
এম জুবায়ের মাহমুদ: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বিড়ালাক্ষী গ্রাম, সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গেই বদলে যায় এলাকার চিত্র। সন্ধ্যা গড়াতেই শুরু হয় মাদক বেচাকেনা, বাড়তে থাকে অচেনা মানুষের আনাগোনা। পুরো এলাকাজুড়ে এই মাদকের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন স্থানীয় আব্দুল বারী মোল্লার ছেলে সুজন মোল্লা।দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় মাদক সরবরাহের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।
স্থানীয়রা জানান, পশ্চিম বিড়ালাক্ষী গ্রামের কাওসারের আলীর মেয়ে কুলসুমের দোকানে সুজনের সহযোগী হিসেবে কাজ করা আরিফুল মাদক রেখে যায়। সেবনকারীরা সেখান থেকে নিয়ে দিব্যি চলে যায়।
গত ১৮ এপ্রিল রাতে পুলিশের অভিযানে বিড়ালাক্ষী মোল্লাপাড়া থেকে শাহানুর মোল্লা ও তাঁর ছেলে ফারুকুল ইসলাম বুলবুল গ্রেপ্তার হওয়ার পর এলাকায় ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে। সেই শূন্যতা দ্রুত দখলে নিয়ে সুজনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নিজ বাড়ির পাশাপাশি বিড়ালাক্ষী-গোদাড়া মাঝামাঝি একটি ঘেরের বাসা ব্যবহার করে মাদক মজুদ ও সরবরাহ করা হচ্ছে। সেখান থেকে নিয়মিত গাঁজা ও ইয়াবার চালান বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়।
এই নেটওয়ার্কে সরাসরি যুক্ত রয়েছে একই এলাকার তৈবুর রহমান, সৌরভ হোসেন, ইয়াসিনসহ ৭-৮ জন। আটুলিয়া, পদ্মপুকুর, কাশীমাড়ি ছাড়িয়ে আশাশুনির প্রতাপনগর ও শ্রীউলা, এমনকি কয়রার বেবকাশী এলাকাতেও বিস্তৃতি ঘটেছে এই চক্রের। একটি সংগঠিত সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে মাদক পৌঁছে যাচ্ছে খুচরা ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের হাতে।
বাহক হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল। নির্দিষ্ট যোগাযোগের মাধ্যমে অর্ডার গ্রহণ করা হয় এবং দ্রুততম সময়ে তা সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে পুরো প্রক্রিয়াটি অনেকটা অন ডিমান্ড ডেলিভারি সিস্টেমে রূপ নিয়েছে।
নিজেদের অবস্থান সুরক্ষিত রাখতে স্থানীয় কিশোর ও যুবকদের সম্পৃক্ত করে এই গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে, যাদের একটি অংশ সরাসরি মাদক নির্ভরতার মধ্যে ঢুকে পড়েছে। ফলে এলাকায় ভীতি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আসলাম হোসেন বলেন, পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষ করে নারী ও শিক্ষার্থীদের চলাচলে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। কোচিং করতে যেতে ভায় পায় মেয়েরা।
এলাকাটিতে মাদক সিন্ডিকেটের এই বিস্তার শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্য নয়, সামাজিক কাঠামোর জন্যও বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় শিক্ষার্থী তাহমিদ হোসেন।
তবে এসব কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সুজন মোল্লা। তাঁর ভাষ্য, তিনি এই ব্যবসা থেকে সরে এসেছেন।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেকুজ্জামান বলেন, মাদক প্রতিরোধে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হবে।
মন্তব্য করুন