
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গ্যাসবাহী ট্যাংকার ঢুকে পড়লো সড়কের পাশের একটি বসতবাড়িতে। এতে বাড়ির বাথরুমসহ ভবনের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙে গেছে একটি প্রাইভেটকারের গ্লাস। তবে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছে ঘুমন্ত পরিবারের সদস্যরা। দুর্ঘটনায় ট্যাংকারের চালক ও হেলপার আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভোর ৪টার পর যশোর-চুকনগর সড়কের কেশবপুর উপজেলার আলতাপোল চারের মাথা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাকবলিত গ্যাসবাহী ট্যাংকারটির নম্বর চট্টগ্রাম মেট্রো-ঢং-৬১-০৩৯৮।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্যাসবাহী ট্যাংকারটি ঢাকা থেকে ছেড়ে খুলনার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। ভোরে আলতাপোল চারের মাথা এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় ট্যাংকারটি সড়কের পাশের স্বাস্থ্যকর্মী হাবিবুর রহমানের বাড়িতে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাড়ির বাথরুমের বিল্ডিং ভেঙে ট্যাংকারটি ভেতরে ঢুকে পড়ে। পরে বাড়ির অপর একটি অংশেও আঘাত লাগে।
বাড়ির মালিক হাবিবুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা সবাই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে গেলে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বাইরে এসে তাঁরা দেখতে পান, একটি গ্যাসবাহী ট্যাংকার তাঁদের বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়েছে। এতে বাথরুমসহ বাড়ির বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এত বড় দুর্ঘটনার পরও পরিবারের কারও কোনো ক্ষতি না হওয়ায় তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন।
প্রাইভেটকারের মালিক কওসার জানান, ট্যাংকারের ধাক্কায় তাঁর বাড়ির একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সেখানে থাকা প্রাইভেটকারের গ্লাস ভেঙে গেছে। গভীর রাতে হঠাৎ এমন দুর্ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রায়ান টেইলার্সের মালিক কবির হোসেন জানান, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি বাড়িটির ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখতে পান।
তাঁর ভাষ্য, ট্যাংকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ায় বাথরুমের দেয়াল ও ভবনের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। ট্যাংকারটি গ্যাসবাহী হওয়ায় বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও ভয়াবহ হতে পারত। তাঁর মতে, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভারী ও গ্যাসবাহী যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে চালকদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
দুর্ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানি না ঘটলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বসতবাড়ি ও ব্যক্তিগত সম্পদ। স্থানীয়দের মতে, কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানে এ দুর্ঘটনা ভয়াবহ প্রাণহানিতে রূপ নিতে পারত।
মন্তব্য করুন