকা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ থেকে উপজেলার ১৫৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে সপ্তাহে পাঁচ দিন দুপুরে মিড-ডে মিল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। এ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য দুধ, ডিম, রুটি, বিস্কুট ও দেশীয় ফল (পাকা কলা) সরবরাহের কথা রয়েছে। সাপ্তাহিক রুটিন অনুযায়ী রবিবার রুটি ও ডিম, সোমবার রুটি ও দুধ, মঙ্গলবার বিস্কুট ও কলা এবং বুধবার ও বৃহস্পতিবার রুটি ও ডিম বিতরণের কথা।
সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণে নানা অনিয়মের চিত্র উঠে আসে।
উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের শিকারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে না। পাকা সাগর কলার পরিবর্তে নিম্নমানের কলা দেওয়া হচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে খাওয়ার অনুপযোগী। সিদ্ধ ডিম দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে কাঁচা সাদা ডিম, যা শিশুদের মধ্যে অনীহা সৃষ্টি করছে। তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন বিদ্যালয় চলাকালে টাটকা খাবার বিতরণের নিয়ম থাকলেও অনেক সময় বিদ্যালয় ছুটির পরে খাদ্য আনা হয়। ফলে তা পরের দিন বিতরণ করতে হয়, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
কেশবপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ইসমতারা খাতুন জানান, আমাদের বিদ্যালয়ে ৫৯২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। দুই শিফটে ক্লাস পরিচালিত হলেও সব শিক্ষার্থীকে নিয়মিত খাবার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে ভান্ডারখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেছে, অর্ধেক শিক্ষার্থীর জন্য খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই বরাদ্দ অনুযায়ী খাদ্য পৌঁছাচ্ছে না।
কেশবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি শাহিনুর রহমান বলেন, প্রায় ৮০ শতাংশ খাদ্য ঠিকমতো সরবরাহ করা হচ্ছে না। তিনি ইউনিয়নভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খাদ্য বিতরণ তদারকির জন্য ট্যাগ অফিসার নিয়োগের দাবি জানান।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন সংশি¬ষ্টরা।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, কর্মসূচি নতুন শুরু হয়েছে। এখনও পূর্ণাঙ্গ তদারকি করা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযোগগুলো গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেখসোনা খাতুন বলেন, উদ্বোধনের সময়ই বিতরণে স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ অস্বীকার করে খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সুশীলনের স্থানীয় প্রতিনিধি রাজু আহম্মেদ বলেন, জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে পরিবহন ব্যবস্থায় কিছু সমস্যা হচ্ছে, যার ফলে খাদ্য সরবরাহে বিঘœ ঘটছে। তবে দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র দাবি করেছে, কিছু কিছু বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর প্রকৃত সংখ্যার তুলনায় বেশি দেখিয়ে খাদ্য উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে, যা তদন্তের দাবি রাখে।
মন্তব্য করুন