
হাবিবুর রহমান সোহাগ: সাতক্ষীরায় মৎস্য ঘের থেকে সুমন (৩৫) নামে এক মাইক্রোবাসের চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২০ জুলাই) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাগুরা-কৈখালী বিলের একটি ঘের থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সুমন কৈখালী গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে।
স্থানীয় লাবসা ইউনিয়ন জামায়াতের নেতা হাফেজ মাওলানা মনোয়ার হোসাইন মোমিন জানান, সুমন দীর্ঘদিন (৪ বছর) তার ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি চালাতেন। অসুস্থতার কারণে সুমন চার দিন আগে ছুটি নিয়ে নিজ বাড়িতেই ছিলেন। আজ (সোমবার) সকালে তিনি ফোনে জানতে পারেন তার ড্রাইভারকে হত্যা করে ঘেরে ফেলে রাখা হয়েছে।
পরিবারের বরাতে সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, মাগুরা দায়পাড়া গ্রামের কেসমত আলী সোমবার সকাল ৬টার দিকে তার মৎস্য ঘেরের টোঙের লাইট বন্ধ করতে গিয়ে এক যুবকের বিবস্ত্র মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রামবাসীকে খবর দেন। গ্রামবাসী এসে দেখতে পান মরদেহটি কৈখালী গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে সুমনের।
এসময় ওই ঘের থেকে লোহা কাটা দুইটি ব্লেড, (সিমবিহীন) একটি বাটন মোবাইল, সিগারেটের প্যাকেট এবং পল্লী বিদ্যুতের ৩৩হাজার ভোল্টের কাটা তার উদ্ধার করা হয়।
নিহত সুমনের বোন রেশমা খাতুন জানান, সোমবার রাতের খাওয়া শেষ হলে একটি ফোনকল পেয়ে চলে যায় তার ভাই। তারা মনে করেন সুমন বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ দেখতে গিয়েছে। পরে ভোরে ভাইয়ের ঘরের দরজা খোলা দেখে ভিতরে গিয়ে দেখেন তার ভাই নেই। ফোনে কল দিলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। কিছুক্ষণ পর প্রতিবেশীরা জানায় ঘেরে একজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। এরপর জানতে পারেন মরদেহটি তার ভাইয়ের। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান নিহতের পরণের পোষাক (লুঙ্গি, গামছা) পাশে পড়ে আছে। ব্যবহৃত ফোনটিও পাশে। তবে ফোনের মধ্যে সিমটি ছিল না।
সুমনের পিতা আব্দুল হামিদের ধারণা সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা সুমনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ফেলে রেখে যেতে পারে।
ওসি মাসুদুর জানান, লাশ উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর হয়েছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন