
ডেস্ক রিপোর্ট: ভারতের বিতর্কিত এনইইটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। সাম্প্রতিক সময়ে আন্দোলনটির প্রতি সমর্থন জানানো একাধিক তারকার তালিকায় এবার যুক্ত হলো তার নামও।
বুধবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী এই তারকা বলেন, আন্দোলনটি শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হয়েছিল এবং এটি সহিংসতায় রূপ নেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
সালমান লিখেছেন, “প্রশ্নপত্র ফাঁস অত্যন্ত গুরুতর একটি বিষয়। দেশের তরুণরা যখন একটি উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার দাবিতে একত্রিত হচ্ছে, তখন তা আশাব্যঞ্জক। তাদের পাশে অভিভাবকরাও রয়েছেন।”
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ তাদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও ভবিষ্যৎ গঠনের দৃঢ় সংকল্পের প্রতিফলন।
ভারতের অন্যতম বড় এই তারকা বলেন, “একটি শক্তিশালী ও শিক্ষিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে কঠোর পরিশ্রম করার যে মানসিকতা তারা দেখিয়েছে, তা প্রশংসার দাবিদার। নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশের জন্য তারা যে পথ বেছে নিয়েছে, সেটি গঠনমূলক এবং শান্তিপূর্ণ।”
তবে একই সঙ্গে আন্দোলনটি রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বানও জানান সালমান খান। তিনি বলেন, “এটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষা ব্যবস্থার বিষয়। এটিকে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করা উচিত নয়। নিজেদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার জন্য কৃতিত্ব সম্পূর্ণভাবে শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য।”
অভিনেতা আশা প্রকাশ করেন, সরকার শিক্ষার্থীদের দাবিকে গুরুত্ব দেবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তিনি এটিকে “উভয় পক্ষের জন্য ইতিবাচক পরিস্থিতি” হিসেবে উল্লেখ করেন।
সালমান আরও বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে তা তরুণদের কাছে আরও আকর্ষণীয় ও অনুপ্রেরণামূলক হয়ে ওঠে। এর মাধ্যমে ভারত বৈশ্বিক শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এনইইটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের প্রতি এর আগে সমর্থন জানিয়েছেন নাসিরুদ্দিন শাহ, রত্না পাঠক শাহ, শাবানা আজমি, প্রকাশ রাজ, রাজকুমার রাও, রেভতি, টোভিনো থমাস ও অনুরাগ কাশ্যপসহ চলচ্চিত্র জগতের আরও বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ।
তিন খান—শাহরুখ খান, আমির খান ও সালমান খানের মধ্যে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা প্রথম ব্যক্তি সালমান খান।
তার এই মন্তব্য এসেছে রাজধানী নয়াদিল্লিতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের দুই দিন পর। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
মন্তব্য করুন