
বিলাল হোসেন: আতঙ্ক কাটছে না সুন্দরবননির্ভর জেলেদের। বনদস্যুদের একটি গ্রুপের আত্মসমর্পণের খবরের মধ্যেই সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে বনদস্যু কাজল মুন্না বাহিনীর হাতে এক জেলে অপহৃত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনার প্রায় ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও জিম্মি হওয়া ওই জেলের মুক্তি না মেলায় চরম উৎকণ্ঠার মধ্যদিয়ে দিন কাটছে তার পরিবারের।
বনদস্যুর কাছে জিম্মি থাকা জেলের নাম আবদুলাল। তিনি শ্যামনগর উপজেলা বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দাতিনাখালী গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় জেলে সাইফুল ইসলাম জানান, গত ৬ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন থেকে পাস নিয়ে খলিল হোসেন, জামাল হোসেন ও আবদুলাল মাছ ধরতে সুন্দরবনে যায়। এক পর্যায়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জের ফিরিঙ্গি মারির পোনা মারার খাল থেকে বনদস্যু কাজল মুন্না বাহিনীর সদস্যরা আবদুলালকে জিম্মি করে এবং সাথে থাকা খলিল হোসেন ও জামাল হোসেনকে ছেড়ে দেয়।
পরে আবদুলালের পরিবারের কাছে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। জিম্মি থাকা ওই জেলের স্ত্রী স্থানীয় মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ করে ২০ হাজার টাকা পাঠালেও সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত তাকে ছাড়বে না বলে জানায় বনদস্যুরা।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
জিম্মি থাকা জেলের স্ত্রী জানান, আমার স্বামী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাড়িতে ফিরে না আসায় উদ্বেগের মধ্যদিয়ে দিন পার করছি। আমি দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে নদীর চরে বাস করি। সংসারের একমাত্র আয় করা লোক হলো আমার স্বামী। ১০ দিন বনদস্যুরা তাকে জিম্মি করে রেখেছে। দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি। বনদস্যুরা ৩০ হাজার টাকা না দেয়া পর্যন্ত আমার স্বামীকে ছাড়বে না। কোনরকমে সুদে টাকা নিয়ে ২০ হাজার টাকা পাঠিয়েছি। কিন্তু তারা জানিয়েছে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাকে ছাড়বে না।
স্থানীয় জেলে আবু সাঈদ ও হেলাল উদ্দিন বলেন, সুন্দরবনে বনদস্যুদের কয়েকটি বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং জেলেরা নির্বিঘ্নে জীবিকার সন্ধানে বনে যেতে পারবেন এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু নতুন করে অপহরণ ও মুক্তিপণের ঘটনা ফের আতঙ্ক তৈরি করছে।
বনবিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা এরফান উদ্দীন বলেন, সুন্দরবনে বনদস্যুদের কাছে জেলে জিম্মি থাকার বিষয়টি আমাদেরকে এখনো কেউ জানায়নি। অভিযোগ পাইলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্তব্য করুন